এলইডি টিভিতে ‘শীতকালীন অফার’ ঘোষণা করেছে ওয়ালটন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর, বুধবার: শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে বিদায়ের প্রান্তে হেমন্ত। শীতের সঙ্গে আসছে নতুন বছর। শীত, নতুন বছর এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে উপলক্ষ্য করে এলইডি টিভিতে ‘শীতকালীন অফার’ ঘোষণা করেছে দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে কারখানায় উৎপাদন বাড়ায় কমে এসেছে উৎপাদন খরচ। ফলে নিজস্ব কারখানায় তৈরি বিশ্বমান সম্পন্ন এলইডি টিভির দাম ব্যাপক কমিয়েছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।
‘শীতকালীন অফার’ এর আওতায় চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন মডেলের এলইডি টিভিতে ৮০০ থেকে ৩,১০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। ওয়ালটন টেলিভিশন বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ৫০টিরও বেশি মডেলের এলইডি টিভি উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন তারা। এখন ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ১৯ ইঞ্চি এলইডি টিভি আগের চেয়ে ৯১০ টাকা কমে মাত্র আট হাজার ৯৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ১০০০ টাকা কমেছে ২০ ইঞ্চি এলইডি টিভিতে, এখন মিলছে ১০ হাজার ৯০০ টাকায়। ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভির দাম আগের চেয়ে ৮০০ টাকা কমে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা। ক্রেতারা ওয়ালটনের ২৮ ইঞ্চি এলইডি টিভি আগের চেয়ে ২০০০ টাকা কমে এখন পাওয়া যাচ্ছে ১৫৯০০ টাকায়। তবে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভির দাম কমেছে তিন হাজার ১০০ টাকা। এখনকার দাম ১৮ হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া ওয়ালটনের ৩৯, ৪০, ৪৩, ৪৯ ও ৫৫ ইঞ্চির এলইডি টিভি কেনা যাচ্ছে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৯০০, ৩৩ হাজার ৭০০, ৪২ হাজার ৯০০ টাকা, ৫৭ হাজার ৯০০ ও ৭০ হাজার ৯০০ টাকায়।
জানা গেছে, জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দর্শকদের জন্য সর্বোচ্চ কালারের ডিসপ্লে প্যানেল সম্বলিত উজ্জ্বল ও অভাবনীয় রঙের সমন্বয়ে নিজস্ব কারখানায় তৈরি স্পেকট্রা-কিউ নামে নতুন মডেলের টিভি বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে ওয়ালটন। বিশ্বের সর্বাধুনিক কিউডি-প্লাস প্রযুক্তির ব্যাকলাইট যুক্ত ওয়ালটন স্পেকট্রা-কিউ টিভির ডিসপ্লের রঙ প্রদর্শনের সক্ষমতা সাধারণ প্রযুক্তির প্যানেল সম্বলিত টিভির চেয়ে বেশি। যা ৯৮-৯৯ শতাংশ পর্যন্ত হবে। ফলে, দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন সবচাইতে ঝকঝকে উজ্জ্বল রঙের ছবি।
ওয়ালটন সূত্রমতে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মানের নিশ্চয়তা, আকর্ষণীয় ডিজাইন ও কালার, সাশ্রয়ী মূল্য, ছয় মাসের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি, প্যানেল ও খুচরা যন্ত্রাংশে দুই বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি, ৬ বছরের ফ্রি সার্ভিসিং সুবিধা, দেশব্যাপী বিস্তৃত সেলস ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং টিভি গবেষণায় অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে ওয়ালটন এলইডি টিভিতে গ্রাহকদের আস্থা অনেক বেড়েছে।
ওয়ালটনের টেলিভিশন মার্কেটিং বিভাগের প্রধান আব্দুল বারী জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ৩২৫ শতাংশ বেশি এলইডি টিভি বিক্রি হয়েছে ওয়ালটনের। ভারত, নেপালসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে ওয়ালটন এলইডি টিভি।
গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন মাইক্রো-টেক করপোরেশনে এলইডি টিভির প্লাস্টিক কেবিনেট, স্পিকার, রিমোট কন্ট্রোল ইউনিট, মাদার বোর্ড, ইলেকট্রিক পাওয়ার ক্যাবল এবং প্যানেল প্রডাকশনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে পৃথক ম্যানুফাকচারিং লাইন। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন শুরুর পর থেকেই পর্যায়ক্রমে এলইডি টিভির দাম কমিয়ে আনছে ওয়ালটন।
ওয়ালটনের ফার্স্ট সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর ও টেলিভিশন আরএন্ডডি বিভাগের ইনচার্জ প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন মামনুন বলেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ওয়ালটন এলইডি টিভির দাম একদিকে কমছে, অন্যদিকে গুণগত মান আগের চেয়ে আরো উন্নত হয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণে অনুসরণ করা হচ্ছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।

তিনি জানান, কারখানায় বিশ্বের সর্বাধুনিক মেশিনারিজ সংযোজনের ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন ক্ষমতা বেড়েছে, অন্যদিকে এলইডি টিভির প্যানেল, মাদারবোর্ডসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশও তৈরি হচ্ছে ওয়ালটন কারখানায়। পাশাপাশি, দেশব্যাপী ওয়ালটন এলইডি টিভির ব্যাপক গ্রাহকপ্রিয়তায় কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কমেছে এলইডি টিভির মাথাপিছু উৎপাদন খরচ। এ বিষয়গুলোই দাম ব্যাপক কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
ওয়ালটনের নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট টিভিতে রয়েছে ইউএসবি পোর্ট, ভিজিএ পোর্ট, এইচডিএমআই, ওয়াইপিবিআর, এভি, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও ডাউনলোড, ওয়াইফাই, ব্রডব্যান্ড কানেকশন, ইন্টারনেটে গেমস এবং ভিডিও ও ছবি দেখাসহ আরো অনেক সুবিধা।
ওয়ালটন গ্রুপের ফার্স্ট সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর ও টেলিভিশন সোর্সিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইনচার্জ প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন জানান, ওয়ালটনের লক্ষ্য হলো সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বিশ্বমানের এলইডি টিভি পৌঁছে দেয়া। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওয়ালটন অনেকটাই সফল হয়েছে। তিনি আরও জানান, টিভি গবেষণায় ওয়ালটনের প্রায় ২৮টি প্যাটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে টেলিভিশন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত ও গ্রাহকদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রেখে ওয়ালটন বাজারে এনেছে এইচডি, এইচডি রেডি ও এফএইচডি রেজ্যুলেশনের বিভিন্ন সাইজের এলইডি টিভি।
ওয়ালটন এলইডি টিভিতে ব্যবহার করা হচ্ছে আইপিএস (ইন প্ল্যান সুইচিং), এডিএস (এ্যাডভান্স সুপার ডাইমেনশন সুইচ) এবং এইচএডিএস (হাই এ্যাডভান্স সুপার ডাইমেনশন সুইচ)) প্রযুক্তির প্যানেল। এর ফলে দর্শকরা ওয়াইড ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল এবং হাই কন্ট্রাস্ট এর পিকচার দেখতে পাচ্ছেন। এলইডি টিভির মাদারবোর্ডে সংযোজন করা হচ্ছে পাওয়ার সার্জ প্রোটেকশন এবং ইনডিউচড লাইটেনিং প্রোটেকশন সার্কিট। এছাড়া আইএসও ক্লাস সেভেন ডাস্ট ফ্রি ক্লিন রুম এর সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গুণগতমান রক্ষা করে তৈরি করা হচ্ছে এলইডি টিভি প্যানেল। ছবি ও শব্দের উচ্চমান নিশ্চিতকরণে ডাইনামিক নয়েজ রিডাকশন, সর্বোচ্চ ফ্রেম রেট, ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম সমৃদ্ধ নিজস্ব ডিজাইনের উন্নত প্রযুক্তির মাদারবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গুণগত উচ্চমানের পাশাপাশি দেশব্যাপী বিস্তৃত সার্ভিসিং নেটওয়ার্ক থাকায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে এখন ওয়ালটন। বাংলাদেশে একমাত্র ওয়ালটনেরই রয়েছে আইএসও সনদ প্রাপ্ত সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। গ্রাহক সেবা দিতে সারা দেশে কাজ করছেন দুই হাজার পাঁচ শতাধিক প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান।
এছাড়াও ওয়াটনের রয়েছে শক্তিশালী গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ। যেখানে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থিম ডেভেলপমেন্ট, প্রোডাক্ট ডিজাইন, মোল্ড ডিজাইন এবং মোল্ড তৈরির কাজ করা হচ্ছে। যার ফলে ক্রেতাদের চাহিদা ও আগ্রহ অনুযায়ী নিত্য নতুন প্রযুক্তি, বিভিন্ন কালার ও ডিজাইনের ওয়ালটন এলইডি টিভি বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: