ইসলামি সাহিত্য সংস্কৃতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক হযরত মুহাম্মদ (স.): পীর ছাহেব বায়তুশ শরফ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ ডিসেম্বর, রবিবার: বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স্ঃ) উদ্যাপন উপলক্ষে চারদিন ব্যাপি ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানমালায় মনোজ্ঞ ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান1 “পাখ-পাখালির আসর” গত ১০ ডিসেম্বর বাদে মাগরিব চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধ্যাত্মিক দ্বীনি শিক্ষা নিকেতন বায়তুশ শরফ দরবারের মাননীয় পীর ছাহেব বাহ্রুল উলূম শাহসূফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (মঃজিঃআঃ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন- ইসলামি সাহিত্য সংস্কৃতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক হযরত মুহাম্মদ (স.)। সাহিত্য সংস্কৃতি সমাজের দর্পণ। সমাজকে সঠিক পথ নির্দেশ দানের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাহিত্যের আবেদন হলো মানুষের মন ও অনুভূতির কাছে। মন বা অনুভূতি মানুষকে যেভাবে, যে পথে তাড়িত করে, সেটাই হয় সেই নির্দিষ্ট মানব সমাজের লক্ষ্য বা আদর্শ। সেজন্য সাহিত্য সংস্কৃতির যারা চর্চা করেন, তাদের সৃষ্টিকর্মে উৎসাহ প্রদান যেমন প্রয়োজন, আবার তাদেরকে যথোপযুক্ত পথ নির্দেশনা প্রদান আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলে পাক স. প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অনুপ্রেরণা উৎসাহ আর সহযোগিতা যে ইসলামি সাহিত্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে প্রভূত প্রভাব ফেলেছিল তা অস্বীকারের কোন প্রশ্নই উঠেনা। তাঁর চতুষ্পার্শে যে সকল আলোর আবাবিল, সাহাবা কিরাম রা. ছিলেন তাঁদের অনেকেই সে সময়ের একেকজন বিখ্যাত কবিও ছিলেন। কবি লাবীদ, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, কা’ব ইবনে মালিক ও হাস্সান ইবনে সাবিত রা. সহ প্রচুর কবির নাম উল্লেখ করা যায়। তাঁদের মধ্যে এমনও ছিলেন যাঁরা আবৃত্তি করতে করতে তরবারী কোষমুক্ত করে শত্রুপানে অগ্রসর হয়েছেন। আবার কেউ কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে করতে শূলিকাষ্ঠের দিকে এগিয়ে গেছেন আর হাসতে হাসতে শাহাদাত বরণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে হযরত খুবায়ব রা. এর কথা উল্লেখ করা 2যায়। মহানবী স. সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি উদার পৃষ্ঠপোষকতার উদাহারণ স্বরূপ বলা যায়- ইসলাম গ্রহণের পর কা’ব ইবনে যুহায়র একটি বিখ্যাত প্রশস্তি গাথা- ‘বানাত সু’আদ’ রচনা করেন। এই ‘বানাত সু’আদ’ কবিতাটি শুনে রাসুল সা. এতোই অভিভূত হয়ে পড়েন যে, তিনি তাঁর নিজ কাঁধ থেকে অতিমুল্যবান চাদরটি কবিকে উপটৌকন হিসেবে দিয়ে তাঁকে বিরল সম্মানে ভূষিত করেন। এমনকি রাসুল পাক স. মসজিদে নববীতে কবি হাস্সান ইবনে সাবিত রা. এর জন্য একটি উঁচু মিম্বরও তৈরি করে দিয়েছেন। সুতরাং সমাজ উন্নয়নে চাই ইসলামী সাংস্কৃতির বিকাশ। সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকা- উপহার দেয়ার জন্য ইসলামী সাংস্কৃতিক শিল্পীদেরকে নৈতিক গুণে বলীয়ান হতে হবে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আই. এম এস গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক আলহাজ্ব আবুল বশর আবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিলাদুন্নবী উদ্যাপন কমিটির আহক্ষায়ক আলহাজ্ব রফিক আহমদ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (এম.এ) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক ড. মাওলানা সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান, আলহাজ্ব মীর মোহাম্মদ আনোয়ার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আল্হাজ্ব লুৎফুল করিম, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন কমিটি ২০১৬ যুগ্ম আহক্ষায়ক মাওলানা ওবাইদুল্লাহ, খতিব মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা মামুনুর রশিদ নূরী, মাওলানা কাজী জাফর আহমদ, মাওলানা নুরুল আলম ফারুকী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এ.বি.কে. মহিউদ্দীন শামিম, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক, আল্হাজ্ব মিফতাহুল হুদা, হাজী আহমদ হোসাইন, আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন, হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, মাওলানা আব্দুল হাই নদভী, মাওলানা সালাহ উদ্দীন বেলাল, মাওলানা হাফেজ নিজাম উদ্দীন, মাওলানা কাজী শিহাব উদ্দীন, মাওলানা আব্দুশ শাকুর, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, মাওলানা নুরুদ্দীন মাহমুদ, মোঃ মাহমুদ হাসান, মীর মোহাম্মদ হাসান জাবেদ ফরহাদ, মুহাম্মদ আনাস খান, মুহাম্মদ এহছানুল হক মিলন প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন- মাসিক দ্বীন-দুনিয়ার সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ।
এ বছর বায়তুশ শরফ আন্জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে যে চারজন বিশিষ্ট গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা ও বায়তুশ শরফ স্বর্ণপদক প্রদান করবেন তারা হলেন- ১) দ্বীনি শিক্ষার প্রচার-প্রসার, ইলমে হাদীস চর্চা ও শিক্ষা প্রদান এবং গবেষণার মাধ্যমে স্বীয় ধর্মের সৌন্দর্য্য প্রস্ফুটিত করার ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ- ড. মাওলানা সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান, অধ্যক্ষ, বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা, ধনিয়ালাপাড়া, চট্টগ্রাম। ২) একজন দায়িত্বশীল, সৎ কর্মকুশলী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শৃংখলা বিধান করে দেশ ও জাতির উন্নতির ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ- জনাব আ.ফ.ম সুলায়মান চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৩) স্বীয় কর্ম প্রচেষ্ঠায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও সমাজসেবার মাধ্যমে অগণিত মানুষের কল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ- জনাব আলহাজ্ব এম.এম. সিরাজুল ইসলাম, মহা-পরিচালক, বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স, বায়তুশ শরফ সড়ক, কক্সবাজার। ৪) চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে দুস্থ মানবতার কল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ- জনাব ডা. মোহাম্মদ জামাল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইএনটি) ন্যাশনাল হসপিটাল, চট্টগ্রাম।

উল্লেখ্য যে, আগামীকাল ১২ই ডিসেম্বর রোজ সোমবার (১) ফোরকানিয়া প্রতিযোগিতা (তিন বিভাগে) সকাল ৯ টায়। ২) আযান প্রতিযোগিতা সকাল ১০.৩০ মিনিটে। (৩) ক্বেরাত প্রতিযোগিতা ক) জুনিয়র গ্রুপ সকাল ১১.৩০ মিনিটে এবং খ) সিনিয়র গ্রুপ- দুপুর ২.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে সর্বস্থরের মুসলিম ভাইদের প্রতি দাওয়াত রহিল।
পরিশেষে বায়তুশ শরফের মাননীয় পীর ছাহেব বাহরুল উলুম শাহসুফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (মঃজিঃআঃ) মাহফিলের সফলতার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*