এসএসসি প্রস্তুতি : অর্থনীতি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬
সৃজনশীল প্রশ্ন
তাহেরা খানম সহকারী শিক্ষক মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মিরপুর, ঢাকা
১। উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

রেনু আক্তার একজন দরিদ্র গৃহিণী।

তার সংসারে অসচ্ছলতা থাকায় সে একটি গাভি পালন শুরু করে। পর্যায়ক্রমে সে অনেকগুলো গাভি পালন করে পরিবারে অর্থের জোগান দেয়। তার একমাত্র মেয়ে রুমা গার্মেন্টে চাকরি নেয়। রুমা প্রতিদিন রেল যোগাযোগের মাধ্যমে গার্মেন্টে আসা-যাওয়া করে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাদের পরিবারের সচ্ছলতা আসে।
ক) ব্র্যাক কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ) এসএসএস কী?

গ) রেনু আক্তারের পরিবারে অর্থনীতির কোন কোন খাতের প্রভাব লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই খাতগুলোর গুরুত্ব নিরূপণ করো।

উত্তর :

(ক) ব্র্যাক ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

(খ) এসএসএস-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিসেস।

সমাজের দরিদ্র, অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের দারিদ্র্য বিমোচন, অধিকার আদায় এবং তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সমন্বিত সেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে টেকসই সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে ১৯৮৬ সালে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। সমাজের দরিদ্র, অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের দারিদ্র্য বিমোচন, অধিকার আদায় এবং তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন করাই এ সংস্থার লক্ষ্য।

(গ) রেনু আক্তারের পরিবারে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের প্রভাব লক্ষ করা যায়।

মত্স্যসম্পদ, পশুসম্পদ ও বনজসম্পদ কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত। শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে খনিজ ও খনন, ম্যানুফ্যাকচারিং, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ এবং নির্মাণ। আর বাংলাদেশে পাইকারি ও খুচরা বিপণন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ, ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, গৃহায়ণ, লোক প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, কমিউনিটি সামাজিক ও ব্যক্তিগত সেবা প্রভৃতি নিয়ে সেবা খাত গড়ে উঠেছে।

রেনু আক্তার ছাগল পালনের মাধ্যমে তার অসচ্ছল পরিবারের অর্থের জোগান দেয়। ছাগল পালন অর্থনীতির কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত। তার একমাত্র মেয়ে রুমা পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে গার্মেন্টে চাকরি নেয়। গার্মেন্ট বাংলাদেশের অর্থনীতির শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে বলা হয়েছে রুমা রেল যোগাযোগের মাধ্যমে গার্মেন্টে আসা-যাওয়া করে। এই রেল যোগাযোগ অর্থনীতির সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত। তাই লক্ষ করা যায়, রেনু আক্তারের পরিবারে অর্থনীতির কৃষি, শিল্প ও সেবা—এ তিনটি খাতেরই প্রভাব পড়েছে।

(ঘ) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পেছনে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এ ছাড়া সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে শিল্পায়িত অর্থনীতি গড়ে তোলা হয়েছে। কেননা শিল্পায়নের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকীকরণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। কৃষি ও শিল্প খাতের উন্নয়নের স্বার্থে সেবা খাতের বৃদ্ধি ঘটিয়ে সম্পদশালী সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রয়াস চলছে।

উদ্দীপকে রেনু আক্তার ছাগল পালনের মাধ্যমে তার অসচ্ছল পরিবারে অর্থ জোগান দিচ্ছে। ছাগল পালন, পশু পালন তথা কৃষি খাতের আওতায় পড়ে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে কৃষি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে। বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রভৃতি কৃষির অগ্রগতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। কৃষি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল বলে তা স্থিতিশীল অর্থনীতি নির্দেশ করে না। কারণ এ দেশে প্রতিবছরই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা ইত্যাদির প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন অনিশ্চিত থাকে। তাই বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের দেশে শিল্পায়নের লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে গার্মেন্ট শিল্প গড়ে তোলা হয়েছে। রেনু আক্তারের মেয়ে রুমাও গার্মেন্টে চাকরি করে পরিবারে অর্থের জোগান দিচ্ছে। কৃষি ও শিল্প খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি সার্বিক সেবা খাতের বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গড়ে তোলা হচ্ছে, যার মধ্যে রেল যোগাযোগ তথা যাতায়াতব্যবস্থা অন্যতম। রুমা রেল যোগাযোগের মাধ্যমে গার্মেন্টে আসা-যাওয়া করায় তার অনেক সময়, অর্থ ও কষ্ট লাঘব হয়।

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করে প্রকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে কৃষি খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন, শিল্প খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সেবা খাতের সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি করে রেনু আক্তারের মতো বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

২। উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

রহমান সাহেব একজন দক্ষ উদ্যোক্তা। তিনি নিজস্ব ভূমির ওপর শ্রমিক কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দ্বারা কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদন করেন। তিনি এসব কৃষিজাত দ্রব্য বাজারজাতকরণের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

(ক) সংগঠন কাকে বলে?

(খ) গড় উৎপাদন বলতে কী বোঝায়?

(গ) রহমান সাহেব কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদন করতে যেসব জিনিস ব্যবহার করেছেন সেগুলোকে অর্থনীতিতে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) উৎপাদনমুখী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রহমান সাহেবের মতো দক্ষ উদ্যোক্তা আবশ্যক। উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

উত্তর :

ক) কোনো কাজ করতে যে প্রতিষ্ঠান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে তাকে সংগঠন বলে।

খ) মোট উৎপাদনের পরিমাণকে মোট উপকরণ দ্বারা ভাগ করলে গড় উৎপাদন পাওয়া যায়। যেমন—কমলবাবু তাঁর এক বিঘা জমিতে ১০ জন শ্রমিক নিয়োগ করে ৬০০ কুইন্টাল গম উৎপাদন করেন। এখানে গড়ে শ্রমিকপ্রতি ৬০ কুইন্টাল গম উৎপাদন হয়। শ্রমিকপ্রতি এই ৬০ কুইন্টাল গম উৎপাদনকে গড় উৎপাদন বলে।

গ) রহমান সাহেব কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদন করতে যেসব জিনিস ব্যবহার করেছেন সেগুলোকে অর্থনীতিতে উৎপাদনের উপকরণ বলে।

কোনো কিছু উৎপাদনের জন্য যেসব দ্রব্য বা সেবাকর্ম প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে।

রহমান সাহেব কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদন করতে ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন প্রভৃতি ব্যবহার করেছেন। এগুলো উৎপাদনের উপকরণ। উৎপাদনে সাহায্য করে এমন সব প্রাকৃতিক সম্পদকে ভূমি বলে। উৎপাদনকাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে শ্রম বলে। মানুষ কর্তৃক উৎপাদনের একমাত্র উপকরণ হলো মূলধন। উৎপাদন ক্ষেত্রে ভূমি, শ্রম, মূলধন ইত্যাদি উপকরণের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় ঘটিয়ে উৎপাদনকাজ পরিচালনা করাকে সংগঠন বলে। রহমান সাহেব নিজস্ব ভূমির ওপর কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদন করেছেন। কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন করতে গিয়ে তিনি শ্রমিক কাজে লাগিয়েছেন। তিনি যন্ত্রপাতি দ্বারা চাষাবাদ ও কৃষিক্ষেত্রের অন্যান্য কাজ সমাধা করেছেন। তিনি যেসব দ্রব্য উৎপাদন করেছেন তা বাজারজাতকরণের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। তাই বলা যায়, তিনি কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদন করতে উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যবহার করেছেন।

ঘ) উৎপাদনমুখী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রহমান সাহেবের মতো দক্ষ উদ্যোক্তা আবশ্যক। উক্তিটি যথার্থ।

উৎপাদনের ক্ষেত্রে যিনি সমন্বয় ঘটান এবং কাজ পরিচালনা করেন, তাকে উদ্যোক্তা বলা হয়। উদ্যোক্তার যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে কোনো কিছু উৎপাদনের সফলতা।

রহমান সাহেব একজন দক্ষ উদ্যোক্তা। তাই তিনি উৎপাদনকাজে সফলতা লাভ করেছেন এবং উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী বাজারজাতকরণের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। উদ্যোক্তাকে সংগঠক বা সমন্বয়কারীও বলা হয়। উদ্যোক্তা সাধারণত একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন। তিনি কোনো কিছু উৎপাদনের পরিকল্পনা প্রণয়ন, ভূমি, শ্রম, মূলধন ইত্যাদি একত্রীকরণ ও তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনকাজ পরিচালনা করেন। একজন উদ্যোক্তা উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যবহার করা, উৎপাদন পরিকল্পনা করা, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বণ্টন, উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য বাজারজাতকরণ প্রভৃতি কাজ করে থাকেন। উদ্যোক্তা দক্ষ না হলে এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। আর এসব কার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত না হলে আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব নয়। উপকরণ সংগ্রহ থেকে বাজারে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সব কাজ তদারকির জন্য দক্ষ উদ্যোক্তা প্রয়োজন। কেননা এসব কাজ দক্ষতার সঙ্গে তদারকি করতে না পারলে নির্দিষ্ট পরিমাণ উপকরণ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ উৎপাদন পাওয়া সম্ভব নয়।

তাই বলা যায়, উৎপাদনমুখী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রহমান সাহেবের মতো দক্ষ উদ্যোক্তা একান্ত আবশ্যক।

Leave a Reply

%d bloggers like this: