কক্সবাজারের প্রমত্তা বাঁকখালী নদী ভরাট প্রতিযোগিতা থেমে নেই

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : কক্সবাজারের প্রমত্তা বাঁকখালী নদীর Cox-Bakkhali-pic-06.05.2015অস্থিত্ব দিনদিন সংকটে পড়ে যাচ্ছে। নদীর কূল ভরাট আর অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় সংকোচিত হয়ে পড়েছে স্রোতশ্বীনি এই নদী। বাঁকখালী নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি ও স্থাপনা উচ্ছেদে অনেক চিঠি চালাচালি হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আন্দোলনও করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নদীর দু’কূল জুড়ে দখলপ্রক্রিয়া আরো জোরালো হচ্ছে। দীর্ঘ হচ্ছে দখলবাজদের তালিকা ও দখলের সীমানা। পাহাড়ের মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে খরস্রোতা বাঁকখালী নদী। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) উচ্চ আদালতে দায়ের করা রীট পিটিশনে (৮৩২৫/২০১৪ইং) বাঁকখালী নদীতে বর্জ্য ফেলার উপর সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া থেকে মাঝেরঘাট পর্যন্ত বাঁকখালী নদীর কিনারে দখলবাজের নখর তো দীর্ঘদিন ধরে আছেই। কস্তুরাঘাটস্থ বিআইডাব্লিওআইটি টামির্নাল সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে নতুন করে শুরু হয়েছে নদী ভরাট। সেই সাথে পৌরসভার বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলে দূষিত করা হচ্ছে নদীর পরিবেশ। পৌরসভার পুরাতন ডাম্পিং স্টেশন থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে পশ্চিম দিকে এগিয়ে চলছে ভরাট প্রক্রিয়া। পরিবেশ বিধ্বংসি একাজে ব্যবহার হচ্ছে পৌরসভার অসাধু কিছু কর্মচারী। যে কারণে বাঁকখালী নদী দখল-দূষণ কোনমতেই থামছে না। বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাাজর পৌরসভার ট্রাক ও মিনি ট্রাকে (ডাম্পার) এখানে মাটি আনা হচ্ছে। আর মাটিগুলো সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। প্রকাশ্যে পৌরসভার ডাম্পিং গাড়ি করে ফেলা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। স্থানীয় লোকজন জানায়, ফরিদুল আলম নামে এক ব্যক্তি কয়েক মাস ধরে বাঁকখালী এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভরাট করে দখল কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি শহরের পেশকার পাড়ার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তার সাথে গোপন আতাঁত রয়েছে পৌরসভার কয়েকজন পরিচ্ছন্নকর্মীর । ওই পরিচ্ছন্নকর্মীরা প্রথমে বর্জ্য ফেলেছিল। এখন মাটি দিয়ে ভরাট করে দিচ্ছে এ অবৈধ দখলদারের জায়গা। ভরাটকৃত জায়গার কিছু অংশ প্লট বানিয়ে বিক্রিও করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা রীট পিটিশনে (৮৩২৫/২০১৪ইং) বাঁকখালী নদীতে বর্জ্য ফেলার উপর সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ফেলা অব্যাহত রেখেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী ভরাটের পাশাপাশি বর্জ্য ফেলায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটছে আশেপাশের। সুত্র জানায়, গত বছরের শেষের দিকে প্রায় একহাজার অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করে প্রশাসন। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২৪২ দখলদারের বিরুদ্ধে নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। তবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বরং দখলদারেরা আরো বেপরোয়াভাবে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করে চলেছে। সেই সাথে ভরাট প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় সংকুচিত হয়ে আসছে বাঁকখালী। তা অব্যাহত থাকলে অচিরেই পুরো এলাকা দখল হয়ে যাবে বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের ব্যানারে কিছু ব্যক্তি মিলেমিশে ভাগবাটোয়ারা বসিয়েছে বাঁকখালী নদীর জমিতে। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে প্রতি রাতেই চলে নদী ভরাটযজ্ঞ। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌর মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, পৌরসভার কোন বর্জ্য সেখানে ফেলা হচ্ছেনা। নির্দৃষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা ফেলা হচ্ছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, জলাশয় ভরাট করা আইনগত অপরাধ। আইন অমান্য করে কেউ পার পাবেনা। নদীর ওপর মাঠি ফেলার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এর সাথে জড়িত লোকদের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। তিনি আরও বলেন, জমির মালিক জেলা প্রশাসন। তাছাড়া আমাদের জনবল খুবই কম। এরপরও আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*