একাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রধান নির্বাচন কমিশনার একাই তৈরি করেছেন: রুহুল কবির রিজভী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ জুলাই ২০১৭, রবিবার: একাদশ সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা একাই তৈরি করেছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী একথা বলেন। এর কিছুক্ষণ আগে নির্বাচন কমিশনে আগামী সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন সিইসি।
রিজভী বলেন, ‘ইসির বিধান ও আইন অনুযায়ী অন্যান্য কমিশনারদের সাথে নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি করা উচিত। কিন্তু সিইসি তা একাই তৈরি করেছেন।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘বর্তমান সিইসি তো আগেই তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। ভোট কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি, জাল সিল মারা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দেন। এ ব্যাপারে যথেষ্ট ক্ষমতা থাকার পরও তিনি প্রয়োগ করেননি।’
রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তারের জন্য সরকার ও মেয়রদের দায়ী করে রিজভী বলেন, ‘সরকারের গণবিরোধী দুঃশাসনের কারণেই দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো এখন ভেঙে পড়েছে। মশক নিধনের ব্যর্থতার কারণে ঢাকা শহরে শুরু হওয়া চিকুনগুনিয়া যেভাবে সারাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে তাতে জনগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। দেশে জনস্বাস্থ্য এখন চরম হুমকির মুখে। সরকার এবং দুই মেয়র এর দায় এড়াতে পারে না।’
রিজভী বলেন, ‘এমন কোনও সেক্টর নেই যেখানে ক্ষমতাসীনরা দুর্নীতির আখড়া বানায়নি। তাই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মানুষের মনভোলানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের নামে দেশে হরিলুট চলছে। উচ্চমূল্যের জ্বালানি ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার অনুমতি দিচ্ছে সরকার। আর এই ঘাটতি মেটাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বড় বড় কোম্পানিগুলোকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে জনগণের পকেট কাটছে সরকার।’
খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে বানভাসী মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ইতিমধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দুর্গতদেরকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে এবং এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা ত্রাণ সহায়তা নিয়ে সাড়া-জাগানো চিৎকার করলেও বন্যাদুর্গতদের কাছে এখনও সরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি। গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে-বন্যা আক্রান্ত এলাকায় যতটুকু সরকারি ত্রাণ গেছে তা স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও তাদের আত্মীয়স্বজনরাই লুটে নিচ্ছে, গরিব-অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষরা কোনও ত্রাণ পাচ্ছেন না।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: