কক্সবাজার জেলা ব্যাপী সাংগ্রাইর স্বচ্ছ জলে সিক্ত হলো আধিবাসীরা

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার ; মহা উৎসাহ-উদ্দীপনা ও Rahkain_Jolkheli_19-4-2015বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে গেয়ে এক প্যান্ডেল থেকে অন্য প্যান্ডেলের স্বচ্ছ জলধারায় সিক্ত হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের পর্যটন নগর কক্সবাজারের আদিবাসি রাখাইন সম্প্রদায়ের তরুন তরুনীরা। তাদের একে অপরের প্রতি প্রীতিময় স্বচ্ছ জলধারা নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ১৯ এপ্রিল রোববার শেষ হয়েছে তিনদিন ব্যাপী জলখেলি উৎসব। উৎসবের ১ম দিন ১৭ এপ্রিল শুক্রবার জেলার বিভিন্ন রাখাইন পল্লীগুলোতে ছিল রাখাইন তরুন-তরুনীদের প্রাণের মেলা। নেচে-গেয়ে আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে রাখাইন সম্প্রদায়ের নর-নারীরা বরণ করে নেয় রাখাইন নববর্ষকে। আর বিদায় জানায় পুরনো আরো একটি বছরকে। জলখেলি উৎসবে তারা একে অপরের প্রতি জল নিক্ষেপের মাধ্যমে মনের সকল হিংসা-বিদ্বেষ দুর করে সম্প্রীতির বাঁধনে জড়িয়ে নেয় সকলকে। এ উৎসব শুধু রাখাইন সম্প্রদায় নয়, এতে অংশ নিয়ে আনন্দে ভেসিয়েছিল হিন্দু-মুসলিম ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের নর-নারীরাও। এমনিক এ উৎসব দেখতে রাখাইন পল্লীগুলোতে ভিড় করছেন দেশী-বিদেশী পর্যটকরাও। প্রতিবছরের মত এবারও কক্সবাজার জেলা ব্যাপী তথা শহর, সদরের চৌফলদন্ডী, রামু, চকরিয়ার হারবাং, পেকুয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেকনাফে বেশ ঝাঁকঝমকপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরিধান করে রাখাইন তরুন-তরুণীরা সারিবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত প্যান্ডেলে জলখেলির মাধ্যমে বর্ষবরণ উৎসবে মেতেছিলেন। এ যেন স্বচ্ছ পানির পবিত্র স্নানে সিক্ত হয়ে নতুন বছর কে আবাহন করা। এ উৎসবে জলখেলীর পাশাপাশি চলে তাদের নিজস্ব তৈরি একটি বিশেষ পানীয় ও নানা রকমের খাবারের আয়োজন। এভাবেই ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত শুক্রবার থেকে তিনদিন ব্যাপী উৎসবের শুরু হয়ে রবিবার শেষ হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের সর্ব বৃহৎ সামাজিক অনুষ্ঠান সাংগ্রেং পোওয়ে’ বা বর্ষ বরণ উৎসব। রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, মগ পঞ্জিকানুসারে গত শুক্রবার ১৭ এপ্রিল শুরু হয় ১৩৭৭ মগীসন বা বর্ষ বরণ। এর আগের দিন ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে ১৩৭৬ মগীসন। নতুন বছরকে স্বাগত ও পুরানো বছরকে বিদায়ের মাধ্যমে গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার থেকে ৩ দিনব্যাপী শুরু হয় রাখাইন সম্প্রদায়ের সামাজিক উৎসব ‘মাহা সাংগ্রেং পোওয়ে’ বা বর্ষ বরণের জলখেলী উৎসব। সাধারণত এই উৎসব সবার কাছে জলকেলি বা পানি খেলা নামে পরিচিত। রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী নিয়মানুসারে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে পুরোনো বছরের সকল পাপ ধুয়ে মুছে ফেলা হয় এবং নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে এক ধরণের পবিত্র পানি পরস্পরকে ছিটানো হয়। গেল ৩ দিন কক্সবাজার জেলা ব্যাপী প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে উৎসব মূখর পরিবেশে পালিত হয়েছে পানি খেলা।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, জলখেলি উৎসব উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা মুলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। জেলা আইন শৃংখলা বাহিনী সর্তকাবস্থায় থাকার কারণে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় ৩ দিনব্যাপী ‘মাহা সাংগ্রেং পোওয়ে’ বা বর্ষ বরণ উৎসব শেষ হয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: