ঈদুল ফিতর : প্রাণে প্রাণে বয়ে যাচ্ছে অনাবিল আনন্দধারা

আ ব ম খোরশিদ আলম খান, ২৪ জুন ২০১৭, শনিবার: সর্বজনীন মৈত্রী, ঐক্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এলো ঈদুল ফিতর। বছর ঘুরে ফিরে এলো মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় আনন্দের উপলক্ষ এই ঈদ। মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা শেষে আসা বহুল প্রতীক্ষিত ঈদুল ফিতর ঘিরে চারদিকে পড়ে গেছে সাজ সাজ রব। লেগেছে উৎসবের ঢেউ। প্রাণে প্রাণে আজ বয়ে যাচ্ছে ঈদের অনাবিল আনন্দধারা। হিংসা, বিদ্বেষ, অনৈক্য, বিভাজন ও হানাহানি ভুলে ঈদের দিনে মানুষ পরস্পর জড়াজড়ি, কোলাকুলি ও করমর্দন করে। মানবিক সাম্য-সম্প্রীতির ঐতিহ্যকেই উড্ডীন করে। মানুষে মানুষে বিচ্ছেদ-বিদ্বেষ ঘুচে যায় এই ঈদকে ঘিরে। ধনী-গরিবের মাঝে বিরাজিত পর্বতসম বৈষম্য ও দূরত্ব এই ঈদে উবে গিয়ে রচিত হয় সর্বজনীন প্রেম ও ভালোবাসার সৌধ।
মানবতার কবি নজরুল ঈদ বন্দনায় গেয়ে ওঠেনÑ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/ তুই আপনারে ঈদ উদযাপনের ইতিহাস নতুন নয়। যুগে যুগে প্রত্যেক জাতিই নির্ধারিত দিনে তাদের ঈদ উৎসব পালন করতো। পবিত্র কুরআনেও বিভিন্ন জাতির ঈদ উৎসবের বর্ণনা রয়েছে। হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর সম্প্রদায়ের আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই মিলে একটি উন্মুক্ত প্রান্তরে আনন্দ উৎসব করতো। একবার তারা এতে ইব্রাহীম (আ.)কেও আহ্বান জানালো।Ñ “অতঃপর তিনি তারকাজির প্রতি একবার তাকালেন এবং বললেন, আমি অসুস্থ। অতঃপর তারা তার প্রতি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেলো।” (সূরা আস্সাফ্ফাত-৮৮-৯০)। অনুরূপভাবে হযরত মুসা (আ.)-এর সম্প্রদায়ও নির্ধারিত দিনে ঈদ উৎসব পালন করতো। মুসা (আ.) যখন তাঁর রিসালাতের দাওয়াত নিয়ে ফিরাউনের প্রাসাদে উপস্থিত হলেন তখন “সে বল্লো, হে মুসা! তুমি কি আমাদের নিকট এসেছ তোমার জাদু দ্বারা আমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দিতে? আমরাও অবশ্যই তোমার নিকট অনুরূপ জাদু উপস্থিত করবো। সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে এমন একটা স্থান ও সময় নির্ধারিত করো, যার ব্যতিক্রম আমরাও করবো না তুমিও করবে না। মুসা (আ.) বললেন, তোমাদের নির্ধারিত সময় উৎসবের দিন এবং যেই দিন পূর্বাহ্নে জনগণকে সমবেত করা হবে।” (সূরা ত্বোয়াহা-৫৭-৫৯)। হযরত ঈসা (আ.)-এর সময় তাঁর সম্প্রদায়ের উৎসবের দিনেই আকাশ থেকে খাদ্য ভরা খাঞ্চা নাজিল করা হয়েছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (দ.) যখন মদিনায় হিজরত করেন তখন তিনি মদিনাবাসীদেরকে দেখতে পান তারা ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ নামক দুটি উৎসব পালন করছে। এতে তারা নাচ গান, খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন আনন্দানুষ্ঠান পালন করছে। মহানবী (দ.) এ অনুষ্ঠান দুটির তাৎপর্য জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় যে, তারা প্রাচীনকাল থেকেই এ দুটি উৎসব পালন করে আসছে। তখন নবী করিম (দ.) বললেন, আল¬াহ্তায়ালা তোমাদেরকে দুটি দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দুটি দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা দান করেছেন।
হিজরতের অব্যবহিত পর হতেই ঈদুল ফিতর উৎসব পালন শুরু হয়। উলে¬খিত ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ উৎসব দুটির রীতিনীতি, আচার ব্যবহার ছিল সম্পূর্ণরূপে ইসলাম পরিপন্থী। শ্রেণী বৈষম্য, ধর্ম ও দরিদ্রের মধ্যে কৃত্রিম পার্থক্য, ঐশ্বর্য অহমিকা ও অশালীনতার পূর্ণ প্রকাশে অযাচিতরূপে দীপ্ত ছিল এ দু’টি উৎসব। কিন্তু ঈদুল ফিতর ঘোষিত হবার পর আগের সমস্ত অরুচিকর আচার অনুষ্ঠান বদলে গিয়ে ঈদ যথার্থভাবে কাক্সিক্ষত নির্মল আনন্দে রূপ নেয়। এই মহান পুণ্য দিবসের উদ্যাপন শুরু হয় আজ থেকে ১৩৮৮ বছর পূর্বে। এটি অবশ্য সূর্য ভিত্তিক গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হিসাব। চন্দ্রভিত্তিক আরবি হিজরি বর্ষপঞ্জির হিসাব অনুযায়ী এটি হবে প্রায় ১৪৩৮ বছর পূর্বে। মূলত মুসলমানগণ ঈদুল আজহার চেয়ে ঈদুল ফিতরেই বেশি আনন্দ উৎসব করে থাকে। এই দিনটি নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফ সকলেই এক অনাবিল আনন্দের স্রোতে ভাসিয়ে দেয়। সকলেই এক মাঠে নামাজ পড়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সবার দ্বার থাকে অবারিত। ধনীরা সাদকাতুল ফিতর এর মাধ্যমে নিঃস্ব ও বঞ্চিতকেও তাদের আনন্দের ধারায় শামিল করে নেয়। আমাদের দেশে এই দিনটিতে সকলেই সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন পোশাক ভূষিত হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। সমাজের দরিদ্র শ্রেণীও এদিন থাকে আনন্দাপ্লুত। তাদের পেট সেদিন অভুক্ত থাকে না, তাদের পকেটও থাকে না অর্থশূন্য। ইসলামের অর্থনৈতিক সাম্যের বিধান এ দিনই মূর্ত হয়ে ওঠে। সকলেই নতুন পোশাক পরিধান, একই মাঠে জমায়েত, একই ইমামের পিছনে তাকবির ধ্বনির সাথে নামাজ আদায়, বুকে বুক মিশিয়ে কোলাকুলিÑএক নয়নাভিরাম স্বর্গীয় দৃশ্যের অবতারণা করে। একই দৃশ্য সর্বত্র। দীর্ঘ রোজার পর ঈদুল ফিতর পরিশুদ্ধ আত্মাকে সিরাতুল মুস্তাকিমে অবিচল রাখতে প্রেরণা জোগায় এবং দীর্ঘ তাকওয়ার প্রশিক্ষণকে বাস্তব রূপ দিতে শুরুকরে।
এক টুকরো চাঁদ একটি জাতির জীবনে কতোখানি আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত শাওয়ালের নতুন এক ফালি চাঁদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো ঈদের প্রকৃত চেতনা ও শিক্ষা থেকে আমরা যোজন যোজন দূরত্বে থেকে এর ফযিলত ও মাহাত্ম্য ভুলে গেছি। ঈদ যেন আজ কেবলই আচার-আনুষ্ঠানিকতা ও খেল তামাশায় রূপ নিয়েছে। ঈদের মূল শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ছেড়ে মুসলিম জাতি ক্রমশই ভোগবাদী অপসংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ভোগ সর্বস্ব জীবনই বেছে নিচ্ছে আমাদের অনেকেই। অথচ নিঃস্ব অসহায়দের মুখে হাসি ফোটানোই ঈদের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও শিক্ষা। আজ ঈদের মূল শিক্ষা আমাদের মধ্যে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যথিতের কষ্ট দূর করা ও তার ব্যথাই সমব্যথী হওয়াই ঈদের শিক্ষা। সেই ব্যথিত ব্যক্তি আমার প্রতিবেশী হোক, আত্মীয় হোক কিংবা তার অবস্থান হোক সহস্র যোজন দূরে। নবী করিম (দ.) বলেছেন-মুমিন সমগ্র একটি দেহের ন্যায়। তার কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে গোটা দেহ কষ্ট অনুভব করে। মুমিনদের আত্মাগুলোকে একটি সূত্রে গ্রন্থনই ঈদের মৌলিক আবেদন।
