কক্সবাজারে শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ৩ দিনব্যাপী সাংগ্রাই উৎসব

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : রাখাইন সম্প্রদায়ের নতুন বর্ষ ১৩৭৭’র যাত্রা শুরু হয়েছে গতকাল বিকাল ৪টা ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড সময়ে। এ উপলক্ষে কক্সবাজাsangrai-Jol-keli-17-04-2015রে শুরু হয়েছে নতুন বছরের সূচনালগ্নে ‘সাংগ্রাই পোয়ে’ বা জলকেলীর ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী উৎসব। তবে এবার রাখাইন লীফ ইয়ার হবার কারণে জলকেলীর মূল জমজমাট অনুষ্ঠান আজ শনিবার থেকেই শুরু হবে। তবে ইতিমধ্যে পুজা পার্বনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। এ উপলক্ষে কক্সবাজারের রাখাইন পল্লীগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ইতিহাসবিদদের মতে তাদের নিজস্ব ক্যালেন্ডার প্রচলন শুরু করে ১৫ ধন্যাবতি যুগ (৩৩২৫ খৃষ্ট পূর্ব) থেকে। রাখাইন সভ্যতার ক্রমবিকাশে হাজার বছর ধরে তাদের সংস্কৃতি প্রথায় ঘরে ঘরে নববর্ষ উৎসব উদযাপন করে আসছে। নববর্ষ উৎসবে রাখাইনদের তিনটি পর্ব রয়েছে। এগুলো যথাক্রমে ধর্মীয় আচারসমূহ পালন, আনন্দ উপভোগ এবং রাখাইন সংস্কৃত ধারায় কৃষ্টিকে লালন। গত ১৪ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী শুরু হয়েছে এ উৎসব। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছিল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন। কক্সবাজারের অগগামেধা ক্যাং পরিচালনা কমিটির সদস্য অংকিউচিন জানান, প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল রাখাইনদের জলকেলী আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় কিন্তু এ বছর মগী ক্যালেন্ডারে লীফইয়ার হওয়ার কারণে একদিন পর অর্থাৎ শনিবার থেকে এ মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে।
কক্সবাজারের বিশিষ্ট রাখাইন গবেষক মংবা রাখাইন বলেন, রাখাইনদের নববর্ষের এ উৎসবের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অতীতের সকল ব্যথা-বেদনা, গ্লানি ভূলে গিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। নববর্ষে রাখাইন উৎসবে তরুণ-তরুণীরাই সবচেয়ে উৎসবমূখর ভুমিকা রাখে। এসময় তারা নতুন কাপড় পরিধান করে দল বেঁধে পাড়া-মহল্লায় নেচে গেয়ে মাতিয়ে তুলে পুরো সপ্তাহের অনুষ্ঠান। সেই সাথে রাখাইন পল্লীতে তৈরি করা জলকেলী উৎসবের প্যান্ডেলে গিয়ে একে অপরকে পানি নিক্ষেপ করে আনন্দ প্রকাশ করে। এসময় বাদ্যের যন্ত্রের তালে তালে চলে নাচ-গানসহ আনন্দঘন অনুষ্ঠান। শহরের বৌদ্ধমন্দির সড়কের বাসিন্দা এবং কক্সবাজার পর্যটন মোটেল প্রবালের ম্যানেজার রাখাইন নারী টিনটিন বলেন, গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী রাখাইন নববর্ষ অনুষ্ঠানের প্রথম দিন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে। অনুষ্ঠানের প্রথম চারদিন ধরে ছিল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এসময় বৌদ্ধ মন্দিরের বুদ্ধমূর্তির øান হয় চন্দনের সুগন্ধি পানি দিয়ে। পরেরদিনও রাখাইন তরুণীরা বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে প্যাগোডায় গিয়ে বুদ্ধ মূর্তি øান করায়। এভাবে রাখাইন সম্প্রদায়ের সকল বয়সের লোকজন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে এবং সর্বশেষ সাংগ্রাই পোয়ে অর্থাৎ জলকেলী অনুষ্ঠান নিয়ে মেতে উঠে সবাই। এভাবে পুরো সপ্তাহ জুড়ে রাখাইন পল্লী পরিণত হয়ে উঠবে নববর্ষে উৎসবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: