ঔষধ ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ এপ্রিল ২০১৯ ইংরেজী, শনিবার: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাংলাদেশে বাজার শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে। ভোক্তা তার অধিকার ক্ষুন্ন হয় এমন অভিযোগ পেলেই জেল, জরিমানা, সিলগানা করা হচ্ছে। ১৬ কোটি মানুষের ভোক্তা অধিকারের দায়িত্ব কি শুধু সরকারের ? সরকার কি পারবে শুধু জেল, জরিমানা করে নাগরীকের ভোক্তা অধিকার রক্ষা করতে ? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয় সত্যিকার অর্থে তা সম্ভব হবে না,কারণ মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে পরিবর্তন হবে না বর্তমান অবস্থা। ভেজাল বিরোধী অভিযান যেমন প্রয়োজন তার চেয়েও অতীব জরুরি জনসচেতনার জন্য সরকারী ও বেসরকারী ভাবে সভা, সেমিনার ও কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করা। ফার্মেসী অভিযানের, ফার্মেসীতে অনেক সমস্যা ফিজিসিয়ান স্যাম্পল, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ, ভারতীয় ঔষধ, রেজিট্রার্ড বিহীন ঔষধ, অভিযান পরিচালনা করার সময় পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রতিদিন খবরের কাগজে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ফার্মেসীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধের জন্য জরিমানা করা হচ্ছে।
ফিজিসিয়ান স্যাম্পল কোম্পানি কর্তৃক সরকারি ভ্যাট ব্যতিত দেওয়া হয়, পরিক্ষা মূলক বিভিন্ন রোগের ঔষধ ডাক্তারদের গরীব, অসহায় অথবা রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়ার জন্য কোম্পানি তার ঔষধ রোগীদের মধ্যে কিরুপ কাজ করে এর সুফল কতটুকু তা দেখার জন্য। প্রশ্ন হলো ফিজিসিয়ান স্যাম্পল ঔষধের মার্কেটে সয়লাভ হয় কি করে ? তার প্রশ্ন রইল পাঠকের কাছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে, একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে, ডাক্তারা যে ঔষধের নাম লিখেন আর ফার্মাসিস্টরা তা কোম্পানির কাছ থেকে ক্রয় করে ফার্মেসীতে রাখে, রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য। আজ এক কোম্পানির ঔষধ তো কাল আরেক কোম্পানির ঔষধ এ ররকম হাজার কোম্পানির হাজারো ঔষধের মাঝে, আমাদের শত চেক আপের পরেও ঔষধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। কারণ ডাক্তারগণ আজকে একটা ঔষধের নাম লিখলে আগামীকাল অন্যটা লিখে এ রকম হাজারো ঔষধ ঘুরে ফিরে লেখার ফলে আমাদের ঔষধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়, কিন্তুু আমরা বুকে হাত রেখে বলতে পারি ঔষধের মেয়াদ চলে গেছে এমন ঔষধ আমরা রোগীদের দেয় না। রোগীদের কল্যাণের স্বার্থে এবং প্রতিযোগিতা মূলক ব্যবসায়ে টিকে থাকার জন্য ১০০ টাকা মূল্যর ঔষধ বিক্রি করতে হয় আমাদের ৯০ টাকায়। অবিরাম সকাল ৭ টা থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে আমাদের ফার্মেসি খোলা রাখতে হয়,আমরা যারা খুচরা বিক্রেতা সাপ্তাহিক শুক্রবারও ফার্মেসি খোলা রাখতে হয়,রোগীদের সেবায় । ঔষধ ব্যবসায়ীরা সামাজিক কোন অনুষ্ঠান, আত্মীয় স্বজন ও নিজের পরিবার পরিজনকে ও সময় দিতে পারে না।এক করুন জীবন যাপন করতে হয় ঔষধ ব্যবসায়ীদের।
ভারতীয় পণ্য সারা বাংলাদেশ সয়লাভ, তা হলে প্রশ্ন রইলো। আমাদের এত চৌকস বাহিনী থাকার পরেও কিভাবে আসে এত পণ্য, এমন কোন প্রসাধনী দোকান নাই যেখানে ভারতীয় পণ্য নাই। আমি বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য চাই,নিরাপদ ভাবে বাঁচতে চাই, সুষ্ঠু ও সুন্দর বাংলাদেশের গড়তে হলে আমাদের রাষ্ট্রের উন্নয়নে বন্ধ করতে হবে অন্ধকারী ব্যবসা, অন্যদিকে গণ মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রতি মহল্লায় মহল্লায় অভিযোগ বক্স করতে হবে, এলাকায় এলাকায় জনপ্রতিনিধি, সমাজ কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, লেখক, শিক্ষক, সবাইকে নিয়ে সচেতনতা মূলক সেমিনার ব্যবস্থা করতে হবে।পরিবর্তনেই ফিরে পাব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ। এখন সরকারের কাছে সকল ঔষধ ব্যবসায়ীদের আকুল আবেদন আমারা যেন সুষ্ঠভাবে ব্যবসা ও মানুষকে সেবা দিতে পারি তার জন্য কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে আমাদের আরো সচেতন করে স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নের সরকারের পদক্ষেপ গুলো বাস্তবায়নে আমাদের অংশীদার করলে আমাদের যেমন সচেতনা বাড়বে তেমনি উপকৃত হবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*