কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে অর্ধকোটি ক্ষয়-ক্ষতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের সদরের ভারুয়াখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দোকানসহ ২০ বসতঘর ভস্মিভূত হয়েছে। এতে অন্ততঃ অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছেFire_21-02-2015। ২১ ফেব্র“য়ারী শনিবার রাত ২টার দিকে ভারুয়াখালী ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে জানা যায়, ঘটনার দিন গভীর রাতে হঠাৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা রশিদ মিয়ার দোকান থেকে প্রথমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শোর চিৎকারে ঘুমন্ত লোকজন প্রাণে বাঁচতে ঘর থেকে বের হয়ে পড়লেও কোন মালামাল সরিয়ে নিতে পারেনি। আগুনের তীব্রতা এতই ছিল যে, এলাকাবাসীর দীর্ঘ চেষ্টার পরও একে একে ২০ টি বসতঘর সহ ৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এমনকি গৃহপালিত গরু, ছাগল ও মোরগ-মুরগী পর্যন্ত পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফজলুল হক নিউজগার্ডেন২৪ডটকমকে জানান, আগুনের সংবাদ পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও ততক্ষণে সবকিছু আগুনে ভষ্মিভূত হয়ে যায়। যার ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক অর্ধকোটি টাকা হবে বলে জানিয়েছে তিনি। স্থানীয়রা জানান, আগুনের উৎস কোথা থেকে, তা কেউ সঠিকভাবে বলতে না পারলেও তাদের ধারণা কয়েলের আগুন থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয় বলে তারা অনুমান করছেন। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থরা হচ্ছে নুরুল আলম, ফরিদুল আলম, ছলমা খাতুন, লক্ষী সরকার, শিমুল সরকার, শিখা দে, শিলু সরকার, সতীষ সরকার, শিখা শর্মা, পবল পাল, শামসুল আলম, হাজেরা খাতুন, উজ্জ্বল সরকার, মনজুরা বেগম, আবদু শুক্কুর, ভেলোয়া খাতুন, রোকেয়া খাতুন, শিপ্রা পাল, রাশেদা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক হচ্ছে রশিদ মিয়া, শামশুল আলম ও বিশ্বজিত পাল। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে রশিদ মিয়া সওদাগর। তার ৩টি দোকানে নগদ ৩ লক্ষাধিক টাকাসহ ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে যায়। এদিকে এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাজহারুল ইসলাম, পিআইও মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ। কর্মকর্তারা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর ও দোকান মালিকদের সাথে কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করেন। সরকারীভাবে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভুঁইয়া, প্যানেল চেয়ারম্যান এবাদুল হক, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ইউপি সদস্য ফজলুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীতে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ২০ পরিবারকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করবেন বলে জানান। সরকারী অর্থায়নে পুনর্বাসিত উক্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পে অবস্থানকারী এ ২০ পরিবারের সদস্যরা তাদের মাথা গোজার একমাত্র ঠাই সরকার কর্তৃক বরাদ্ধকৃত ঘর ও নগদ টাকা-পয়সা ও মালামাল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*