ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে গারাংগিয়ার তরিক্বত সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার: আগামী ১ ফেব্র“য়ারি ২০১৭ইং চট্টগ্রামের লালদিঘির ময়দানে দরবারে আলিয়া গারাংগিয়া কর্তৃক তরিক্বত সম্মেলন-২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে ২৯ জানুয়ারি (রবিবার সকাল ১০টায়) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দরবারে আলিয়া গারাংগিয়ার সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক তরিক্বত সম্মেলনের প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এন্তেজামিয়া কমিটির যুগ্ম আহবায়ক, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক আলহাজ্ব আহমদুল ইসলাম চৌধুরী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এন্তেজামিয়া কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম, ড. মাওলানা এনামুল হক, শাহ মজিদিয়া ইসলামী কমপ্লেক্স সেক্রেটারী আহমদ হোসেন চৌধুরী, অধ্যাপক শাহজাদা মাওলানা মহিউদ্দিন, শাহজাদা মাওলানা এটিএম রশিদ উদ্দিন শাহীন, মোজাহেরুল হক চৌধুরী, মোজাফফর আহমদ মুনির, মো. আবুল ফয়েজ, আহমদ হোসেন চৌধুরী, সোহেল মো. ফখরুদ-দীন, হাকিম মোহাম্মদ উল্লাহ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলহাজ আহমদুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে আগামী বুধবার চট্টগ্রামের লালদিঘির ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য দরবারে আলিয়া গারাংগিয়ার তরিক্বত সম্মেলন অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান কালে আমাদের দেশে তরিক্বত তথা সুফীজমের কথা জনগণের মাঝে পৌঁছানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সেই লক্ষ্যে দরবারে আলিয়া গারাংগিয়ার পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম লালদিঘি ময়দানে তথা বৃহত্তর পরিসরে তরিক্বত সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের একটি বড় অংশ তরিক্বত থেকে দূরে থাকায় পথভ্রষ্ট হচ্ছে। সুফীজম তথা তরিক্বত মানুষের মনে আল্লাহ ভীতি জাগরুক রাখে। তরিক্বত আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভে সহায়ক শক্তি। দেশে গারাংগিয়া দরবার সেই ব্রিটিশ আমল থেকে শরীয়তের পাশাপাশি তরিক্বতের খেদমত করে যাচ্ছে। বিশেষ করে কুতবুল আলম সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ মাওলানা আবদুল মজিদ (রহ.) (প্রকাশ বড় হুজুর কেবলা) ১৯২০ খৃষ্টাব্দে গারাংগিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। পরের বছর ভারতের উত্তর প্রদেশের হযরত শাহ মাওলানা হাফেজ হামেদ হাছন আলভী আজমগড়ী (রহ.)’র কাছে তরিক্বতে দাখিল হন। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে খেলাফত লাভ করেন। শরীয়তের পাশাপাশি তরিক্বতের খেদমতে নিজেকে আত্মনিয়োগ রাখেন। তাঁরই অনুজ হযরত শাহ মাওলানা আবদুর রশিদ হামেদী সিদ্দিকী (রহ.) (প্রকাশ ছোট হুজুর কেবলা) বড় ভ্রাতার অনুকরণে ১৯২৮ খৃষ্টাব্দে আজমগড়ী হযরতের হাতে তরিক্বতে দাখিল হন এবং ১৯৫৫ খৃষ্টাব্দে খেলাফত লাভ করেন। তিনিও গারাংগিয়া মাদরাসার খেদমতের পাশাপাশি তরিক্বতের খেদমত আঞ্জাম দেন। বিশেষ করে বড় ভ্রাতা ও অভিভাবক হযরত বড় হুজুর কেবলা ১৯৭৭ খৃষ্টাব্দে ইন্তেকাল করলে তরিক্বতের বিশাল খেদমতে তিনি নিজেকে আত্ম নিয়োজিত রেখে ১৯৯৪ খৃষ্টাব্দে তিনিও ইন্তেকাল করেন। উভয় হুজুর মহান অলি গারাংগিয়া দরবারে চিরনিদ্রায় শায়িত। তাঁদের রেখে যাওয়া অসংখ্য তরিক্বতের জাংশন দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শতের মত খলিফা, হাজার হাজার আলেম, লক্ষ লক্ষ ভক্ত-অনুরক্ত মুরিদগণের মধ্যে অনেকে ইন্তেকাল করে গেছেন। এ দিকে দেশে সুফীজমের ব্যাপকতা আগের মত না থাকায় দেশে বাতিল ফেরকা, মাযহাবকে অস্বীকারকারীর সংখ্যা বাড়তেছে। এমনি প্রতিকূল অবস্থায় তরিক্বত তথা সুফীজমের বৃহত্তর স্বার্থে গারাংগিয়া দরবারের পীর সাহেব হযরত আলহাজ্ব শাহ মাওলানা মাহমুদুল হক মজিদী দরবারে আলিয়া গারাংগিয়ার পক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বৃহত্তর পরিসরে তরিক্বত সম্মেলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এতে গারাংগিয়া দরবারের পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম, ভক্ত-মুরিদগণ এ মহান উদ্যোগ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন। দেশের স্বার্থে বৃহত্তর পরিসরে এ রকম তরিক্বত সম্মেলন আবশ্যক।

Leave a Reply

%d bloggers like this: