ঐতিহাসিক সম্পর্ক ‘মোসাদ’ ও ‘র’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ মে: আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, রুশ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি, ইসরায়েলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং পাকিস্তানী গোয়েন্দা আইএসআই এর নাম সচেতন প্রায় সব মানুষ ই জানেন।mossad-raw
বিশ্বের দেশে দেশে সরকার পরিবর্তন কিম্বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করা হয় সিআইএর পেছনে। ১৯৪৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের সময় প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীর সদস্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সবখানে।
১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর পূর্ব ইউরোপসহ আফ্রো-এশিয়া-লাতিন আমেরিকার বহু দেশে বিপ্লবের ঢেউ বয়ে যায়। এসব দেশে প্রতিবিপ্লব ঠেকাতে নিয়োগ করা হয় কেজিবি সদস্য। তবে বিগত শতাব্দির শেষ দিকে ৯০ দশকে রাশিয়াসহ সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের পতন ঘটলে কেজিবি বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিশ্ব মানচিত্রে যে দেশটি খুঁজে বের করতে ম্যগনিফাইং গ্লাস দরকার পড়ে সেই ইসরায়েলের সাড়া জাগানো গোয়ন্দা সংস্থার নাম হচ্ছে মোসাদ। সারা বিশ্বে জালের মত ছেয়ে আছে এই সংস্থার সদস্য। নিখুত নিশানায় হানা দিতে সিদ্ধহস্ত এই সংস্থার জন্মের পর থেকে ইসরায়েল আরব বিশ্ব ছাড়াও অন্য বহু দেশে সব সাড়া জাগানো কাজ করেছে যার হিসেব এই স্বল্প পরিসরে দেয়া সম্ভব নয়। তবে এক রাতে ইরাকের পারমানবিক চুল্লিতে বিমান হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার কাহিনী এখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সেই মোসাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৮ সালে ‘র’ প্রধান রমেশ্বর নাথ কাওকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বাস করতেন মোসাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে দেশদুটোর বিপদ-আপদ, বালামুসিবত সহজে মোকাবিলা করা যাবে। মি.কাও অত্যন্ত দক্ষ হাতে মোসাদের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরও আগে ১৯৫০ সালে ভারত সরকার প্রথম মুম্বাইতে তেল আবিবের কনস্যুলেট খোলার অনুমতি দেয়। ইসরায়েলের সঙ্গে রয়েছে ভারতের সামরিক চুক্তি যার কারণে ইসরায়েল হচ্ছে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র বিক্রেতা দেশ। জেনারেল জিয়াউল হক ১৯৭৭ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর পাকিস্তানে যখন ইউরেনিয়াম প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাবে তখন খবরটা মোসাদ জানতে পেরে সে স্থানে বিমান হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেয়। মোসাদ বিষয়টি নিয়ে ‘র’ এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে। ‘র’ কর্মকর্তা বিষয়টি ততকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাইকে অবহিত করেন। দেশাই সঙ্গে সঙ্গে ইউরেনিয়াম প্রকল্প বাতিল করতে জিয়াউল হকের প্রতি আহবান জানান। মোসাদ জানতে চাইল কিভাবে এ তথ্য ফাস হলো? বিষয়টি নিয়ে সেসময় প্রধানমন্ত্রী এবং ‘র’ এর মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়। মোসাদ এবং ‘র’ এর মধ্যে এমন মধুর ও ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক। অভিন্ন স্বার্থ সংরক্ষনে যারা বদ্ধপরিকর একে অপরের ঘরে বসে তারই বন্ধুর ঘরে আগুন লাগাবে আর অন্য বন্ধু তাতে হাওয়া দেবে সেটা বিশ্বাসযোগ্য ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*