ওয়ানডের সফল অধিনায়ক মাশরাফি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার: ‘ওদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে বলেছি। কারণ ওখানে গিয়ে তাদের চিন্তা হতে পারে আবহাওয়া-কন্ডিশন নিয়ে। ভাবতে পারে সব কিছু আমাদের বিপক্ষে। আর এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই ওদের বলেছি, মনের আনন্দে ক্রিকেট খেলবে। যতটা ওরা ফ্রি ক্রিকেট খেলবে, ততটাই উপভোগ করতে পারবে। সেমিফাইনাল বা বিশ্বকাপ জিততে হবে, ওরকম চাপ না নেয়ার জন্যও বলেছি।’
এমন প্রেরণা দেয়া ব্যক্তিটি হলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওয়ানডের সফল অধিনায়ক ও বিপিএল ট্রফি নিজের করে নেয়া কেবল মাশরাফিরই হতে পারেন যুবদলের এমন মোটিভেটর।
নতুন বছরের ১৩ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডে পর্দা উঠবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের। কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে ইয়ং টাইগার দল আজ সোমবার রাতে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে। ডুনেডিনে ১০ দিনের ক্যাম্প করবেন সাইফ হাসান সতীর্থরা। এ ছাড়া স্থানীয় দলের সাথে ৫০ ওভারের তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চাচ্ছে না বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডে সিনিয়র টিম হতে শুরু করে যুবদল পর্যন্ত সবারই প্রধান সমস্যা কন্ডিশন। স্বাভাবিক খেলা খেলতে বেগ পেতে হয় সিনিয়রদেরও। এ অবস্থায় সেখানে যুবদলের আত্মবিশ্বাস থাকার কথা তলানিতে। তাদের সাহস জোগাতে এগিয়ে এলেন বাংলাদেশের ওয়ানডের অধিনায়ক মাশরাফি। গতকাল যুবদলের অনুশীলনের পর মাশরাফি তাদের সাথে প্রায় এক ঘণ্টা বসে আলোচনা করেন। সাহস দেয়ার পাশাপাশি উদ্দীপ্ত করেছেন। জুগিয়েছেন প্রেরণা। বললেন, মনে আনন্দ নিয়েই ক্রিকেট খেলতে।
যুবাদের জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, সে ধারণাও দিয়ে ব্যাপারটি আরো সহজ করে দিলেন মাশরাফি, ‘উইকেটগুলো ফ্লাট ও সমান বাউন্স থাকবে। অসমান বাউন্স পাবে না। ব্যাটসম্যানরা ভালো উইকেট পেতে পারে। তবে বোলারদের কষ্ট একটু বেশি হবে। বাতাসের বিপক্ষে বোলিং করতে হবে। নিউজিল্যান্ডে বাতাস বড় ভূমিকা রাখে। ওরা ১৫-২০ দিন আগে গিয়ে মানিয়ে নেয়ার সময় পাচ্ছে। পরিকল্পনা করতে পারলে ভালো ফল পাবে।’
পুরনোরা যাবে নতুনরা আসবে। আজকের যুবারাই ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। সাইফ হাসান, আফিফ হোসেন কিংবা কাজী অনিকদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য এ বিশ্বকাপ সফরকে শিক্ষণীয় করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মাশরাফি। শুধু যুবদল নয়, আগামী চার-পাঁচ বছর পর তারাই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে প্রতিনিধিত্ব করবে। তাই তাদেরকে প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করার কথা বলেন মাশরাফি।
‘ওরা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। মাঠে কঠোর পরিশ্রম করবে। শতভাগ উজাড় করে ক্রিকেট খেলবে। চার বছর পর ওরাই বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে। কাপ জিতল কি জিতল না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ওখানে কী শিখল, দেশের হয়ে সেরাটা খেলতে পারল কি না- সেটিই মুখ্য।’
গতবার ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যুবদল ছিল দুর্দান্ত। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। পরে তৃতীয় হয় তারা। এবারো সেমিফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনে যাচ্ছে সাইফ হাসান বাহিনী।
এককথায় স্বীকার করে নিলেন, ‘মাশরাফি ভাইয়ের প্রেরণা অনেক উঁচু মানের। আমাদের প্রস্তুতিও ভালো। শেষ এশিয়া কাপ খেলে এসেছি। আত্মবিশ্বাসের লেভেল ভালো। মাশরাফি ভাই আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। উনি সব সময়ই আমাদের সমর্থন করেন। এবারই নয়, এর আগেও। সব সময় ম্যাচটিকে উপভোগ করতে বলেন। পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। এগুলো আসলে চাপ অনেক কমিয়ে দেয়। উনার অনুপ্রেরণা অনেক কাজে দেয়। বড় সাফল্য পেতে মাশরাফি প্রত্যেককে দায়িত্ব নিতে বলেছেন। শুধু অধিনায়কের ওপর সব দায়িত্ব, তা নয়। উনার কথায় সব খেলোয়াড়ই অধিনায়ক।’
evi:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*