কমান্ডো অভিযানে পুলিশসহ অন্তত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২ জুলাই: গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে কমান্ডো অভিযানে পুলিশসহ অন্তত ২৪ জনের মরদেহ ও ১২ জনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত kalerkanthoকরেছেন পুলিশ সূত্র। ৪৫ মিনিট ধরে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শনিবার সকালে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহত, উদ্ধারকৃত ও আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আর্টিজান নামে ওই রেস্টুরেন্টের ভেতরে এখনো বেশ কয়েকটা অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে সরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক জানান, অভিযানের শুরুতেই অভিযানে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যরা নারী ও শিশুসহ পাঁচজনকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। তবে সেখানে ঠিক কতজন আটকা পড়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে কতজন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন- তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। সকালে সামরিক বাহিনীর কমান্ডো দল উদ্ধার অভিযান শুরু করলে ঘণ্টাখানেক ব্যাপক গোলাগুলি চলে। প্যারা কমান্ডোদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান অংশ নেয় অভিযানে। আধাঘণ্টায় সহস্রাধিক রাউন্ড গুলির পাশাপাশি শ খানেক বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় দূর থেকেও। কূটনৈতিক পাড়ায় হলি আর্টিজান বেকারি নামের ওই ক্যাফে থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরের এক বাড়ির বাসিন্দা জানান, তিনি পাশের প্রায় খালি একটি ভবন থেকে টেলিস্কোপ লাগানো স্নাইপার রাইফেল দিয়ে গুলি ছুড়তে দেখতে পান। গুলি ছোড়া হয় সাঁজোয়া যান থেকেও।
পরে সেনা সাঁজোয়া যান হলি বেকারির দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকে। ওই কম্পাউন্ডের বাইরের দিকে থাকা পিজা কর্নার এ সময় গুঁড়িয়ে যায়। যে সড়কে ওই বেকারি, সেই ৭৯ নম্বর সড়কের মোড় থেকে এক প্রতিবেদক বলেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ফায়ার এক্সটিংগুইশার নিয়ে তিনি ওই ভবনের দিকে যেতে দেখেন। কিছু সময় পর একদল চিকিৎসকও স্ট্রেচার নিয়ে ওই ক্যাফের ভেতরে যান। অন্তত একজন বিদেশি নাগরিক সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেলেও পুলিশ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে একদল অস্ত্রধারী গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালালে অবস্থানরত অজ্ঞাত সংখ্যক অতিথি সেখানে আটকা পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে নিহত হন বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম। রাতে হামলার পরপরই ক্যাফে থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এমন একজন কর্মী বলেছিলেন, অন্তত ২০ জন সেখানে ছিলেন তখন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি। তবে গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বেশি। তাদের কার অবস্থা কেমন সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। সূত্র: কালেরকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*