উ. কোরিয়ার জাহাজের বাংলাদেশে প্রবেশে মানা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : অবৈধ অস্ত্র বহনের দায়ে জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানের একটি জাহাজকে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবশ করতে দেওয়া হবে না। shipশুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশ ওই জাহাজটিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার জাহাজ প্রতিষ্ঠান ওশান মেরিটাইম ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ওএমএম) জাহাজ এমভি ঝংডি ১ নামের জাহাজটি গতকাল বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের ক্যাম পা বন্দর থেকে বাংলাদেশের জলসীমার কাছে পৌঁছায়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাহাজটিকে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে দেওয়া হবে কি না, এ বিষয়ে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সুপারিশ জানার পর আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে জাহাজটি বন্দর জলসীমায় পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে চিনি পরিবহনের নামে দুটি মিগ-২১ পরিবহনের সময় ওএমএমের জাহাজ ছং ছন গাংকে পানামা খালের কাছে আটক করা হয়। জাহাজটি ওই সময় কিউবা থেকে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছিল। ২০১৪ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি কমিটি ওএমএম নামের পণ্য পরিবহনকারী জাহাজ প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী জাহাজে সাধারণত মালিক প্রতিষ্ঠানের দেশ ও অন্য দেশের ক্যাপ্টেন ও নাবিক থাকে। তবে ওএমএমের মালিকানাধীন জাহাজ এমভি ঝংডি ১-এর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীই উত্তর কোরিয়ার নাগরিক। পানামায় নিবন্ধিত জাহাজটির ধারণক্ষমতা ৩৭ হাজার মেট্রিক টন হলেও ভিয়েতনাম থেকে ৪৩ হাজার ৮০০ টন সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকার নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল। সূত্র আরো জানায়, জাহাজ এমভি ঝংডি ১-এর জন্য ক্লিংকার সরবরাহ করেছিল হংকংভিত্তিক সুন শিং গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এম কামাল এ পাশা। এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২২৪ মিটার এবং জাহাজের পানির নিচের অংশের গভীরতার উচ্চতা (ড্রাফট) ১৩ দশমিক ২ মিটার। জাহাজটি বন্দরের জলসীমার অদূরে কুতুবদিয়ায় ভেড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার। এ ধরনের বড় আকারের জাহাজ সাধারণত কুতুবদিয়ার গভীর সাগরে লাইটার জাহাজে স্থানান্তর এর মাধ্যমে পণ্য খালাস করে। মদিনা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক আবদুল কাইয়ুম জানান, জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট মদিনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মদিনা লজিস্টিকস লিমিটেড। জাহাজটিতে মদিনা সিমেন্ট কারখানার ১৬ হাজার ৫০০ টন ক্লিংকার রয়েছে। বাকিগুলো অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

%d bloggers like this: