কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করার সব আয়োজন শেষ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেkamaruzzamanদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছেন; সেই রায়ের অনুলিপি পৌঁছেছে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে। বুধবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে পাঠানো ওই রায়ের অনুলিপি ৫ টা ৫১ মিনিটে গ্রহণ করেন সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী। এর আগে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের সই করা রায়ের অনুলিপি বেলা ৩ টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়। পৌঁছানোর পর পরই ওই রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। রাষ্ট্র এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও রায়ের অনুলিপি পাবেন। আপিল বিভাগের এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিচারের সবশেষ ধাপ পার হয়েছে। এখন শুধু তাঁর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ আছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথম ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয় কাদের মোল্লার। ওই দিন রাত ১০টা ১ মিনিটে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়। একাত্তরে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে ১৪৪ জনকে হত্যা ও নারী নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে আসামিপক্ষ। গত বছরের ৩ নভেম্বর সোহাগপুর হত্যাকাণ্ডের দায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে ৫ মার্চ তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কামারুজ্জামান। এরপর দুই দফা শুনানি পেছানোর পর গত রোববার আপিল বিভাগে ওই আবেদনের শুনানি হয়। পরে রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। রায় ঘোষণার পর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সমাপ্তি ঘটল। এখন রায় কার্যকরের বিষয়টি পুরোপুরি সরকারের হাতে, কারাবিধি এখানে প্রযোজ্য হবে না। কামারুজ্জামানের হাতে এখন শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ আছে। এ ছাড়া সাজা কার্যকরের আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন। এ দুটি বিষয় সম্পন্ন হলেই কামারুজ্জামানের সাজা কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকবে না। প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে মাহবুবে আলম বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর (কামারুজ্জামান) কাছে জানতে চাইবে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না। যদি না চান, তবে সাজা কার্যকর করা যাবে। আবেদন করলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা কার্যকর করা যাবে না। তবে এ বিষয়ে সময়সীমা নির্দিষ্ট নেই। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*