একাধিক মন্ত্রী কিশোরগঞ্জে !

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৬ জানুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, রবিবার: আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, একাধিক মন্ত্রী পেয়েছে কিশোরগঞ্জ। পেয়েছে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার পদ। আগামীকাল শপথ নিতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার দিকেও তাকিয়ে ঢাকা বিভাগের এই জেলার বাসিন্দারা। আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আমলেও মন্ত্রিত্বশূন্য হয়নি কিশোরগঞ্জ। তবে আওয়ামী লীগ আমলের মতো এত বেশি আলোচনা হয়নি ওই দুটি আমলে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জেরই বাসিন্দা।১৯৭৩ সালের মন্ত্রিসভায় এই জেলার সদস্য ছিলেন দুজন। মনোরঞ্জন ধর ছিলেন আইনমন্ত্রী আর আসাদুজ্জামান খান ছিলেন পাটমন্ত্রী। সৈয়দ নজরুল ইসলাম হন রাষ্ট্রপতি। পরে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার বদলে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় ফেরার পর তিনি হন শিল্পমন্ত্রী। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর কিশোরগঞ্জ আবার পরিচিত হয়ে ওঠে ‘মন্ত্রীর’ জেলা হিসেবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পান সে সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। সৈয়দ নজরুলের পুত্র সদ্য প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হন ডেপুটি স্পিকার। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার সরকারে আসার পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হন সৈয়দ আশরাফ। পান স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব। ডেপুটি স্পিকার থেকে পদোন্নতি পেয়ে আবদুল হামিদ হন স্পিকার। আর জিল্লুর রহমান হন রাষ্ট্রপতি। এই সরকারের আমলে ২০১৩ সালে জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর আবদুল হামিদ হন রাষ্ট্রপতি। আর ২০১৪ সালের ভোট শেষে সৈয়দ আশরাফ আবার হন এলজিআরডিমন্ত্রী। আর একটি প্রতিমন্ত্রী পায় জেলাটি। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মজিবুল হক চুন্নু হন প্রতিমন্ত্রী। অসুস্থ আশরাফ মারা যাওয়ার পর কিশোরগঞ্জ সদর আসন মন্ত্রিত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এটা নিশ্চিত প্রায়। আবার জাতীয় পার্টি এবার মন্ত্রিত্ব নেবে না বলে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঘোষণা দেওয়ায় আপাতত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনকেও হিসাবের বাইরে রাখতে হচ্ছে। এখন আলোচনায় আছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসন থেকে জয়ী রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর, নিকলী) আসন থেকে নির্বাচিত আফজাল হোসেন এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (কুলিয়ারচর-ভৈরব) আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপন। তাদের মধ্যে নাজমুল হাসান জানিয়ে দিয়েছেন তিনি মন্ত্রিত্ব পেতে আগ্রহী নন। ফলে আপাতত কিশোরগঞ্জবাসীর আগ্রহ বাকি তিনজনকে ঘিরেই। তবে সংসদ সদস্যদের বাইরেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা সম্ভব। তবে এই কোটায় আলোচিত কেউ নেই আপাতত।
আশরাফ মারা যাওয়ার পর যে চারটি নাম রয়ে গেছে, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নূর মোহাম্মদকে ঘিরেই। যদিও প্রতিটি আসনের বাসিন্দারাই চাইছেন তাদের সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী করা হোক। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নূর মোহাম্মদের নির্বাচনী এলাকার পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ রশিদ ভূঞা বলেন, ‘সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে কিশোরগঞ্জবাসীসহ দেশবাসী উপকৃত হবে।’ এরশাদের সিদ্ধান্তে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের মজিবুল হক চুন্নুকে হিসাবের বাইরে রাখতে হলেও নির্বাচিত এলাকার বাসিন্দারা আশা ছাড়ছেন না। করিমগঞ্জ ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি শেখ আবুল মনসুর লনু বলেন, ‘বিএনপি আমলে আমাদের আসন শিক্ষামন্ত্রী পেয়েছিল। মহাজোট সরকারে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত মজিবুল হক চুন্নু শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এবার তাকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় মানুষ।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিকের বিষয়ে দাবি তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোয়ায়েল আহামেদ তুষার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাওর অঞ্চলবাসীর জন্য যেকোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাই।’
কিশোরগঞ্জস্থ হাওর অঞ্চলবাসী মিঠামইনের সমন্বয়ক এম এ হালিম তালুকদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর অঞ্চলবাসীর জন্য তৌফিককে যেকোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দিলে হাওরবাসী উপকৃত হবে।’
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল। তবে ২০০৮ সালে আসনটি দখলে নেন আফজাল হোসেন। এবার মিলিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন তিনি। আর এই বিষয়টি তুলে ধরে তাকে মন্ত্রিসভায় দেখার দাবি জানাচ্ছেন ভক্তরা।
বিএনপি ও জাপার শাসনামল
আওয়ামী লীগের তুলনায় কম হলেও বিএনপির তিন দফা এবং জাতীয় পার্টিও দুই দফা শাসনামলেও মন্ত্রিত্ব পেয়েছে কিশোরগঞ্জ।
১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল করিম হন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী ছিলেন এম সায়েদুজ্জামান। তবে তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন না।
১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত মজিবুল হক চুন্নু পান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বিএনপি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয় সে সময় কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুল হককে। ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ওসমান ফারুককে বানানো হয় শিক্ষামন্ত্রী।

Leave a Reply

%d bloggers like this: