কক্সবাজারে প্রশাসন বাহিনীর অনৈতিক লেনদেন এবং নীরবতায় বহাল তবিয়তে চলে মানবপাচার

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে শীর্ষ আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে মানবপাচার। থাইল্যান্ডের গহীন জঙ্গল থেকে পাচার হওয়া লোকজনের গণকবরের সন্ধান মেলার পর থেকে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত সাগর এবং Manab Pasarবিভিন্ন দেশের উপকূল থেকে পাচার হওয়া বিপন্ন লোকজন উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি ‘টপ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এ রূপ নিয়েছে। এতেই নড়েচড়ে বসে জাতিসংঘসহ পুরো বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। পরিস্থিতি যখন এমন পর্যায়ে তখন কি অবস্থায় আছে মানবপাচারের রুট বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ জেলা কক্সবাজার? স্বাভাবিকভাবে এমন প্রশ্নই জাগে মানুষের মনে! থাইল্যান্ডে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর সর্বাগ্রে আলোচনায় উঠে আসে কক্সবাজার। কেননা বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ উপকূল দিয়ে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে। দ্বিতীয়ত, মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের মূলহোতারা প্রায়ই কক্সবাজারের বাসিন্দা। সে কারণে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শীর্ষ আলোচিত মানপাচারের সঙ্গে কক্সবাজারও আলোচিত হচ্ছে। এ ধারা থেকে বর্তমানে কক্সবাজারের সর্বস্থরের লোকজনের মধ্যে একমাত্র আলোচনায় মানবপাচার বিষয়টি।
মানবপাচারে জড়িত ২৪ পুলিশ কর্মকর্তা ! অবৈধ ভাবে অর্থ আয়ের জন্য মানবপাচারের কাজে জড়িয়ে পড়েছেন পুলিশ সদস্যরাও। কক্সবাজার জেলায় কর্মরত আছেন বা ছিলেন এমন অন্তত ২৪ জনের নাম পাওয়া গেছে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে। এই তালিকাভুক্ত বেশীর ভাগ পুলিশ সদস্য এখন কক্সবাজারে কর্মরত নেই। মানবপাচারে জড়িত পুলিশের তালিকা নিয়ে অনেকটা পুলিশ বিভাগও বিব্রকর পরিস্থিতিতে পড়ে গেছেন বলে জানা গেছে। পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন, কক্সবাজার থানার এস আই (উপ-পরিদর্শক) মোস্তফা কামাল, এস আই সুনিল, টিএস আই (টাউন সাব-ইন্সপেক্টর) দেলোয়ার, সৈকত পুলিশ ফাঁড়ির টি এস আই এমদাদ, টেকনাফ থানায় বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালনকারী ওসি (অফিসার ইনচার্জ) ফরহাদ, ওসি মুক্তার আহম্মদ, ওসি রঞ্জিত দাশ, শাপলাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে বিভিন্ন সময় ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করা এস আই আনিসুর রহমান, এস আই মজিবুর রহমান, এস আই বাবুল আজাদ, রামু থানার অপারেশন অফিসার এস আই শাহ আলম, এ এস আই নয়ন, এ এস আই কানু, কুতুবদিয়া থানার ওসি অং সাই থোয়াই, উখিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম, একই থানার এস আই রাজেস ও প্রভাত দাশ; হিমছড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করা এস আই আবদুর রহমান ও এস আই বদরুল আলম; ইনানী ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আলাউদ্দিন, একই ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এস আই হাবিবুর রহমান, এস আই সাঈদ মিয়া ও এস আই মাশরুর হক এবং সাবেক চকরিয়া থানার (উপ-পরির্দশক) বর্তমানে ঢাকার শিল্পাঞ্চলের এস আই নজরুল। গত দুই বছরে সমুদ্রপথে মানবপাচার বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর এ ক্ষেত্রে টেকনাফ উপকূলকে মানব পাচারকারী চক্র ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। এই অবৈধ কাজে কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও কুতুবদিয়া থানার বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা জড়িয়ে পড়েন। জনপ্রতি তাঁরা দুই হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। গত দুই বছরে উখিয়া থানায় রেজু খালের মোহনা দিয়ে সবচেয়ে বেশি পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার এস আই (উপ-পরিদর্শক) মোস্তফা কামাল, সাবেক এস আই (উপ-পরিদর্শক) সুনিল, এটি এস আই (সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর) দেলোয়ার, সৈকত পুলিশ ফাঁড়ির টি এস আই এমদাদ, উখিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম, একই থানার এস আই রাজেস ও প্রভর দাশ; হিমছড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করা এস আই আবদুর রহমান ও এস আই বদরুল আলম; ইনানী ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আলাউদ্দিন, একই ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এস আই হাবিবুর রহমান, এস আই সাঈদ মিয়া ও এস আই মাশরুরুল হক দালালচক্রের প্রতিটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মাসে এক লাখ টাকা করে আদায় করেছেন। তবে মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন তালিকাভুক্ত বেশীর ভাগ পুলিশ কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা তালিকাভুক্তির বিষয় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে অভিযানের পর মানবপাচারকারীরা সব পালিয়ে আছে। পুলিশের লোক জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।’ সাবেক উখিয়া থানার ওসি ও বর্তমানে কুতুবদিয়া থানার ওসি অং সাই থোয়াই বলেন, ‘এই দ্বীপাঞ্চলে কোনো মানব পাচারকারীই নেই। আর এর সঙ্গে জড়িত থাকার সুযোগই বা কোথায়!’ রামু থানার (উপ-পরির্দশক) এস আই মোস্তফা কামাল বলেন, ‘চার-পাঁচ মাস আগে আমি কক্সবাজার মডেল থানা থেকে রামু থানায় বদলি হয়ে এসেছি। এ ধরনের কোনো বিষয়ে আমি জড়িত নই।’ টেকনাফের শাপলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এস আই আনিসুর রহমান বলেন, ‘এক মাস আগে আমি মহেশখালী বদলি হয়ে এসেছি। আপনারা খোঁজ নেন, কেউ আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারবে না। রামু থানার অপারেশন অফিসার এস আই শাহ আলমের কাছে মানবপাচার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা প্রোগ্রামে আছি। এখন কথা বলতে পারব না।’ সাবেক টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, আমি থাকা কালে টেকনাফে মানবপাচার তেমন ছিল না। কেন বা কি কারণে আমার নাম মানবপাচারকারীর তালিকায় এসেছে তা বোধগম্য নয়। আমি সব সময় মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে ছিলাম ও আছি।
ফ্ল্যাশ ব্যাক : সাগর পথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের বাংলাদেশের একমাত্র রুট কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। এ রুট দিয়ে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের সূচনা হয় ২০১০ সালে। প্রথম দিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি প্রশাসন। পরে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাতে গিয়ে সৃষ্টি হয় জঠিলতা। মাঝপথে সাগরে বোট ডুবি, জিম্মি করে টাকা আদায়, থাইল্যান্ডের গহীণ জঙ্গলে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন, পাচার করতে অপহরণসহ আরো কয়েকটি কারণ নিয়ে হুট করে মালয়েশিয়া মানবপাচারের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এসব বিষয় সরকারের দৃষ্টি এলে নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। এরপর চলে ধরাপাকড়। তারপরও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি মানবপাচার। কথিত আছে, সরকারি দলের লোকজনের প্রভাব আর প্রশাসন বাহিনীর অনৈতিক লেনদেন এবং নীরবতায় বহাল তবিয়তে চলে আসে মানবপাচার। সেই সঙ্গে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয় নতুন নতুন দালাল। মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের মূলহোতারা সবাই কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালীর কুতুবজোম, কক্সবাজার সদর ও পেকুয়া-চকরিয়ার। এসব দালালরা দেশব্যাপী ক্ষুদ্র দালালের মাধ্যমে পাচারের জন্য সারাদেশ থেকে মানুষ নিয়ে আসেন কক্সবাজারে।
কষ্টের কাহিনী : খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, প্রায়ই স্বপ্রণোদিত হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন অনেকে। কিন্তু অনেকে আবার অপহরণ হয়ে মালয়েশিয়ার বোটে উঠতে বাধ্য হয়েছেন। এরকম সংখ্যাও চমকে উঠার মতো! বিভিন্নভাবে প্রলোভনে ফেলে অনেককে জোর করে দালালরা উঠিয়ে দিয়েছেন মালয়েশিয়াগামী বোটে। তারপর থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের আস্তানায় জিম্মি করে টাকার জন্য ফোন করা হয় পরিবারে কাছে। কিন্তু প্রস্তুতিহীন নিরুপায় পরিবারের তখন কিছুই করার থাকে না। আটকে পড়া ও নিহত মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে সবাই এই ‘নিরুপায়’ পরিস্থিতির শিকার হয়ে নির্মম পরিণতি ভোগ করেছেন। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে অত্যাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসা কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক এলাকার ছৈয়দ নুর জানান, থাইল্যান্ডের নির্জন জঙ্গলে গাদাগাদি করে শুইয়ে রাখা হয়। সেখানে টাকার দাবিতে দালালরা নির্মম নির্যাতন করেন বন্দীদের। দেয়া হয় না খাবার; মারা হতো লোহার চেইন দিয়ে। নির্যাতন ও খাবার না পেয়ে অনেকে মারা যায়। আবার অনেকে গুরুতর অসুস্থ হয়। তাদের গণকবরে কবর দেয়া হতো। তিনি আরও জানান, সেন্টমার্টিন সাগরে উদ্ধার হয় ১১৬ জন মালয়েশিয়াগামী। উদ্ধার হওয়া এসব ভুক্তভোগীরা তাদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন এভাবে ওই বোটে প্রায় দু’মাস ধরে তারা সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিলেন, মূলত দালালদের দাবিকৃত টাকা না দিলে এভাবে সাগরে ভাসিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে যারা টাকা জোগাড় করে দিতে পারতো তাদের অন্য বোটে করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জাহাজে তুলে দেয়া হতো। এর মধ্যে দেয়া হতো না পর্যাপ্ত খাবার ও পানি। খাবার না পেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে মারা যেত। আবার গুরুতর অসুস্থদের সাগরে ফেলো দেয়া হতো। ওই বোট থেকে এ রকম ৭ জনকে সাগরের ফেলে দেয়ার কথা জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া লোকজন।
যে কারণে রোধ হচ্ছে না পাচার : প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও বন্ধ করা যায়নি মানবপাচার। এর জন্য খোদ প্রশাসনসহ সংশি¬ষ্ট মহলের অভিযোগ, মানবপাচার বন্ধ না হওয়ার মূলে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন। তারা প্রশাসনকে চাপ ও আর্থিকভাবে বশে নিয়ে মানবপাচার অব্যাহত রেখেছে। এর সঙ্গে জড়িত সরকার দলের এমপি, নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে অপ্রতিরোধ্য রয়েছে মানবপাচার।
পুলিশ প্রশাসন যা বলেন : কক্সবাজার জেলা পুলিশ সূত্র মতে, ২০১২ সালে মানবপাচারবিরোধী আইন পাশ হলে কঠোর হয় প্রশাসন। সেই থেকে সর্বশেষ সময় পর্যন্ত কক্সবাজারে মানবপাচারের ৩০৬টি মামলা হয়েছে, এসব মামলায় আসামি ১৫৩১ জন। গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৭৭ জন। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ৩১ হাজার ৬০ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে। সম্প্রতি সময়ে থাইল্যান্ডের গহীন জঙ্গলে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের অধিবাসীদের গণকবর সন্ধান পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন। মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে শুরু হয় তোড়জোড়। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয় মানবপাচারকারীদের তালিকা। এই তালিকা ধরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশকে সামনে রেখে শুরু হয় অভিযান। সর্বশেষ তথ্য মতে, কক্সবাজারের ২৫০ মানবপাচারকারীকে চিহ্নিত করেই পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে।
নিহত ৬ মানবপাচারকারী : ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এরই মধ্যে জেলার ৬ শীর্ষ মানবপাচারকারী নিহত হয়েছেন। ৮ মে টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন টেকনাফের শীর্ষ তিন মানবপাচারকারী। তারা হলেন- শাহপরীরদ্বীপ বাজারপাড়ার ধলু হোসেন ওরফে ধলু মাঝি (৫৫), কাটাবুনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম (৩০) ও হারিয়াখালী জাফর আলম (২৫)। এরপর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ উখিয়া নিহত হয়েছেন বহুল আলোচিত মানবপাচারকারী জাফর আলম ওরফে জাফর মাঝি। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন শীর্ষ মানবপাচারকারী কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের কাওয়ারপাড়া গ্রামের মোস্তাক আহমদের ছেলে বেলাল হোসেন। এছাড়া চকরিয়ায়ও এক মানব পাচারকারী নিহত হয়।
গডফাদাররা অধরা : বরাবরের মতোই অধরা থেকে যাচ্ছে শীর্ষ মানবপাচারকারীরা। একাধিক মামলার আসামি হয়েও এতদিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন এসব অপরাধীরা। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশি তৎপরতা ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটলে গা ঢাকা দিয়েছে সব মানবপাচাকারী। দাবি মতে, পুলিশ তৎপরতা চালালেও স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ২৫০ জন মানবপাচারীর নাগাল পাচ্ছে না!। তবে স্থানীয়দের মতে তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারীরা বর্তমানেও জনসম্মুখে আছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি : থাইল্যান্ডের গহীণ জঙ্গলে মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় এক হাহাকার। কেননা দীর্ঘদিন নিখোঁজ অনেক মালয়েশিয়াগামীর স্বজনরা এ খবরে আতকে উঠেন। এত দিন নিখোঁজ থাকলেও আশাবাদী স্বজনরা এখন অনেকটা মিইয়ে গেছেন। এতগুলো গণকবরে নিশ্চয়ই তাদের স্বজনরা থাকতে পারে! এ আশঙ্কায় মালয়েশিয়াগামী নিখোঁজদের ঘরে ঘরে চলছে আকাশ ভাঙ্গা আহাজারি। পরিবারের একমাত্র অধিকর্তার এমন পরিণতি মনে করে স্বজনরা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিক্ষণে নিখোঁজের তালিকায় বাড়ছে সংখ্যা। সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন পাচারকারীদের তালিকা হাতে নিয়েই কাজ করছে। তিনি মানবপাচারকারীদের ধরতে সর্বোচ্চ অবস্থানের কথা জানান। মানব পাচারকারীর তালিকায় পুলিশের নামের বিষয়ে তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত বেশীর ভাগ পুলিশ সদস্য এখন কক্সবাজার জেলায় নেই। কোন পুলিশ সদস্য মানবপাচারে জড়িত থাকতে পারে না। আমরা বরাবরই মানবপাচার রোধে কাজ করে যাচ্ছি। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘মানবপাচার দেশের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবপাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই মানবপাচার রোধে আইন প্রয়োগকারি সংস্থাগুলোকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশপাশি নিখোঁজদের উদ্ধারে এবং উদ্ধারকৃতদের ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*