উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কাজ আজ থেকে শুরু

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ৩ অক্টোবর, ২০১৬ :
নাগরিকদের মধ্যে উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) বিতরণের কাজ আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার উত্তরা ও রমনা থানায় এবং কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়াতে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটির ১ নম্বর ওয়ার্ড (উত্তরা) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের (রমনা থানা) ভোটারদের মধ্যে ৩ থেকে ২৬ অক্টোবরের ভেতর স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। যেকোনো ব্যক্তি ১০৫ নম্বরে ফোন করে তাঁর স্মার্ট কার্ড বিতরণসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন।a5b1f4532985dc6f5be538ccc8bd0084-smart
রমনা থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মানুষ স্মার্ট কার্ড পেয়ে উল্লসিত। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের তিনটি কক্ষে ছয়টি টিম কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের জনবলের তুলনায় নাগরিকের উপস্থিতি অনেক বেশি। কাজ সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে। কার্ড নেওয়ার সময় ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ স্ক্যান করা হচ্ছে। এ কেন্দ্র থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
তবে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুললেন বেশ কিছু নাগরিক। কবে কার্ড পাওয়া যাবে, এ বিষয়ে সঠিক তথ্য না থাকায় অনেকেই এসে ফিরে গেছেন। আবার আজকে কার্ড পাওয়ার নির্ধারিত তারিখ থাকা সত্ত্বেও অনেকে কার্ড পাননি। তাঁদের একজন হলেন জেবুন্নেসা হিলালী বেইলি রোডের বাসিন্দা। কার্ড না পাওয়ায় ক্ষোভ জানান তিনি। কার্ড পাওয়া যায়নি রমনার বাসিন্দা রেহানা পারভীনেরও। আইডি নম্বর দেখা যাচ্ছে না বলে আজ কার্ড না নিয়েই ফিরে গেছেন কাকরাইলের বাসিন্দা জেসমিন আরা বেগম ও তাঁর মেয়ে তানজিয়া মুনির। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহ আলম প্রথম আলোকে জানান, ‘প্রথম দিন হিসেবে কিছু অব্যবস্থাপনা আছে। আজকের এ অব্যবস্থাপনাগুলো আমরা নজরে রাখছি। এগুলো কাটিয়ে ওঠা হবে। যাঁদের কার্ড পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের ঠিকানা আমরা রেখে দিয়েছি। তাঁদের কার্ড বাসার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’
উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহে আজ সোমবার সকালে রাজধানীর বেইলি রোডে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ভিড়। ছবি: জাহিদুল করিম২২ ধরনের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র কাজে লাগবে। আয়করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর পাওয়া, শেয়ার আবেদন ও হিসাব খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স করা ও নবায়ন, ট্রেড লাইসেন্স করা, পাসপোর্ট করা ও নবায়ন, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, চাকরির আবেদন, বিমা স্কিমে অংশগ্রহণ, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক হিসাব খোলা, নির্বাচনে ভোটার শনাক্তকরণ, ব্যাংকঋণ, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সংযোগ, সরকারি বিভিন্ন ভাতা উত্তোলন, টেলিফোন ও মোবাইলের সংযোগ, সরকারি ভর্তুকি, সাহায্য ও সহায়তা, ই-টিকেটিং, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, আসামি ও অপরাধী শনাক্তকরণ, বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর পাওয়া ও সিকিউরড ওয়েব লগে ইন করার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লাগবে। তবে আইনগতভাবে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়ের নম্বর এখনো বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
এবারের স্মার্ট কার্ডে ব্যক্তির নাম (বাংলা ও ইংরেজি), মা-বাবার নাম, জন্মতারিখ ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন নম্বর দৃশ্যমান থাকছে। কার্ডের পেছনে থাকছে ব্যক্তির ভোটার এলাকার ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ ও জন্মস্থান। তবে সব মিলিয়ে স্মার্ট কার্ডের মধ্যে থাকা চিপ বা তথ্যভান্ডারে ৩২ ধরনের তথ্য থাকছে, যা মেশিনে পাঠযোগ্য হবে।
স্মার্ট কার্ডের সঙ্গে কাগজের তৈরি ল্যামিনেট করা বিদ্যমান কার্ডের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্লাস্টিকের (পলিমার দিয়ে) তৈরি কার্ডটি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। কার্ডের মেয়াদ হবে ১০ বছর। নারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কার্ডে স্বামীর নাম দৃশ্যমান ছিল। বাবার নাম ছিল না। অন্যদিকে পুরুষের কার্ডে স্ত্রীর নাম উল্লেখ ছিল না। একে বৈষম্যমূলক বলে বলা হচ্ছিল। এবার নারীদের স্মার্ট কার্ডে স্বামীর নাম দৃশ্যমান থাকবে না। সেখানে বাবার নাম থাকবে।
কমিশন শুরুতে ঢাকার সব ওয়ার্ডে একযোগে কার্ড বিতরণের কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করতে না পারায় আপাতত দুই সিটির চারটি এবং কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়ায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*