কক্সবাজারে সামাজিক বনায়নে আবাসিক কটেজ

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ, ফাসিয়াখালী ও ঈদগাহ রেঞ্জের বিভিন্ন বনবিটে সামাজিক বনায়ন ধবংস করে গড়েcoxsbazar forest-napitkhali-06.05.2015 উঠেছে কাচা-পাকা ঘর ও আবাসিক কটেজ। বনবিভাগ এতে নিশ্চুপ থাকায় জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত ২০০১ সালে ৫০ হেক্টর, ২০০৪ সালে ৫০ হেক্টর, ২০০৬ সালে ১০০ হেক্টর, ২০০৭ সালে ১৫ হেক্টর, ২০০৮ সালে ১৫ হেক্টরসহ গত ৫ বছরে ২৩০ হেক্টর সামাজিক বনায়ন ৩৩৫ জন অংশীদারকে বরাদ্দ দেয়া হয়। সামাজিক বনায়ন প্রাপ্ত অধিকাংশ অংশীদার এলাকার বাইরের বাসিন্দা হওয়ায় তারা দেখভাল করেনি। ফলে বনদস্যুরা প্রতিনিয়ত নির্বিচারে চারাগাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে। সাবাড় করা ভুমি মোটা অংকের টাকায় বেচা বিক্রি হয়ে গেছে এবং গড়ে উঠেছে একের পর এক স্থাপনা। এসব স্থাপনার অবৈধ মালিকদের কাছ থেকে বনবিভাগ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসছে। শুধু নাপিতখালীর ২৩০ হেক্টর বনভুমিতে তিন হাজারেরও অধিক কাচা ও পাকা ঘরবাড়ি নির্মিত হয়েছে। একই অবস্থা দৃশ্যমান ফুলচড়ি রেঞ্জের ফুলছড়ি, খুটাখালী, মেধাকচ্ছপিয়া, ফাঁসিয়খালী রেঞ্জের ডুলাহাজার, রিংভং ও ঈদগাহ রেঞ্জের ভোমরিয়াঘোনা বনবিটে। এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে, নাপিতখালী বিটের অধিনে গত ৫ বছরে সৃজিত সামাজিক বনায়ন প্রায়ই নিঃশেষ হয়ে গেছে। ভুমিদস্যুরা সামাজিক বনায়ন বরাদ্ধকৃত প¬টগুলোর জমি অধিকাংশ বেচা-বিক্রি করেছে এবং বনভুমি নিয়েই রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে নাপিতখালী বনবিট কর্মকর্তা তপন কান্তি পাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, এখানে অবৈধ বসতি গড়ে উঠলেও উচ্ছেদ অব্যাহত রেখেছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অছিয়র রহমান জানান, যাদেরকে সামাজিক বনায়ন বরাদ্দ দিয়েছি তারাই তা দেখাশুনা না করে বনদস্যুদের সাথে আতাত করে উজাড় করে দিচ্ছে । এদিকে বিভিন্ন এলাকার করাতকল (স’মিল) গুলোও এ বনদস্যুদের সহায়ক বলে দাবী করেন তিনি। তিনি বলেন, যাদের নামে সামাজিক বনায়ন সরকার বরাদ্দ দিয়েছে সেই বনায়নের গাছগুলো বিক্রি করে শেষ হতে না হতে বাড়ীঘর তৈরি করার জন্য পাহাড় শতক হিসাবে বিক্রি করার প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: