উখিয়ার সেই রহস্যময় জঙ্গী স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় আইন শৃংখলা বৈঠকে ক্ষোভ

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায়ও সেই দুর্গম পাহাড়ে গড়ে উঠা সেই রহস্যময় জঙ্গী স্থাপনাUKHIYA-30-01-2015 উচ্ছেদে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজ। উপজেলা প্রশাসনের আইন শৃংখলা বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে-এক সপ্তাহের মধ্যে সেই রহস্যময় জঙ্গী স্থাপনা সরানোর যে কথা দেয়া হয়েছিল তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। এর আগে গত সোমবারের জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায়ও এসব স্থাপনা সরানোর বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচানয় স্থান পেয়েছিল। বুধবার উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্টিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল বিশ্বাস সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় সহকারী বন সংরক্ষক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন-উখিয়ার মধুরছড়া সরকারি বনভুমি দখল করে অর্ধশতাধিক যে রহস্যময় স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে এসব এখনো সরানো হয়নি। গত ৯ এপ্রিল সরকারি ৪ শতাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী এসব রহস্যময় স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় এমপি আবদুর রহমান বদির সমঝোতা বৈঠকে এক সপ্তাহের সময় নেয়ায় উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। সরকারি নির্দ্দেশে এসব অবৈধ স্থাপনা শীঘ্রই উচ্ছেদের উপর তিনি তাগিদ দেন। সভায় উপস্থিত রাজা পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উখিয়া ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন-‘এসব স্থাপনা জঙ্গী কার্যক্রমে এবং রোহিঙ্গা পৃষ্টপোষকতার জন্য নির্মাণ করা হয়নি। তবে এগুলো অবৈধভাবে সরকারি বনভুমিতে নির্মাণ করা হয়েছে এটা সত্যি।’ দুর্গম পাহাড়ে ২০/২২ লাখ টাকার একটি মসজিদ সহ একই ডিজাইনের অত্যন্ত পরিকল্পিত অর্ধশতাধিক স্থাপনা নির্মাণে অর্থের উৎস নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী মুখ খুলেননি। সভার সভাপতি ইউএনও হিল্লোল বিশ্বাস এসব অবৈধ স্থাপনা সরানোর কাজটি অত্যন্ত জরুরি এবং অতি দ্রুততার সাথে তা সম্পন্ন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন-দুর্গম পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা না সরালে তা নিয়ে বড় ধরনের সংঘাতও হতে পারে। তাই সময় থাকতেই এসব না সরালে সরকারের প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই সরিয়ে দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*