একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করুন: আবু সুফিয়ান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, রবিবার: চট্টগ্রাম-৮ আসনের (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ আবু সুফিয়ান একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচনের প্রতিবাদে এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষাণার পর থেকে জনগণের মাঝে পরিষ্কার ধারণা হয়েছিল, সরকারের নির্দিষ্ট চকে একটি এক তরফা ও সাজানো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক মহল থেকেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে আহবান জানানো হয়। কিন্তু শুরু থেকেই এক তরফা নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন আওয়ামীলীগকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করেছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও সমতল মাঠ তৈরীতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারপরও আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচন কিছুটা হলেও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু জনগণের সকল প্রত্যাশাকে অবজ্ঞা করে ২৯ ডিসেম্বর রাতেই আমার নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ব্যালট পেপারে সীল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। রোববার ভোট শুরুর সময় জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। তিনি বলেন, অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে আমার পোলিং এজেন্টদের ভোট শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই তাদের উপর হামলা করা হয়। অনেক এজেন্টকে ৩/৪ ঘন্টা একটি কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সারাদিন থেমে থেমে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। বোয়ালখালীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের শক্ত অবস্থানের কারণে ভোট কেন্দ্রে কারচুপি করতে না পেরে ইউএনও অফিস থেকে ভোটের বাক্সে ভোট মেরে কেন্দ্রে আনা হয়। তিনি বলেন, পুুলিশ শুরু থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর মারমুখি ছিল। তারা প্রত্যেক কেন্দ্রে আমার পুলিং এজেন্টদের ছবি তোলে তাদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করে। এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার সময় তাদের থেকে জোর করে ফলাফল সীটে স্বাক্ষর নেয়। এ সব অনিয়ম ও সীমাহীন নৈরাজ্যের ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে ফোন করে জানানো হলেও তারা কোন রকম ব্যবস্থা নেয়নি। এসব ঘটনায় নির্বাচনের নামে আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রহসনের নগ্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে এটা কোন নির্বাচনই নয়। নির্বাচনের নামে প্রশাসনের সহায়তায় ভোট ডাকাতি হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র যেখানে বিএনপির বিরুদ্ধে, সেখানে সাধারণ মানুষের কিছুই করার থাকে না। আওয়ামীলীগ প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিক দেওলিয়াত্তেরই প্রমাণ দিয়েছে।
তিনি বলেন, ভোটার ও সাধারণ মানুষের উপর সরকারের অব্যাহত হামলায় তাদের জীবন আজ বিপন্ন। সর্বত্রই চলেছে সশস্ত্র মহড়া। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ তো দূরের কথা, তাদের জানমালেরও কোন নিরাপত্তা ছিল না। প্রশাসনের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের এই নির্বাচন কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভোট ডাকাতির এই নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় তফসীল ঘোষণা করে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবী জানাচ্ছি।
গত দুইমাসের এই নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে সরকারের শত জুলুম নির্যাতন, গ্রেফতার, মামলা ও হামলা সহ্য করে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলায় এবং সকল বাধা বিপত্তি ডিঙিয়ে সাধারণ মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমাকে যারা সমর্থন জানিয়েছেন তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*