এপার থেকে যাচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ ওপার থেকে আসছে মরণ নেশা ইয়াবা

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা উখিয়া, টেকনাফ ও পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে যাচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ। আর yabaওপার (মিয়ানমার) থেকে আসছে মরণ নেশা ইয়াবা। সীমান্ত এলাকায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বিহীন ব্যাঙ এর ছাতার মত গড়ে ওঠা অহরহ ঔষধের দোকান হতে দেদারচ্ছে পাচার হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ। আর এক শ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবা। প্রশাসনের বিভিন্ন সারাশী অভিযানে গুটি কয়েক মাদক সিন্ডিকেট ধরা পড়লেও। ধরছোয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে এর মূল হোতারা। ঔষধ প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকার কারণে ঔষধ পাচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা যৌথ চেকপোষ্টের কর্মরত বিজিবি সদস্যরা টেকনাফগামী যাত্রীবাহি গাড়ীতে তলাসী চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ২৮ লাধিক টাকার জীবন রক্ষাকারী ঔষধ উদ্ধার করে বালুখালী কাস্টম্স কর্তৃপরে নিকট হস্তান্তর করে। ওষুধ প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী সীমান্ত এলাকার ৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ড্রাগ লাইসেন্স প্রদানের অনুমতি না থাকলেও উক্ত আইনের কার্যকারিতা এখানে পরিলতি হচ্ছে না। যে কারণে সীমান্তের ২/৩ কিলোমিটার অদূরে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধ-শতাধিক ফার্মেসী। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এসব ফার্মেসীর কোন বৈধতা না থাকলেও ভূঁয়া নাম সর্বস্ব বিভিন্ন উচ্চতর পদবীধারী চিকিৎসকের নামে সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে দেদারছে ওষুধ বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সীমান্তের ২ কিলোমিটার অদূরে বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজারে আরো অর্ধ-শতাধিক ফার্মেসী গড়ে উঠতে দেখা গেছে।
উখিয়া উপজেলার সদ্য বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ফার্মেসী গুলোতে অভিযান চালিয়ে তাদের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ওই সব ফার্মেসী বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরঞ্চ বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে ঔষধ প্রচারের কাজ।
আরও জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এসব ফার্মেসীর নাম ব্যবহার করে একশ্রেণির ঔষধ প্রস্তুতকারী সংস্থার নিয়োগকৃত প্রতিনিধিদের সাথে আতাঁতের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ টাকার জীবনরক্ষাকারী ঔষধ মিয়ানমারে পাচার হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা যৌথ চেকপোষ্টের সুবেদার আব্দুলাহ আল মুসা সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ২৮ লক্ষ ৩৬ হাজার ৩শ’ টাকা মূল্যের ওষুধ সামগ্রী উদ্ধার করেছেন। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত ঔষধের মালিকানা দাবী না করায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে পাচারকারী চক্র অভিনব কায়দা অবলম্বণ করে ধরছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
অপর দিকে কক্সবাজারের সীমান্ত জনপথ উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার হতে আসা মাদকের থাবায় শিশু কিশোর থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত মাদকাসক্ত হয়ে হয়ে পড়ছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবকমহল। মাদকের ছোবল থেকে বাাঁচানোর জন্য কেউ এগিয়ে আসছেনা। ফলে দিন দিন মাদকের আসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিয়ে ও মেহেদীর আসর কিংবা যে কোন ছোট বড় অনুষ্ঠানে বেড়ে যায় মাদকের চাহিদা। যেন আসরগুলো ইয়াবা মদের বারে পরিণত। সেই সাথে বিভিন্ন হোটেল রেস্তুরায় বসছে ইয়াবা ও মদের আসর বসে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। আইনশৃংখলা বাহিনী সদা অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন প্রকারের মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে লোক চক্ষুর অন্তরালে।
জানা যায়, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিজিবি টহল দলকে ফাঁকি দিয়ে অনায়াসে প্রবেশ করছে মদ, বিয়ার ও মরণ নেশা ইয়াবা। ফলে শহর সহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ মাদকের থাবা। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে চুরি ও ছিনতাই ও সামাজিক কলহের মতো ঘটনা।
সচেতন মহল জানায়, নেশার টাকা সংগ্রহ করতে অধিকাংশ শিশু কিশোর ও ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন অপরাধমূলক অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এতে করে জেলার সচেতনমহল ও অভিভাবকবৃন্দ রীতিমত আতঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সকল অপকর্মের মূল হচ্ছে মাদক। এই মাদক থেকে যুব সমাজ তথা দুই জেলাকে রক্ষা করা প্রয়োজন। কেননা এতে করে মানব সম্পদ তথা ভবিষ্যৎ প্রজম্ম নৈতিক চরিত্র হারাবে। ফলে দেশের নেতৃত্ব এবং কর্তৃত্ব শূণ্য হয়ে পড়বে। বাড়বে মাদক নির্ভর পেশী শক্তির ক্ষমতা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহযোগীতা কামনা করেছেন অভিভাবকমহল ও সুশীল সমাজ।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ৭৪৬ জনের বিরুদ্ধে ইয়াবা ও মাদক পাচারকারীর তালিকা প্রণয়ন করেছিল মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন ক্রস ফায়ার ও অর্ধ ক্রস ফায়ার এবং আটক হলেও কিন্তু মাদকের সিংহভাগ গডফাদার এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*