বিগত দিনের পঙ্কিল জীবনচক্রে যে অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব-দূরত্ব তৈরি হয় তা বেমালুম ভুলে গিয়ে সবাই আজ একই কাতারে শামিল। মুসলিম উম্মাহর অনাবিল আনন্দে মেতে উঠার দিন ঈদুল ফিতর প্রীতির এক পুণ্যময় বন্ধনে গ্রথিত করে সবাইকে। বিশ্ব মুসলিম সমাজের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে উদ্ভাসিত হয় ঈদের আনন্দাবেগ। বর্ণ, গোত্র ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে সকল মুসলিমই এ দিনটিতে উৎসবে শামিল হয়। তাই ঈদ মুসলিম জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং ইসলামি কৃষ্টি-সংস্কৃতির শুদ্ধতম বহিঃপ্রকাশ। ঈদ শব্দের অর্থ ফিরে আসা, আনন্দ, খুশি, উৎসব প্রভৃতি। যে খুশির দিনটি মানুষের মাঝে বারবার ফিরে আসে তাই ঈদ। এবারের ঈদুল ফিতর দেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মানবতার বিপর্যস্ত মুহূর্তে শান্তি ও কল্যাণের স্রোতে একাত্ম হবার আহবানে ফিরে এসেছে। ঈদুল ফিতর ডাক দেয় ঘুরে দাঁড়াবার, সত্য ও সুন্দরের পক্ষে গণজাগরণের বার্তা নিয়ে এসেছে ঈদুল ফিতর।
এবার পবিত্র রোজার মাসে বৈরী প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুুষকে যথেষ্ট ভুগিয়েছে। রোজার শুরুতেই ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র তা-বে ল-ভ- হয়ে গেছে কক্সবাজার-চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা। এর আগে ১৩ জুন রাঙামাটি-কাপ্তাই-বান্দরবানসহ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া-রাউজান-ফটিকছড়ি-চন্দনাইশ এলাকায় পাহাড় ধস ও বন্যায় হাজার হাজার মানুষের জীবনে নেমে আসে অশেষ ভোগান্তি ও দুর্ভোগ।
অন্যদিকে এবার অতি বর্ষণে বহু সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশায় ঘরমুখো যাত্রীরা পড়েছে ভোগান্তিতে। গত ২০ জুন ভোরের কাগজের প্রথম পাতায় খবরের শিরোনাম ছিল ‘মহাসড়কের বেহাল দশা, যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা’। ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, যশোর-খুলনার চার মহাসড়কে খানাখন্দের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন আমাদের হতাশই করে তুলে। হাজার হাজার কোটি খরচ করা হয় সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও মেরামতে। তবুও কেন সড়কগুলোর এই বেহাল দশা! এতো টাকা যায় কোথায়! সড়ক নির্মাণ-মেরামতে বরাদ্দ টাকা যে পুরোপুরি খরচ না হয়ে লোপাট হয়ে যাচ্ছে সড়কগুলোর ভগ্ন দশাই এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ। কয়েক দিন আগে ভোরের কাগজের প্রথম পাতায় আরেকটি বড় অক্ষরে প্রকাশিত রিপোর্টের শিরোনাম ছিল ‘তিনস্তরে ঈদের চাঁদাবাজি’। ঈদকে সামনে রেখে চাঁদাবাজ চক্রের বেপরোয়া হয়ে ওঠা, পুলিশ-ভুয়া পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে চলা নীরব চাঁদাবাজি, চাঁদাবাজিতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ইত্যাদি তথ্য উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। এছাড়াও রোজা-ঈদ এলে পরিবহনে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা কিছুতেই প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
রোজা-ঈদকে ঘিরে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানির মতো এই ধরনের ঘৃণ্য অপকর্ম বছর বছর ধরে চলে এলেও এর কোনো প্রতিকার মিলে না। আমরা রোজার মাসে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের কথা বলি। এই কী সংযমের নমুনা! উন্নয়নের টাকা লোপাট করা, চাঁদাবাজির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলা আর যাই হোক সভ্য সমাজে তা প্রত্যাশিত হতে পারে না। বিবেকবান মানুষকে সামাজিক এসব দুষ্টক্ষত এবং দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। রাষ্ট্রকে নিতে হবে কঠোর প্রদক্ষেপ। জনশান্তি-জনস্বস্তি ফিরিয়ে আনা সরকারের কর্তব্য বলেই আমরা মনে করি।
২০১৭ সালে এবারের ঈদুল ফিতর একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমাদের সামনে উপস্থিত। আজ আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর সংকট ও হতাশার মধ্য দিয়ে দিন পার করছি। পৃথিবীতে মানুষ বাড়ছে প্রতিনিয়ত আর তার সঙ্গে পাল¬া দিয়ে ক্রমেই কমছে মানুষের দাম। শান্তি, স্বস্তি নেই কোথাও। সর্বত্র অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস, জুলুম, নিপীড়নের ভেতর দিয়ে আমাদের নিত্য পথচলা। সিরিয়া, ইয়েমেন, কাতার, ইরাক, লিবিয়া, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, লেবানন, কাশ্মিরসহ সর্বত্র মুসলমানরা আজ করুণ অবস্থার শিকার। পরাশক্তির হিংস্র ছোবলে সমগ্র মুসলিম জনপদ আজ ক্ষতবিক্ষত ও দলিত। সেখানে তাদের জীবন ও সম্পদের কোনো নিরাপত্তা নেই। পরাশক্তির অস্ত্রের গোলায় ছিন্নভিন্ন হচ্ছে মুসলিম জনপদ। সুতরাং ঈদুল ফিতরের আনন্দের মুহূর্তে দুর্দশাগ্রস্ত নিপীড়িত মজলুম মানবতার কথাও আমাদের ভাবতে হবে। কিভাবে একটি সুখী সমৃদ্ধ মানবতাবাদী বিশ্ব গড়া যায় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে জাতীয় ও বিশ্বনেতৃত্বকে। শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততা নয়, চারপাশে চোখ মেলে তাকাতে হবে আমাদের। অভাবী, দুঃখক্লিষ্ট নিরন্ন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যে ঈদের আসল শিক্ষা তা আমাদের হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে। মেকি অশ¬¬ীল ভোগসর্বস্ব আনন্দ উৎসবে মত্ত না হয়ে নিগৃহীতদের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে ঈদ পালন করা প্রয়োজন। ঈদের প্রকৃত শিক্ষা অনুধাবনের মাধ্যমে ধনী-গরিব সবার মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় ও মজবুত হোক। বিভেদ বিদ্বেষ ভুলে গড়াগড়ি-কোলাকুলিতে কাটুক এইদিন।
২১জুন ভোরের কাগজের লিড নিউজের শিরোনাম ছিল ‘অভাবের সংসারে কিসের ঈদ’। এতে সুনামগঞ্জের হাওর জনপদের লাখো লাখো মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে। অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওর এলাকায় বাঁধ ভেঙে কৃষকের ফসলহানি ও মাছের মড়কের কারণে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে খাবার সংকট। ঈদ আনন্দে এবার এই অভাবী মানুষগুলো শামিল হতে পারবে না।
এবারের ঈদে অপব্যয় ও অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে এই দুর্গত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। ঈদের আনন্দ কেবল ধনীদের ঘিরে নয়, গরিব দুস্থ অসহায় বানবাসী এবং পাহাড়ধসে বিধ্বস্ত মানুষেরাও যাতে ঈদ উপভোগ করতে পারে-সেই সুযোগ আমাদের করে দিতে হবে। ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার আগে গরিব পরিবারগুলোর ছেলে-মেয়েদের জন্য নতুন পোশাক নিয়ে যাবেন। সাধ্যমতো গরিব দুখীদের দান করবেন। হিসেব করে জাকাত ফিতরা দিয়ে দেবেন। জাকাতের হিসেব হলো ১ লক্ষ টাকায় আড়াই হাজার টাকা দেওয়া। অর্থাৎ মোট সঞ্চিত টাকার চল্লিশ ভাগের এক ভাগ জাকাত দিতে হবে। এক বছর পর্যন্ত কারো মাঝে এক লক্ষ টাকা থাকলে কিংবা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা মজুদ থাকলে হিসেব করে যথা নিয়মে জাকাত প্রদান করে দায়মুক্ত হোন। মনে রাখবেন জাকাত ফিতরা গরিবের হক। জাকাত না দিলে নামাজও কবুল হবে না। সম্পদও অপবিত্র থেকে যাবে। যারা জাকাত দেন না তাদের বিপদাপদ খুব বেড়ে যায়। সম্পদহানি ঘটে। না দেওয়া জাকাতের টাকা বিপদাপদে চলে যায়। তাই গরিবের হক জাকাত প্রদানের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করুন। লেখক:  সাংবাদিক, ইসলামি চিন্তাবিদ

Leave a Reply

%d bloggers like this: