ইসলামই একমাত্র মুক্তির পথ

Mohammed Hosain-12-12-14মোহাম্মদ হোসেন
হযরত ঈসা (আঃ) এর যুগের কিছু কাল পরে যখন দুনিয়াবাসী বিশেষ করে আরব জাতি আল্লাহর নির্দেশিত পথ হতে বহুদূরে নিক্ষিপ্ত হয়ে উদভ্রান্তের মত চতুর্দিকে অন্ধকার দেখছিল, এমন সময় আল্লাহতায়ালা দুনিয়ার অন্ধকারে নিমজ্জিত, মানব গোষ্ঠিকে আলোর সন্ধান ও মুক্তির পথ দেখার উদ্দেশ্যে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) কে  তৃণলতাহীন মরুভূমির দেশ আরবে প্রেরণ করেন। এ কারণেই শেষ যুগের অন্ধকারের একমাত্র আলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। এ জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুলে করিম (সাঃ) কে সিরাজম মনিরা নামে আখ্যায়িত করেন। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, হে মোহাম্মদ আপনাকে দুনিয়াবাসীর সম্মুখে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষীরূপে মানুষের ভাল মন্দের সু-সংবাদ দাতারূপে আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াতকারী রূপে এবং দুনিয়ার ফেসক ও কুফরীর অন্ধকারের প্রজ্জল সূর্যলোকরূপে পাঠিয়েছি।
অতএব, অন্ধকারাছন্ন বিশ্বকে আলোকিত করার জন্য একমাত্র রাসুলে করীম (সঃ)ই আফতাবে হেদয়ত বা পথ প্রদর্শক প্রদীপ। তার নির্দেশিত পথ হারালে মানব গোষ্ঠী কোন ক্রমেই পরিত্রাণ পেতে পারে না।
যেহেতু রাসুলে কারীম (সাঃ) রাহমাতুল্লিল আলামিন বা বিশ্ব শান্তিরূপে জগতে পদার্পন করেছেন, তাহার আল্লাহর পথে শান্তি ও এই মুক্তির আহ্বান, ব্যাপকভাবে বিশ্বের প্রত্যেক কোনায় কোনায় অবশ্যই পৌঁছবে। তিনি কেবল নির্দিষ্ট কোন কওমের হেদায়ত কল্পে প্রেরিত হননি বরং বিশ্বের সমগ্র মানব জাতির নাজাত বা মুক্তির লক্ষ্যেই প্রেরিত।
রাসুলে করিম (সঃ) ইহ জগতে প্রেরিত হয়ে এ কথা বলেনি যে আমি শুধু বণী ইসরাইলদেরকে ফেরাউনের অত্যাচার ও দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য প্রেরিত হয়েছি, বরং তিনি বলেছেন আমার প্রেরণের একমাত্র উদ্দেশ্য হল, নিখিল বিশ্বে মানব জাতীকে আল্লাহ ছাড়া অন্য সব মাবুদ বা দেবদেবীর পূজা ও দাসত্ব হতে মুক্তি দেয়া।
অনুরূপভাবে তিনি শুধু ইসরাইল বংশের পরিত্যক্ত আদর্শ ও গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য আসেননি, বরং তিনি সমগ্র দুনিয়ার এবং সকল সম্প্রদায়ের পরিত্যক্ত আদর্শ ও গৌরব পুনরুদ্ধারে এবং আল্লাহর পথে দাওয়াত দিয়ে পুনরায় ইসলাম ও আল্লাহর একত্ববাদের ডনকা বাজানোর মানসেই প্রেরিত হয়েছেন।
বিশ্বের বুকে আল্লাহর পথে দাওয়াতের ডন্কা যত জনই বাজিয়ে থাকুক না কেন, বিশ্ব যদি তাদের ভুলে যায়, তবে সমগ্র বিশ্বের সেইরূপ কোন ক্ষতি সাধন হবে না। কেবল কতিপয় বিশেষ জাতি ও দেশের ক্ষতি হতে পারে। কেন না তারা মাত্র নির্দিষ্ট কওম বা গোত্রের হেদায়েতের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু দুনিয়াবাসী যদি রবিউল আওয়াল মাসে আল্লাহর অপূর্ব দানকে ভুলে যায়, তবে গোটা দুনিয়ার মানবজাতি পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে- যাদের কল্যাণ ও মুক্তির উপায় থাকবে না, কেন না রবিউল আওয়ালে আল্লাহর অপূর্বদান রাসুলে কারীম (সঃ) শুধু কোন দেশ বা জাতি বিশেষের নয় বরং সমগ্র বিশ্বের রহমত বা শান্তিরূপে প্রেরিত। এই মহামানব দুনিয়াবাসীর জন্য যেই শান্তি বা ইসলামের পথ দেখাইয়া গিয়েছেন, সেই পথেই হচ্ছে একমাত্র শান্তি ও মুক্তির পথ। সুতরাং ইসলামই একমাত্র মুক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*