ঈশ্বর সব মানুষকে আলাদা কিছু গুণ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০২ জানুয়ারী ২০১৭, সোমবার: ‘ঈশ্বর সব মানুষকে আলাদা কিছু গুণ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। কিন্তু সে গুণ আমরা দেখতে পাই না। সবার ভেতরেই নকল করার প্রবণতাটা বেশি। ছোটকাল থেকেই কেউ ভাবে কোনো সিনেমার নায়ক হবে, কেউ ভাবে সঙ্গীতশিল্পী হবে, কেউ ভাবে চিত্রশিল্পী হবে। কিন্তু এ ভাবার বাইরে তার যে নিজস্ব গুণ দিয়ে সে আলাদা কিছু করতে পারে, সে বিষয়ে কোন খেয়ালই নেই তার।’ বলছিলেন ভারতের পরিচয় নাট্যদলের অন্যতম কান্ডারি সুবেন্দু ভান্ডারী। তাদের ‘এলা দিদি’ নাটকের মূল ভাবনার বিষয়টি এভাবেই তুলে ধরেন তিনি। এই নাটক নিয়েই সীমানা পেরিয়ে তাদের বরিশালে আগমন। এখানকার শব্দাবলী স্টুডিও থিয়েটারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নাট্য উৎসবে অন্যতম আকর্ষণ ছিলো তারা। উৎসবের শেষ দিনে আজ সোমবার ‘এলা দিদি’ নাটকটি প্রদর্শিত হচ্ছে।
উৎসবে সুবেন্দু ভান্ডারীর পাশাপাশি এসেছেন পরিচয় নাট্যদলের আরেক কুশীলব ঋতুপর্ণা বিশ্বাস। শব্দাবলী থিয়েটারে বসেই কথা বলেন এই দুই নাট্যব্যক্তিত্ব। জানালেন, বরিশালে এসেছেন ৩১ ডিসেম্বর শনিবার।
নাটকের মূল চরিত্র তথা এলা দিদি চরিত্রে আছেন ঋতুপর্ণা বিশ্বাস। তিনি জানান, ২০০৪ সালে তিনি যখন কলকাতার রবীন্দ্র ভারতীতে স্নাতকোত্তরে পড়াশুনা করছেন তখন পরীক্ষায় তার একটি গল্পের প্রয়োজন হয়। সেসময় নীলা বন্দোপ্যাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি তাকে এ গল্পটি লিখে দেন। সেসময় ওই গল্প দিয়েই নাটক তৈরি করে মঞ্চায়ন করা হতো। ধীরে ধীরে নাটকটির সত্যতাও পাওয়া যায় বিভিন্নভাবে।
সুবেন্দু ভান্ডারীও পড়াশোনা করেছেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এলা দিদি নাটক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের এ নাটকটির কোনো পা-ুলিপি নেই। নাটকটি একেকর সময় একেকভাবে মঞ্চায়ন করা হয়। এ নাটকটিতে কোনো সময় ভাইয়ের চরিত্রে একজন ফুটবলার, কোনো সময় চিত্রশিল্পীসহ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করানো হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ নাটকের সত্যতা উপলব্ধি করতে আমরা পরিচয় নাট্যদল বিভিন্ন কলেজ বা স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলি।’
অভিনয়শিল্পী ঋতুপর্ণা বিশ্বাস পশ্চিবঙ্গের শিলিগুড়িতে বেড়ে ওঠেছেন। ছোটবেলা থেকেই থিয়েটার করছেন। কলেজে ওঠার পর থেকে থিয়েটারকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। থিয়েটার করতে গিয়ে অনেক বাঁধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানালেন ঋতুপর্ণা।
থিয়েটার নিয়ে তারা কেমন আছেন- এ প্রসঙ্গে তারা জানালেন, ভালো আছেন। দুজন এর আগেও বাংলাদেশে এসেছেন, তবে বরিশালে এবারই প্রথম এসেছেন। বাংলাদেশে কাজ করার কারণে কলকাতায়ও তাদের কদর বাড়ছে। এ জন্য বাংলাদেশের যেসব সংগঠক বিভিন্ন সময়ে তাদের আমন্ত্রণ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
তবে দুই বাংলার সার্বিক থিয়েটার চর্চা নিয়ে তারা হতাশ। এ বিষয়ে ঋতুপর্ণা বিশ্বাস বলেন, ‘বলা যায়, বাংলা থিয়েটার এখন আইসিউতে ভর্তি আছে। কারণ ইউরোপের দেশগুলোয় থিয়েটার সম্পর্কে সরকার অনেক সচেতন। সেখানে যারা থিয়েটার করে তারা অনেক সুযোগসুবিধা পায়। কিন্তু দুই বাংলায় এরকম কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই পেশা হিসেবে তরুণরা থিয়েটারকে নিতে পারছে না।’ সুবেন্দু ও ঋতু তবু থিয়েটার আকড়ে আছেন। এ বিষয়ে তারা বলেন, থিয়েটার হচ্ছে বটগাছের মত। এ বটগাছের নিচে সবাই ছায়া নেয়, আবার যারা ছায়া নেয় তারাই সেই গাছটিকে কাটে, থুথু ফেলে। কিন্তু এ বটগাছ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। ছায়া দিয়ে যায় সবাইকে। থিয়েটার নিয়ে তাই তাদের স্বপ্নেরও কোনো শেষ নেই।

Leave a Reply

%d bloggers like this: