কক্সবাজারে পিডিবি আবাসন প্রকল্প বন্ধে বেলার নোটিশ

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : কক্সবাজার পৌর শহরের কলাতলী পাহাড়ি এলাকার জমিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃক গৃহিত আবাসন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানিয়ে তিন সচিব, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরিdownloadবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ ১৩ সরকারী কর্মকর্তাকে আইনী নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। মঙ্গলবার ডাকযোগে এ নোটিশটি পাঠিয়েছেন বেলা’র নির্বাহী প্রধান ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। নোটিশে উল্লেখ করেন, পাহাড় কেটে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবাসন প্রকল্প নির্মাণ কোনভাবেই জাতীয় স্বার্থের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না এবং এক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক আবাসনের বিষয়টি অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ হিসেবে ঘোষিত হয়নি এবং একই বিষয়ে আদালতের একাধিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পাহাড়ি ভূমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ ও প্রস্তাবনা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবজ্ঞার শামিল। নোটিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার পৌরসভাস্থ ঝিলংজা মৌজার ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত বি.এস ১৭০৩০ নং দাগে অবস্থিত কলাতলী পাহাড়ী এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আবাসন প্রকল্পের জন্য গৃহিত ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধ এবং এ বিষয়ে নোটিশপ্রাপ্তদের গৃহীত পদক্ষেপ নোটিশ প্রেরণের ৭ দিনের মধ্যে নোটিশদাতাকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান বেলা। অন্যথায় এলাকাবাসীর পরিবেশগত অধিকার ও জনস্বার্থ রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ১৩ সরকারী কর্মকর্তার বিরূদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে নোটিশে। নোটিশে উল্লেখিত ব্যক্তিরা হলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর চেয়ারম্যান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র, কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজার পৌরসভার অন্তর্গত কলাতলী এলাকার ঝিলংজা মৌজায়স্থিত ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত বি.এস ১৭০৩০ নং দাগে ৩১ একর এলাকা জুড়ে ছোট বড় বেশ কয়েকটি পাহাড় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখিত মৌজায় অবস্থিত পাহাড়সমূহ নির্বিচারে কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসনসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আবাসন নির্মাণের উদ্দেশ্যে উল্লেখিত দাগের অক্ষত একটি পাহাড়ের ৪ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করে যা বাস্তবায়িত হলে কাটতে হবে উল্লেখিত পাহাড়টি। অথচ একই দাগে অবস্থিত ছোট বড় ১৮টি পাহাড় কর্তন বন্ধকরণ, পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশ ব্যবস্থার যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণ আদায়, পাহাড় কাটার সাথে যুক্ত দোষী ব্যাক্তিদের শাস্তি প্রদান ও পাহাড়ের কাটা অংশে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ দ্বারা বনায়নের দাবি জানিয়ে একটি নোটিশ প্রেরণ করা হয় গত ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও কোন নোটিশ প্রহীতাই উল্লেখিত নোটিশের জবাব প্রদান করেনি। বরং পিডিবি নোটিশে উল্লেখিত ৪ একর পাহাড় অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে যা হতাশাজনক। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটার ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজার নগরীর পাহাড় ক্রমশই কমতে কমতে এ নগর পাহাড় শূন্য হবার উপক্রম হয়েছে। এতে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। শ্রীহীন হয়ে পড়ছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। পাহাড় কাটার দীর্ঘ প্রভাব হিসেবে পাহাড় ধ্বস ও প্রাণহানির ঘটনাও কক্সবাজারে বিরল নয়। এছাড়া একই মৌজার ভিন্ন ভিন্ন পাহাড় রক্ষায় বেলা একাধিক মামলা দায়ের করে। মামলার প্রাথমিক ও চূড়ান্ত শুনানী শেষে উচ্চ আদালত পাহাড় বা পাহাড়ের অংশ বিশেষ কর্তন না করার নির্দেশ দিয়ে রায় বা ক্ষেত্রমতে আদেশ প্রদান করেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী প্রধান ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আইন অনুযায়ী পাহাড় সংরক্ষণ করে দেশের পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব যা পালনে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আশা করি তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*