একজন মুসলমান হয়ে তারা আরেকজন মুসলমানকে কীভাবে পুড়িয়ে মারে? প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ইসলামের নামে রাজনীতি করে। অথচ তারা একের পর এক নাশকতা করছে, মানুষ পুড়িয়ে মারছে। Hasinaপ্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, একজন মুসলমান হয়ে তারা আরেকজন মুসলমানকে কীভাবে পুড়িয়ে মারে? তিনি বলেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৫ এর উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। পুলিশকে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায় পুলিশই জনগণের প্রধান ভরসা। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, হরতাল ও অবরোধের নামে নিরীহ মানুষ হত্যাসহ ঘৃণ্য অপকর্ম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। আমি এজন্য পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। তিন দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০১৫ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আসেন এবং বর্ণাঢ্য পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পদক দেন প্রধানমন্ত্রী। এবার মোট ৮৬ জন পুলিশ সমস্যকে বিভিন্ন পদক দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, হরতাল ও অবরোধের নামে নিরীহ মানুষ হত্যা, যাত্রীবাহী গাড়িতে আগুন দিয়ে নারী-শিশু হত্যার ঘৃণ্য অপকর্ম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। আমি এ জন্য পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে সকল পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের আধুনিকায়নে আমরা যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই আমরা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি। আমরা পুলিশ বিভাগে ৩১,৭৪৪টি নতুন পদ সৃষ্টি করেছি। এ সকল পদে লোক নিয়োগ দিয়েছি। আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করেছি। এর ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে গার্মেন্ট সেক্টরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট যেমন ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং ২টি সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে যার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: