‘এক সেকেন্ড’ আলোচিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০১ জানুয়ারী, রবিবার: ‘লিপ ইয়ারে’ যেমন আরো একটি দিন যুক্ত হয় তেমনি ‘লিপ সেকেন্ডে’ যুক্ত হয় আরো একটি সেকেন্ড। ফেলে আসা ২০১৬ সালেও আমরা তেমন অতিরিক্ত এক সেকেন্ড সময় পেয়েছিলাম। ফলে স্বভাবই একটু দেরিতে এসেছে নতুন বছর ২০১৭।
পৃথিবীর ঘূর্ণনে শ্লথ গতির কারণে পিছিয়ে পড়া পুষিয়ে দিতেই যুক্ত করা হয় এই অতিরিক্ত এক সেকেন্ড। অতিরিক্ত এই এক সেকেন্ড সময় যোগ করা হবে নতুন বছর শুরুর আগে। অর্থাৎ মধ্যরাতে ঘড়িতে যখন ঠিক ২৩:৫৯:৬০ বাজে, সেই সময়ে।

বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবী যখন নিজে একবার ঘোরে তখন তার গতি কম বেশি হতে পারে। ফলে কোন একটি দিন অন্য একটির চেয়ে বড় বা ছোট হতে পারে। আর সময়ের এই ব্যবধান যখন খুব বেশি বেড়ে যায়, তখনই যোগ করা হয় অতিরিক্ত এই এক সেকেন্ড, যাতে সবকিছুর মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

এই ‘লিপ সেকেন্ড’ শেষবারের মতো হয়েছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। আর এনিয়ে মোট ২৭ বার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, স্ট্যান্ডার্ড টাইম বা মান সময়ের ঘড়ি থেকে পিছিয়ে পড়ার কারণে সময়ে এই পরিবর্তন আনতে হয়। সারা বিশ্বের সব ঘড়িতেই এই পরিবর্তন আনা হবে যাতে সময়ের একটা সমন্বয় ঘটে।

পৃথিবী তার নিজের কক্ষপথ প্রদক্ষিণে সময় নেয় ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু সেটি কখনো সামান্য দ্রুত আবার কখনো সামান্য শ্লথও হতে পারে। তবে কখন দ্রুত আর কখন শ্লথ হবে সেটা আগে থেকে বোঝা যায় না।

যুক্তরাজ্যে বিজ্ঞানী পিটার হুইবারলি বলেন, পৃথিবীর সময় থেকে যেনো সময় হারিয়ে না যায় সেজন্যেই এই লিপ সেকেন্ড। যে ক্ষণটা হারিয়ে যায় সেটা খুব অল্প একটু সময়। যদি এই সময়টা ঠিক করা না হয় তাহলে এক ঘণ্টার ব্যবধান তৈরি হতে সময় লাগবে এক হাজার বছর।

পৃথিবীর এই ঘূর্ণনের উপর নজর রাখে ফ্রান্সে ইন্টারন্যাশনাল আর্থ রোটেশান অ্যান্ড রেফারেন্স সিস্টেমস সার্ভিস। এখান থেকেই ঘোষণা করা হয় কখন এই লিপ সেকেন্ড যোগ করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*