একান্ত অনুভবে শাহ্সূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী (র.)

ড. সেলিম জাহাঙ্গীর, ২১ জুন ২০১৭, বুধবার: প্রজ্ঞাপূর্ণ জীবনাদর্শ, অনুপম চারিত্রিক মাধুর্য্যরে ¯িœগ্ধ প্রকাশের অপূর্ব সমন্বয়ের বহিঃপ্রকাশের অপর নাম- শুদ্ধতম উচ্চারণ-বিনয়। এ বিনয়ের মধ্যে যে কী প্রচন্ড আকর্ষনীয় ও তীব্র মোহনীয় যাদুকরী শক্তি নিহীত থাকতে পারে তার এক অনুসরণীয় উদাহরণ, চলমান কিংবদন্তি ছিলেন শাহ্সুফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারৃী (র.) (১৯৩২-২০০৬)।
ফাল্গুধারার মতো, মাটির মমতা রসের মতো অদৃশ্য, সাধারণ্যে প্রায় অনালোচিত কিন্তু মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শরাফত সংরক্ষণের জন্য অনিবার্য নিরবিচ্ছিন্ন যাবতীয় কর্মকান্ডের ইতিহাসের এক মৌলিক কারিগরের যথার্থ প্রতিকৃতি সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী।
মহাসমুদ্ররূপী মাইজভান্ডারী তরিকার শতাধিক বছরের ইতিহাসে এর বহুমাত্রিক প্রচার-প্রসারের প্রাণময় গতিময় অভিস্পার মূল ¯্রােতধারায় যাঁরা সরবে-গৌরবে অবদান রেখে ব্যাপক আলোচিত-পর্যালোচিত হয়ে ইতিহাসের অনিবার্য অনুষঙ্গে পরিগণিত হয়েছেন, তাঁরা সতত সম্মান, ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র।
কিন্তু তাঁদের বিপরীতে, লোকচক্ষুর অন্তরালে, একান্ত নীরব-নিভৃতে এই মাইজভান্ডার দরবার শরীফের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো অন্তনির্হিত মৌলিক ভিত্তি-এর শরাফত সুসংহত ও সুরক্ষার অন্তর্লীন ¯্রােতধারার একান্ত পথিক ও পথিকৃৎ। এক অকুতোভয় নিঃসঙ্গ অভিযাত্রিক ছিলেন অছিয়ে গাউসুলআজম শাহ্সুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইম মাইজভান্ডারী(১৮৯৩-১৯৮২) আর তাঁর হাতে তিলেতিলে গড়া একান্ত বিশ্বস্থতম সহকারী ও সহযোগী ছিলেন তদীয় দ্বিতীয় পুত্র শাহ্সুফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী।
সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী কিভাবে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিত্বে উন্নীত হলেন, কিভাবে শৈশব ও বয়োসন্ধিকাল থেকে নিবেদিত নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়ায় ক্রমান্বয়ে বাবার অনুগামী থেকে সহকারী পর্ব শেষে সহযোগীতে উত্তীর্ণ হয়ে চুড়ান্ত পর্যায়ে শরাফত সুরক্ষায় বাবার আবদ্ধ কাজ সুসম্পাদনে প্রজ্ঞাবান কান্ডারী হিসেবে আবির্ভূত হলেন তার একটা চুম্বকসার রেখাচিত্র পর্যালোচনা  এবং এর থেকে আমাদের চিন্তা চেতনা ও কর্ম পদ্ধতিকে নতুনভাবে শাণিত ও বেগবান করায় বক্ষমান প্রবন্ধের মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
এ গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে, সমকালের বাংলা অঞ্চলে এর ভূমিপুত্র হিসেবে একজন বাঙালি সুফি সাধক কর্তৃক বাংলার জমিনে একটি স্বতন্ত্র তরিকা “মাইজভান্ডারী তরিকার” প্রবর্তক ছিলেন গাউছুলআজম মাওলানা শাহ্সুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভান্ডারী  (১৮২৬-১৯০৬)। তাঁর প্রবর্তিত তরিকাকে লিখিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করেন তদীয় পৌত্র ও একমাত্র উত্তরাধিকারী অছিয়ে গাউছুলআজম সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী।
সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারীর দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী। প্রথম পুত্র সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (১৯২৮-১৯৮৮) বাল্য অবস্থা থেকে নিজ হালতে আধ্যাত্মিক মহিমান্বিত বিশেষ অবস্থানের বিষয়টি সচেতনভাবে উপলব্ধি করে অছিয়ে গাউসুলআজম  মাইজভান্ডারের শরাফত সুরক্ষার চলমান জাগতিক পর্যায়ের যাবতীয় কর্মকান্ডে নিজের একান্ত সহযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী-কে।
দৃষ্টি আকর্ষণীয় বহুমাত্রিক কর্মকান্ডের ব্যাপ্ক জীবনঘনিষ্ঠতার আবরণ ও আভরণে মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারীর এই জাগতিক একান্ত জীবনঘনিষ্ঠ বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত যে কত বেশি কালোপযোগি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর আত্মনিবেদিত সামগ্রিক জীবচনাচরণ এবং সুপরিকল্পিত সাংগঠিনিক রীতিনীতি ও নিত্য সৃজনশীল কর্মকান্ডের সূদীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের হালখাতাই তাঁর উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

শরাফত সুরক্ষায় পুত্রকে নিজের একান্ত সহযোগী হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার ইতিহাস:-
    ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে স সম্মানে ম্যাট্রিক পাশ করে ততোধিক ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রবস্থায় ১৯৫৫ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাবার একান্ত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সামাজিক প্রয়োজনে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। বলাবাহুল্য নিজের স্বত:স্ফূর্ত স্বাভাবিক বিকাশের বিপরীতে দরবারের বৃহত্তর স্বার্থে নিজেকে অবদমিত করার প্রথম পরীক্ষায় তিনি কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে এ জগতে এক অনুসরণীয় নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন।
    ১৯৫৬ সালে মোন্তাজেমে দরবারের দায়িত্ব গ্রহণ।
    ওরশ শরীফ এবং পারিবারিক চাহিদার প্রয়োজনে রাঙ্গামাটি ও রামগড় সফর করে বাবার আবদ্ধ কাজে খামার বাড়ী নির্মাণের কাজে আত্মনিয়োগ।
    ৪৭ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারীর গঠনতন্ত্র মোতাবেক আঞ্জুমানের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ এবং আমৃত্যু তা দায়িত্বশীলতার সাথে পালন।
আমার একান্ত অনুভবে সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর

অনুসরণীয় বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে এভাবে-
    বাবা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারীর একান্ত অনুগামী, অনুসারী, সহকারী ও সহযোগী থেকে পরবর্তীতে কান্ডারীতে উন্নীত।
    কথায়, কাজে ও চিন্তায় সদাসর্বাদা দরবারের স্বার্থ সমুন্নত রাখার আজীবন প্রচেষ্টা।
    দরবারের বৃহত্তর স্বার্থে একক চিন্তা  ও সিদ্ধান্ত নয়, যৌথ চিন্তা ও সিদ্ধান্তের ধারক ও বাহক।
    দরবারের স্বার্থে নিজের স্বতন্ত্র ইচ্ছা আকাঙ্খাকে অবদমিত করে দরবারের স্বার্থের অনুকুলে নিজেকে ওয়াক্ফ করে দিয়েছিলেন সচেতন প্রয়াসে। যার প্রভাব আজও প্রচ্ছন্নভাবে সতত: বহমান।
    তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব, সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা, সর্বোপরি সারাজীবন ধরে কথায়, কাজে ও চিন্তায় সুসমন্বিত কর্মপ্রয়াস সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করত প্রতিদিন প্রতিনিয়ত।

সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর দৃষ্টি আকর্ষণীয় উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ
    ১৯৬৯ সাল থেকে আজীবন আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারীর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন।
    ১৯৮২ সালে ৪ মার্চ সদ্য প্রয়াত অছি-এ- গাউসুলআজম এর স্মারক সেমিনার আয়োজন ও সংগঠনের মুখপত্র ‘জীবনবাতি’ প্রকাশের সফল উদ্যোগের যৌক্তিক বাস্তবায়ন।
    ১৯৮৮ সাল থেকে দরবারী পরিমন্ডলে ২০ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে বৃহত্তর আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর আয়োজন।
    ১৯৯৬ সালে গাউসে মাইজভান্ডারের রওজা শরীফের অব্যন্তরে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ।
    গাউসুলআজম মাইজভান্ডারীর ওফাত শতবার্ষিকী (১৯০৬-২০০৬) কেন্দ্র করে ১৯৯৯ সালে ওফাত শতবার্ষিকী স্মারক প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন করে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য শতবর্ষ কার্যক্রমের উপযোগিতা সৃষ্টির সৃজনশীল প্রয়াস।
    ২০০৪ সালে গাউসুলআজম মাইজভান্ডারীর সকল খলিফার আওলাদে পাকের সমন্বয়ের সম্মিলনী দিবস পালনের উদ্যোক্তা।
    ২০০৬ সালে গাউসে পাকের ওফাত শতবার্ষিকী উপলক্ষে পাক কোরআনের নক্সাআঁকা পুনঃনির্মিত রওজা পাকের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধক।
    ১৯৯৯ সালে গঠিত ওফাত শতবার্ষিকী স্মারক প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদের মাধ্যমে পরিপূর্ণ উপযোগিতা সৃষ্টির পর নিজেকে নেপথ্যে রেখে ২০০৫ সালে ওফাত শতবার্ষিকী জাতীয় কমিটি গঠন করে জাতীয় পর্যায়ে ওফাত শতবার্ষিকী পালনের পরিপূর্ণ উপযোগিতা সৃষ্টি।
গাউসেপাকের ওফাত শতবার্ষিকী বছরেই ওফাত শতবার্ষিকী সফল সমাপ্তির মূল কার্যকারক ও অনুঘটক সমকালের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর মহাপ্রয়াণ ও এর গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
২০০৬ সালে গাউসেপাকের ওফাত শতবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সুদীর্ঘ ৭ বছর পূর্বে ১৯৯৯ সালে ঐতিহাসিক ওফাত শতবার্ষিকী স্মারক বাস্তবায়নে পরিষদ গঠন করে রওজা পাকের পুনঃনির্মাণ প্রকল্পসহ শতবর্ষ উদ্যাপনের বহুমাত্রিক যথার্থ উপযোগিতা, সৃষ্টিতে একান্ত নীরবে-নিভৃতে এক অনন্য সাধারণ ইতিহাস সৃষ্টি করেন কমিটির চেয়ারম্যান, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী।
কিন্তু তাঁর আজীবন লালিত চারিত্রিক বিশেষত্বের, নেপথ্যে আত্মনিবেদনের, আত্মপকাশের অদম্য ইচ্ছাকে সচেতনভাবে অবদিমত করে চুড়ান্ত পর্যায়ের ২০০৫ সালে ওফাত শতবার্ষিকী জাতীয় কমিটি গঠন করে, জাতীয় ব্যক্তিত্ব, জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানরে আসনে বসিয়ে পুরো অনুষ্ঠানকে জাতীয় মর্যাদার অভিষিক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর যে অবদান, মাইজভান্ডারের শত বছরের ইতিহাসে, দরবারী প্রয়োজনে আত্মনিবেদনের এও মাইলফলক।
১৯৫৫ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রত্বের গৌরব-মর্যাদা অবদমিত করে দরবারে যার আত্মনিবেদন, ২০০৫ সালে ওপাত শতবার্ষিকীর চুড়ান্ত পর্বে জাতীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর যে আত্মনিবেদন, তা আমাদের রীতিমতো বিস্মিত করে।
এককথায় ১৯৫৫-২০০৬ সাল, বয়োসন্ধি থেকে পরিণত বয়সের এ সুদীর্ঘ ৫০ বছর সময়কালে সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর জীবন ছিল সদাসর্বদা প্রতিদিন প্রায় প্রতিনিয়ত নিজের স্বাভাবিক চাহিদা ও ইচ্ছাকে অবদমিত করে, দরবারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইচ্ছা ও কাজকে সমুন্নত রাখা এবং একইসাথে মাথার তাজের মতো করে তার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা।
দরাবারে পাকের সমস্ত খেদমত আঞ্জাম দিয়ে তিনি ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর পবিত্র শবে কদর ও জুমাতুল বিদার পূণ্যময় দিনে ইহধাম ত্যাগ করেন। জীবদ্দশায় যেভাবে পিতামহোদয়ের সাথে ছায়ার মত যুক্ত ছিলেন বেছাল পরবর্তীতেও তাঁর পাশে খোলা আকশের নীচে প্রকৃতির কোলে অত্যন্ত সাদামাটাভাবে শায়িত আছেন।
আজ তার ওফাত বার্ষিকীতে তাঁর এই কিংবদন্তিতুল্য একান্তবিনয় কে আমি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই বিনয়াবনত চিত্তে। পরিশেষে জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামের যুগান্তকারীর শাশ্বত মন্তব্যের মাধ্যমে এ প্রবন্ধের সমাপ্তি চানতে চাই।
জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামের ভাষায় সুফি ব্যক্তিত্ব, দরবারের জন্য আত্মনিবেদিত শাহসুফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী ছিলেন ‘মহাসাগরের হিমশৈলের মতো, যার সিংহভাগই থাকে পানির নিচে, সামান্য অংশ দৃশ্যমান।’ সত্যিই জাগতিকভাবে দৃশ্যমান সুফিসাধক সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডীকে নিয়ে আমাদের যত আলাপ-আলোচনা, পর্যালোচনা, যাবতীয় চর্চা। কিন্তু তাঁর প্রবাদতুল্য বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকাংশই- সিংহভাগই ছিল অদৃশ্য-অজানিত।
বলাবাহুল্য মাইজভান্ডার দরবার শরীফের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস প্রণয়নে মুল্যবান উপাদান, তথ্য-উপাত্তের সূত্র হিসেবেই তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনী প্রকাশ আজ ইতিহাসেরই দাবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*