কক্সবাজারের এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে সনদ দেয়ার অভিযোগ

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : ছেলে শাহজাহান সিরাজের বয়স ৪১ বছর Varuakhali UP Barth Cartficat-09-02-2015১১ মাস। জন্ম ১৯৭৩ সালের ৮ মার্চ। আর তার মা রৌশন আক্তার এর বয়স ৪৯ বছর ৮মাস। জন্ম ১৯৬৫ সালের ৫ জুন। এতে করে মা ও ছেলের বয়সের তারতম্য দাড়ায় অন্তত ৭বছর। তাহলে ৭ বছর বয়সেই বিয়ে। এধরনের একটি বিভ্রান্তকর ও মিথ্যা জন্ম সনদ সরবরাহের ঘটনা নিয়ে কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী ইউনিয়নে আলোচনা চলছে। জানা যায়, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের মোক্তার আহমদের স্ত্রী ও মৃত সুলতান আহমদ এর কন্যা রৌশন আক্তার চলতি বছর ২৮ জানুয়ারী একই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন (১৯৬৫২২১২৪১০০২৭৯৫৯, বহি নং- ০৬, ইস্যু তারিখ- ২৮/০১/২০১৫ইং) সনদ নেন। এ জন্ম নিবন্ধন সনদে জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ০৫/০৬/১৯৬৫ইং। স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূইয়া ও ইউপি সচিব সতিন্দ্র কুমার ধর জন্ম নিবন্ধন সনদে সীল ও স্বাক্ষর দেন। অপর দিকে গত বছরের ১৭ মে ওই রৌশন আক্তার এর ছেলে শাহজাহান সিরাজ এর জন্য সরবরাহকৃত জন্ম নিবন্ধন (১৯৭৩২২১২৪১০০০০৮২৬, বহি নং- ০১, ইস্যু তারিখ ১৭/০৫/২০১৪ইং) সনদে জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ০৮/০৩/১৯৭৩ ইং। এই জন্ম নিবন্ধন সনদে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভুইয়া ও ইউপি তথ্য সেবা কেন্দ্রের পরিচালক ওয়ালিদ বিন রহমান এর সীল ও স্বাক্ষর রয়েছে। মাতা ও ছেলের জন্য ইস্যুকৃত জন্ম নিবন্ধন সনদে বয়সের তারতম্য রয়েছে প্রায় ৮ বছর। তাহলে কি ৭ বছর বয়সেই রৌশন আক্তার এর বিয়ে হয়। এটাই এখন জনমনে প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারুয়াখালী ইউনিয়নে ভূয়া জন্ম, মৃত্যু সনদ সরবরাহের ঘটনা ঘটছে। বিদেশ পাড়ি, পাসপোর্ট, বিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকুরী কিংবা জমি ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এ জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। অনেক রোহিঙ্গা নাগরিক এসব প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করে ভোটার তালিকা ভূক্ত হচ্ছে। ভারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক ইস্যুকৃত এ ধরনের শত শত জন্ম নিবন্ধন সনদ সরবরাহ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: