কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের সবুজ বেষ্টনী বিলুপ্তির পথে

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার, ৭ ফেব্র“য়ারী: কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী তীর ঘেষে প্রায় দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত এলাকা। এ এলাকায় বিস্তৃর্ণ সবুজ বেষ্টনী (ঝাউবীথি)সংঘবদ্ধ কাঠচোর সন্ত্রাসীদের হাতে দিনদিন লুটপাটের পাশাপাশি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাছে। বিভিন্ন সময় সমুদ্রের প্রচন্ড জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে উপকূলের তীর ও জনপথ ভাঙনরোধে সৃজিত ঝাউ বাগান উজাড় করে চলছে সংঘবদ্ধ কাঠচোররা। উপকূলীয় বনবিভাগের তৎপরতা না থাকলেও কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ অনেক ক্ষেত্রে দেখেও না দেখার ভান করে। সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ ওই সব কাঠচোরদের সনাক্ত করার পরও কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিনদিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।Cox_Pic_Pic-07-02-2016
জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগ, জোয়ারের তোড়ে ভাঙন ও মানুষের অত্যাচার সহ নানা কারনে ধ্বংস হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিশাল উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে বনবিভাগের সহায়তায় গড়ে তোলা হয় সবুজ বেষ্টনী। এসব ঝাউবীথি বিলুপ্ত হওয়ার কারনে হুমকীর মুখে পড়েছে এতদাঞ্চলের প্রাণী সম্পদ ও জীব বৈচিত্র। অভিজ্ঞ পরিবেশবাদীদের অভিমত উপকূল অঞ্চলের সবুজ বেষ্টনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকায় পড়তে পারে উপকূলে বসবাসকারী ২৫হাজার পরিবার।
জানা গেছে, কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন উপকূলের গাছপালা মরে যাচ্ছে। সাগরের ভাঙনেও গাছপালা বিলীন হচ্ছে। এছাড়া এক শ্রেণীর অসাধু কাঠ চোররা সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করতে তৎপর রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বড়ছড়া এলাকার কয়েক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় চিহ্নিত ১০/১২জন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রাতের আধারে এসব ঝাউবীথি উজাড় করে চলেছে। এ প্রসংগে জানতে চাইলে হিমছড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, অবশ্যই কাট পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব এতে কোন সন্দেহ নেই।
হিমছড়ি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার একরামুল হক কন্ট্রাক্টর বলেন, সাগরের অতিরিক্ত লোনা পানি ও বালু এসে গাছের গোড়াই আটকা পড়ে। এতে নারিকেল গাছ সহ বিভিন্ন জাতের গাছ মারা যাচ্ছে। শুধু যে গাছ মারা যাচ্ছে তা নয়, একই সাথে উপকূল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। কমে যাচ্ছে নদী ও সাগরের মাছ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের উচিত নতুন প্রজাতির গাছ আবিষ্কার করা। যা পরিবেশের সাথে মোকাবেলা করে বেঁচে থাকতে পারে। পাশাপাশি গাছ নিধন ও ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো বন্ধ করতে হবে। উপকূলীয় বনাঞ্চল সহ গ্রাম বাংলার জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ করতে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। যা মানুষ অন্যান্য প্রাণীকূল সহ সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি কারন হবে।
প্রকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় উপকূলীয় অঞ্চলের সুশীল সমাজের নেতা আবু মোর্শেদ চৌধুরী।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বন কর্মকর্তা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে ঝাউবীথি উজাড় হলে আমাদের করার কিছু নেই। তবে কাঠ পাচারকারীদের কারনে যদি কোন ক্ষতি হয় তাহলে অবশ্যই ওইসব কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা রুজু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*