ওয়েব সাইট ব্যবসায় নেমেছে নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়েবসাইট তৈরি করার নামে নীলফামারী মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩০picture from nilphamari লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তা রংপুরের ভূয়া ডেভলপার কোম্পানীর কাছে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ওইখানে সাইট তৈরি করতে বাধ্য করছে। আর এ কাজে তিনি নিজে পর্দার অন্তরালে থেকে অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আসম বরকত উল্লাহ ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়াকে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র মতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রত্যেকটি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসাকে নিজস্ব অর্থায়নে বিটিসিএল থেকে ডোমেইন নিবন্ধন পূর্বক দেশের খ্যাতনামা হোস্টিং কোম্পানির মাধ্যমে ওয়েবসাইট তৈরি করার নির্দেশনা জারি করে। এ নির্দেশনা পেয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ ডোমেইন নিবন্ধনের জন্য বিটিসিএল বরাবরে আবেদন করার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় জেলা শিক্ষা অফিসের ওই কর্মকর্তা তার অফিসের কর্মচারী দিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসের পরিচয় দিয়ে বাধ্যতামূলক প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ওয়েবসাইট তৈরির নামে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করার খবর চাউর হয়। আর এ কাজটি বাস্তবায়নের জন্য গত মাসের শেষ দু সপ্তাহে বিভিন্ন প্রোগ্রামের নামে জেলা শিক্ষা অফিসার দফায় দফায় উপজেলাগুলোতে প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। যা এতো মতবিনিময় এর আগে কখনো হয়নি। ওই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের হাতে লিফলেট তুলে দিয়ে ধমকের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলতেন শিক্ষা অফিসের কর্মচারীগণ। ওয়েবসাইট তৈরিতে সহযোগিতাকারী গোলাম কিবরিয়া (লিফলেটে উল্লেখ) সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন শিক্ষক জানান, তাদের কাছে ওয়েবসাইট তৈরি না করলে আমাদের প্রতিষ্ঠানের অবস্থা ভালো থাকবে না বলে হুমকি দেয়। তাই বাধ্য হয়ে তাদের হাতে চাহিদা মতো টাকা তুলে দিচ্ছি। ওই শিক্ষকগণ জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ডাটাবেস, এসএমসির সদস্য ও প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষকদের বিবরনী, প্রতিষ্ঠান পরিচিতি, কন্টেইন ডাউনলোডসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র মোতাবেক ওয়েবসাইট তৈরিতে প্রথমেই প্রায় এক গিগাবাইটের (জিবি) প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষা অফিসের এ সিন্ডিকেট মাত্র এক জিবি দিয়ে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ অনেক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী ৫-১০ জিবি পর্যন্ত ১২-২০ হাজার টাকায় শর্ত সাপেক্ষে ওয়েবসাইট তৈরি করে দিতে যোগাযোগ করছে। কোম্পানীগুলোর দেয়া শর্ত মোতাবেক তাৎক্ষণিক পাওয়া যাবে কিন্তু শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাগাদা দিলে উল্টো বিপদে পড়তে হবে। তাছাড়া তারা বদলী হয়ে গেলে আমাদের অবস্থাটা কি হবে তা ভেবে পাচ্ছি না। অফিসের কর্মচারী গোলাম কিবরিয়ার সাথে ফোনে কথা হলে, তিনি প্রথমেই জানতে চান আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। সালামের জবাব না দিয়ে বলতে থাকেন আমি স্যারের সাথে সাথে থাকি, তাই সকল সুযোগ সুবিধা পাবেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি মোবাইল কেটে দেন। পরে ফোনটি সর্বদা বন্ধ পাওয়া যায়। নিজের দুর্নীতি প্রসঙ্গে আসম বরকত উল্লাহ বলেন, আমি এক সময় চ্যানেল আইয়ের রংপুর প্রতিনিধির ক্যামেরাম্যান ছিলাম। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরীর ব্যাপারে আমি নির্দিষ্ট করে কোন কোম্পানীকে দেয়ার কথা বলিনি। তিনি নিজে এবং অফিসের লোকজন এ কাজে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও লিফলেটে অফিসের কর্মচারীদের নাম ও অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: