এবারের আসরে বোলার-ব্যাটসম্যানদের লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : নানা আয়োজন দিয়েই গতকাল পর্দা উঠেছে বিশ্বকাপের ১১তম আসরের। তবে মূল আসরের শুরু হবে ১৪ ফেব্রুয়ারির দুটি ম্যাচ দিয়ে। প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ দুটি 777ম্যাচ। ভোর ৪টায় নিউজিল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা এবং সকাল সাড়ে ৯টায় মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। যে কোনও টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচটা গুরুত্ববহন করে। কারণ এটাই টুর্নামেন্টে আসল আমেজটা নির্ধারণ করে দেয়। সেক্ষেত্রে প্রতিযোগী সবগুলো দলই চাইবে জয় দিয়ে শুরু করতে। যদিও টুর্নামেন্টের ফরম্যাট অনুযায়ী পরের ম্যাচেও ফেরার সুযোগ থাকছে। স্বভাবতই সব দলই চাইবে প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করতে। প্রথমে যদি সহ-আয়োজক নিউজিল্যান্ড দলের কথা বলি। ওরা দারুণ ফর্মে আছে। দলটি যতগুলো বিশ্বকাপ খেলেছে তা নিয়ে বিচার করলে তাদের বেশি ভারসাম্যপূর্ণ মনে হয়েছে। আবার ৯৬ বিশ্বকাপ জয়ী শ্রীলঙ্কারও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এবারের আসরে প্রথম ম্যাচে দারুণ কিছুর সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। যারা সবগুলো প্রস্তুতি ম্যাচই ভালো খেলেছে। ইংল্যান্ড একটিতে হারলেও প্রতিপক্ষকে কোনও সুযোগ দেইনি অসিরা। বিশ্বকাপে খেলা মানেই ভিন্ন কিছু। এখানে প্রত্যাশার চাপটা স্বাভাবিক ভাবেই বেশি থাকে। যদিও এটাও সবাই জানে, অস্ট্রেলিয়া চাপে খুব দারুণ ক্রিকেট খেলে। আর ওদের দলটাও অনেক শক্তিশালী। আগেই বলেছি, বিশ্বকাপের চাপ মানেই আলাদা। তারপরেও বলবো ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি দারুণ কিছু উপহার দিতে যাচ্ছে। আর উদ্বোধনী দিনের খেলায় যারা খেলছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সবারই খুব ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্বকাপে। খেলা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি কিছু কথা বলতেই হচ্ছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে। বলতে গেলে আমাদের এখানকার মতো করে উদ্বোধনীটা অত বেশি মনকাড়া হয়নি। আমার কাছে মনে হয়, বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপমহাদেশেই মানায়। ওদের ওখানেও ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনা রয়েছে। তবে উপমহাদেশের মতো উন্মাদনাটা নেই। ক্রিকেটারের হিসেবে ওখানে খেলার মধ্যে অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে। আর বিশেষ করে উপমহাদেশে বিশ্বকাপ মানেই হলো ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে আমার মনে হয় বোলার-ব্যাটসম্যান দু’টাই সমানভাবে প্রাধান্য পাবে। আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় এবারের বিশ্বকাপ কার হবে? বোলার নাকি ব্যাটসম্যানদের। আমার উত্তর হবে-দু’টাই সমানভাবে প্রধান্য পাবে। সে ক্ষেত্রে লড়াইটা হবে সেয়ানে-সেয়ানে। বিশ্বকাপের গ্রুপিং নিয়ে যদি কিছু কথা বলি তাহলে বলতে হয়- ‘এ’ গ্রুপ যেটাতে বাংলাদেশ রয়েছে তুলনামূলকভাবে খুবই শক্তিশালী একটি গ্রুপ। এই গ্রুপের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড নিজেদের কন্ডিশনেই খেলছে। আর শ্রীলঙ্কা ইতো মধ্যেই সেখানে কিউইদের সঙ্গে একটা সিরিজ শেষ করেছে। আমাদের জন্যে কন্ডিশন বিবেচনা করলে বিষয়টা কঠিনই। তবে সব কিছু বিবেচনায় নিলে ‘এ’ গ্রুপ থেকে কারা কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। বাংলাদেশের কথা না বললেই নয়। প্রস্তুতি যেভাবে চেয়েছি সেভাবে হয়নি। কিন্তু একটা বিষয় থাকে, সেটা হলো যে লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলেছি সেগুলো আদায় করতে পেরেছি কিনা। এখানে থেকে সে বিষয়গুলো নিয়ে বলা যাচ্ছে না। তবে যে লক্ষ্য নিয়ে খেলেছি সেগুলো অর্জন হলে আমার মনে হয় না বিশ্বকাপে বাকি বিষয়গুলো সেভাবে প্রভাব ফেলবে। তবে একটা-দুইটা ম্যাচ জিতলে আমাদের জন্যে ভালো হতো। বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম ম্যাচটা আফগানিস্তানের সঙ্গে। প্রথম জিতলে বাকি ম্যাচগুলো সহজ হয়ে যায়। দলের ওপর চাপটাও কমে যায়। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে যাই হোক সেখানকার ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে মূল আসরের ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবা উচিত। যেহেতু বিশ্বকাপে খেলা, তাই উইকেটগুলো একটু ভিন্ন হবে। হয়তো অসিদের আদর্শ উইকেটের মতো হবে না। যদি না হয় তাহলে আমাদের জন্যে ভালো সম্ভাবনা থাকবে। তো সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি দারুণ একটি বিশ্বকাপ উপভোগের জন্য। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*