কক্সবাজারে বনভূমি দখলকারীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর সংঘর্ষ চলছে, আহত ১০

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : উখিয়ার মাছকারিয়া এলাকায় সরকারী বনভূমি দখলকারীদের sangarshaসঙ্গে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এখানে নির্মিত অবৈধ বসতঘর উচ্ছেদ করতে গেলে এ সংঘর্ষ বাধে। এতে দখলদারদের হামলায় ১০ বনকর্মী আহত ও ৫ জন অপহরণ হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অপহৃতদের এখনো খোঁজ মেলেনি। তবে কারোর নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলেও জানা যায়। দখলকারীদের সঙ্গে স্থানীয় সরকারদলীয় লোকজন নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়. নির্বাহী মাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, অনসার ও বনকর্মীরা বুল্ডোজার নিয়ে ঘটানাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে দখলদাররা বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে উখিয়ার দুর্গম পাহাড়ে মাছকারিয়ায় জঙ্গী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প নির্মাণ করছে মর্মে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসন গোয়েন্দা বিভাগ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। উখিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, আমরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছি। শেষ পর্যন্ত দেখা যাক কি হয়। রিপোর্ট লেখাকালে ওই এলাকা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আমাদের কক্সবাজার সংবাদদাতা অজিত কুমার দাশ হিমু জানান কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা উখিয়ার মধুরছরা নামক এলাকায় সরকারী বনভূমি দখল করে Song_09-04-2015জঙ্গী ক্যাম্প স্থাপনকারী ভূমিদস্যূদের সাথে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। এতে ভূমিদস্যূ দখলদারদের হামলায় অন্তত ১০ বনকর্মী আহত ও ৫ জন অপহৃত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপহৃতদের এখনো খোঁজ মেলেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ৮টায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে নির্বাহী মাজিষ্টেট এর নেতৃত্বে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, অনসার ও বনকর্মীরা বুল্ডোজার নিয়ে ওই দখলবাজদের বনভূমিতে স্থাপিত জঙ্গীক্যাম্প উচ্ছেদ করতে গেলে এ সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বনভূমি দখলকারী ভূমিদস্যূদের সাথে স্থানীয় কিছু জঙ্গী নেতা নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রিপোর্ট লেখাকালে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্র জানায়. নির্বাহী মাজিষ্টেট এর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী ওই জঙ্গীক্যাম্প উচ্ছেদের জন্য ঘটানাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে দখলদাররা বাঁধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়। উখিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, জঙ্গীক্যাম্প উচ্ছেদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। প্রসঙ্গত, কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির সংলগ্ন মধুরছড়া ও মাছকারিয়া নামের দুর্গম অরণ্যের ভিতরে অর্ধশতাধিক অবৈধ জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রাতা-রাতি নির্মাণ করেন স্থানীয় ভূমিদস্যূর নেতৃত্বে একটি বিশাল সিন্ডিকেট। প্রশাসনের নজরদারী ফাঁকি দিয়ে রহস্যজনক ভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা তড়িঘড়ি ও লুকোচুরি করে নির্মাণের ঘটনা ঢাকার কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলে কক্সবাজার জেলা ব্যাপী ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের মধুরছড়া ও মাছকারিয়ায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রহস্যময় স্থাপনার ছবি তুলতে গিয়ে এ হামলার শিকার হয় চ্যাটেলাইট টেলিভিশন জিটিভির উখিয়া সীমান্ত প্রতিনিধি নজির আহমদ ও তার সহকর্মী মোহাম্মদ জালাল মুন্না। তারা তথ্য সংগ্রহের জন্য মধুরছড়া ও মাছকারিয়া এলাকায় পৌঁছলে ২০/ ২৫ জনের সংঘবদ্ধ সশস্ত্র পাহারা বসানো সন্ত্রাসীরা ধরে নিয়ে বেধড়ক পিঠিয়ে নজির আহমদ ও মুন্নাকে আহত করেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনমতে পালিয়ে জালাল মুন্না উখিয়া থানায় এসে পুলিশের আশ্রয় চাইলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক নজির আহমদকে ছেড়ে দেয়। এসময় জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবৈধ রহস্যজনক স্থাপনা নির্মাণকারী সন্ত্রাসীরা তার ক্যামরা, ল্যান্স, সংবাদ মেমোরী, ইসলামী ব্যাংক, আল-আরফা ব্যাংক, এবি ব্যাংকে ৩ টি ব্যাংকের এটিএম /ডেবিট কার্ড, নগদ ৩৫ হাজার টাকা, ৭০ হাজার টাকার চেক লিখে নেয় এবং ২টি ডিজিটাল মোবাইল ফোন ও কেড়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার প্রশাসন গোয়েন্দা বিভাগ ও বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর জানার পর তাদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসন আশ্বাস প্রদান করে বলেন যে, ২/১ দিনের মধ্যে মধুরছড়া ও মাছকারিয়ায় নির্মিত অবৈধ অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কোন মতেই রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বিনিষ্টকারী জঙ্গিদের স্থান উখিয়ায় হবে না।

 সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

%d bloggers like this: