কক্সবাজারে চলছে কোচিং বাণিজ্য

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : কক্সবাজারের শহর ও শহরতলীর প্রতিটি এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালা উপেক্ষা করে কতিপয় শিক্ষক নির্দিধায় Kosingচালিয়ে যাচ্ছে কোচিংবাণিজ্য। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এসব অর্থলোভী শিক্ষক শিক্ষাবিস্তারের নামে এসব কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার প্রত্যেক উপজেলার প্রায় স্কুলেই সর্বশ্রেণীতে এ কোচিং বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। আগে শুধুমাত্র সরকারি স্কুলসহ বিভিন্ন কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের শিক্ষকরা কোচিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও এখন প্রায় সব স্কুলের শিক্ষকরাই এ বাণিজ্য শুরু করেছেন। শহর থেকে শুরু করে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় কোচিং সেন্টার করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্দিধায়। বিশেষ করে গৃহ শিক্ষক এর সংকট থাকায় কিছু অর্থলোভী শিক্ষক এ কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছেন। যার ফলে এ বছর কোচিং ফিও দ্বিগুণহারে বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরা জানান, স্কুলে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং শ্রেণী কক্ষে শিক্ষকদের অসহযোগিতা এবং পরীক্ষার ফলাফলে কারসাজির কারণে বাধ্য হয়ে স্কুলের শিক্ষকের কাছে তাদের কোচিং সেন্টারে গিয়ে পড়তে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি স্কুলের শিক্ষকরাই কোচিং বাণিজ্যের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন বলে অভিভাবকরা জানান। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চোখধাঁধানো সাইনবোর্ড সম্বলিত কোচিং সেন্টার রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোচিং বন্ধের নিতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে পারেন না। কিন্তু কতিপয় অর্থলোভী শিক্ষক এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কায় না করে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে সচেতন অভিবাবকরা জানান, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার অজুহাতে প্রধান শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ মদদে কোচিং বাণিজ্যকে আরো উৎসাহিত করেছে। এ সুযোগে শিক্ষার্থীও অভিভাবকরা কতিপয় শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি স্কুলের অনেক শিক্ষকের সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন জায়গায় ব্যাঙের ছাতার মতো কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। সামর্থ্যবানরা তাদের সন্তানদের এসব কোচিং সুবিধা দিতে পারলেও স্বল্প আয়ের অভিভাবকদের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে কয়েকজন অভিভাবক জানান, শ্রেণী কক্ষে লেখাপড়ার মান ভাল না থাকায় তাদের সন্তানরা বাধ্য হয়ে কোচিংয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: