এশিয়া কাপের নকআউট পর্ব ফুটবলে বড় প্রাপ্তি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, রবিবার: ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। ১৭ মাস বিরতি দিয়ে গত মার্চে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ কোনো শিরোপা না জিততে পারলেও বেশ ভালো করেছে। এশিয়ান গেমস, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে কোচ জেমি ডে’র হাত ধরে বেশ কয়েকটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
চলতি বছর ফুটবলে বাংলাদেশের বড় সফলতা ছিল এশিয়ান গেমসে নকআউট পর্বে ওঠা। গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় এশিয়ান গেমসের ১৮তম আসর। এশিয়ান গেমসে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নকআউট পর্বে খেলেছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ হারে ৩-০ গোলে। এরপর থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। তারপর কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যায় লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশ হেরে যায় ৩-১ গোলে।
২০১৬ সালের অক্টোবরে এশিয়ান কাপের প্রাক-বাছাইয়ের ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছিল ৩-১ গোলে। এই হারের পর দীর্ঘ ১৭ মাস আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। গত মার্চে লাওসের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ম্যাচটি ২-২ ড্র হয়। গত ২৯ আগস্ট নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে যায় ১-০ গোলে।
গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১২তম আসর। এই আসরে দুর্দান্ত শুরুর পরও শেষমেশ গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে জয় পেলেও নেপালের বিপক্ষে হেরে সাফ মিশন শেষ হয় বাংলাদেশের। সাফের পর বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে সেমিফাইনালে খেলে বাংলাদেশ।
জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়স ভিত্তিক ফুটবলেও ভালো করেছে বাংলাদেশ। গত অক্টোবর-নভেম্বরে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ অনূধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে ওঠে। এরপর ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল উয়েফা অনূর্ধ্ব-১৫ মেন’স ইয়ুথ টুর্নামেন্টেও আলো ছড়িয়েছে। সাইপ্রাসের বিপক্ষে ৪-০ গোলে হারের মাধ্যমে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শুরু করে। এরপর স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশের ছেলেরা। এরপর মালদ্বীপকে গোলবন্যায় ভাসায় বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জয় পায় ১০-০ গোলে।
অন্যদিকে, ২০১৮ সালে বয়স ভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। গত এপ্রিলে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত জকি সিজিআই ইয়ুথ ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। চার দেশ নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের তহুরা খাতুন আটটি গোল করেন। এর মধ্যে দুই ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন। আর এক ম্যাচে দুইটি গোল করেছিলেন। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ মোট ২৪টি গোল করেছিল।
গত আগস্টে ভুটানে অনুষ্ঠিত হয় সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। এই আসরে বাংলাদেশ রানার আপ হয়। এই দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন মারিয়া মান্ডা। এই টুর্নামেন্টে ফাইনাল ম্যাচ ছাড়া অন্য কোনো ম্যাচে হারেনি বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে ১৪-০ গোলে ও নেপালকে ৩-০ গোলে হারায় বাংলাদেশের মেয়েরা। তারপর সেমিফাইনালে ভুটানকে বাংলাদেশ হারায় ৫-০ গোলে। কিন্তু ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে রানার আপ হয় বাংলাদেশ।
গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের ‘এফ’ গ্রুপের খেলা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। এই টুর্নামেন্টে বাহরাইনকে ১০-০ গোলে, লেবাননকে ৮-০ গোলে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-০ গোলে ও ভিয়েতনামকে ২-০ গোলে হারায় বাংলাদেশের মেয়েরা।
এরপর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে মোট চারটি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের মেয়েরা ২৪টি গোল করে ও মাত্র একটি গোল হজম করে। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে হারানোর পর নেপালকে ২-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। এরপর সেমিফাইনাল ম্যাচে ভুটানকে ৪-০ গোলে ও ফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশের মেয়েরা। এই টুর্নামেন্টে তহুরা খাতুন একটি গোল করলেও তিনি খেলেন দুর্দান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*