কাজের বুয়া হয়ে বাসায় ঢুকেন, বের হন চোর হয়ে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রামের অভিজাত ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিংবেল টিপে তারা জানতে চান কাজের বুয়া লাগবে কিনা। কাজের বুয়া হিসেবে নিয়োগ পেলে নিখুঁতভাবে গৃহস্থাbuaলী কাজকর্ম শুরু করে দেন। এভাবে দু’তিনদিনের মধ্যেই নিজেকে বাসার লোকজনের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেন। এর মধ্যেই সুযোগ পেলে স্বণের অলংকার চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যান। স্বাভাবিকভাবে চুরির সুযোগ না পেলে তারা ‘ধুতুরার বিষ’ কিংবা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাসার লোকজনকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দেন। তবে স্বর্ণালংকারের বাইরে তারা অন্য জিনিসে তেমন হাত দেন না। গত ১২ মে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজস্ট্রেট কুদরত-ই-এলাহীর বাসায় একই প্রক্রিয়ায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরপর নগরীর চকবাজার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চোর চক্রের চারজনকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে চুরির এমন বর্ণনা পেয়েছে পুলিশ। চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ বলেন, নগরীতে কাজের বুয়া সেজে চুরির সঙ্গে ভোলা গ্রুপ ও বরিশাল গ্রুপ নামে দু’টি চক্র জড়িত। আমরা যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি তারা ভোলা গ্রুপের সদস্য। আটক চারজন হল, মো. শহীদ (৩৬) ও তার স্ত্রী পারভিন আক্তার (৩২) এবং রেহেনা বেগম (৩২) ও মো. মফিজ (৪৮)। তাদের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ জানান, শহীদ মূলত চুরির পরিকল্পনা করে। দুই নারী ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। বিচারকের বাসায় চুরিও দুই নারী সম্মিলিতভাবে করেছে। আর মফিজও তাদের অন্যতম সহযোগী। তারা ৫-৬ বছর ধরে এ চুরির সঙ্গে জড়িত। নগরীতে ২০ থেকে ২২টি চুরির কথা তারা স্বীকার করেছে বলে জানান ওসি। চুরির টাকায় মফিজ বর্তমানে ভোলায় পাকা তিনতলা দালান তৈরি করেছে বলেও ওসি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*