এখন গণমাধ্যমের গন্তব্য ডিজিটালের দিকে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার: এবার ডিজিটাল মিডিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হলো বাংলাদেশের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের একটি বৈঠকে। তাদের জানিয়ে দেওয়া হলো, এখন গণমাধ্যমের গন্তব্য ডিজিটালের দিকে। স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে পড়েছে মানুষ। ফলে প্রযুক্তিই হয়ে উঠেছে সংবাদ পাঠের প্রধানতম মাধ্যম।
আর সে কারণেই প্রযুক্তির উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে সকল গণমাধ্যমকে। না হলে পিছিয়ে পড়তে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (ইনমা) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর্ল জে উইলকিনসন যখন তার এই মতগুলো দিচ্ছিলেন তখন তাতে সায় জানিয়ে যাচ্ছিলেন সংবাদপত্রের সম্পাদকরা।
রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো অফিসে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তাতে বিশ্ব গণমাধ্যমের গতিপ্রকৃতি, এখনকার অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে মতামত তুলে ধরছিলেন উইনকিনসন। এই আলোচনার আয়োজক ছিল নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।
উইলকিনসনের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা (এবিপি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইনমার দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ডি ডি পুরকায়স্থ।
আর নোয়াবের পক্ষে ছিলেন এর সভাপতি ও দৈনিক সমকালের প্রকাশক একে আজাদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজউদ্দীন আহমদ, ফিন্যানসিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ প্রমুখ।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পরে গণমাধ্যমগুলোর অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে, এমন মন্তব্য করে উইলকিনসন বলেন, এ অবস্থায় গণমাধ্যমগুলোকে আত্মানুসন্ধানের কাজে নেমে পড়তে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সংবাদকে পণ্য হিসেবে ব্যবহারের কারণে এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে এ অবস্থায় গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা, বলেন ইনমা প্রধান।
ডি ডি পুরকায়স্থ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, শহুরে তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে তারা ছাপা পত্রিকার চেয়ে অনলাইনেই খবর পড়তে ভালোবাসে।
সে দেশে বাংলা সংবাদপত্রগুলোও তিন বছর ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। পাঠক সংখ্যা সেভাবে বাড়ছে না বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*