‘ইনহেলারের ব্যবহার হাঁপানি রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন, ইনহেলারের ব্যবহার হাঁপানি রোগ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তাই রোগীদের এই যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর পালমোনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ বলেন, হাঁপানি রোগীদের চিকিৎসায় ইনহেলারের ব্যবহার একটি কার্যকর পদ্ধতি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বেশিরভাগ রোগী ইনহেলারের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানেন না।
এই চিকিৎসক বলেন, হাঁপানি একটি দুরারোগ্য রোগ, এর ফলে শ্বাসকষ্ট, বুকটান ও কাঁশি হয়। হাঁপানির ওষুধ ইনহেলারের মাধ্যমে রোগীর শ্বাসনালীতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট কমিয়ে তার স্বস্তি দেয়। অবশ্যই রাতে বা ভোরে ঠান্ডার কারণে হাঁপানি রোগীর কাঁশি হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বায়ু দূষণসহ বংশগত ও পরিবেশগত কারণগুলোও এই রোগে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
ডা. শামীম বলেন, এই রোগের জন্য জন্মগত কারণও রয়েছে এবং এই রোগের উপসর্গ অভিভাবক থেকে শিশুর মাঝে বিস্তার করে। কিন্তু শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বিশেষ করে শৈশবে ভাইরাস আক্রমণসহ এর জন্য অন্য কারণও রয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে হাঁপানিতে রূপ নেয়।
চিকিৎসক বলেন, নগরীর বায়ুদূষণ এর জন্য অন্যতম প্রধান কারণ। কিন্তু পশুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহার ও অন্যান্য জীবাণুও হাঁপানি রোগের অন্যতম কারণ।
ডা. শামীম বলেন, বিভিন্ন সংক্রামক রোগ যেমন, এলার্জি রাইনাটিকস, হাঁপানি এবং এলার্জি ওঠাসহ বিভিন্ন উপসর্গ হাঁপানি বৃদ্ধির জন্য গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলের মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে হাঁপানি রোগের প্রকোপ গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরে বেশি। ডা. শামীম বলেন, সাধারণত এটি নিরাময়যোগ্য রোগ না, কিন্তু সচেতন জীবনযাপন এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম উপায়।
দীর্ঘদিন স্ট্রয়েড ব্যবহারে পার্শপ্রতিক্রিয়া থাকায় এখন পর্যন্ত হাঁপানির সর্বত্তম চিকিৎসা হিসেবে ইনহেলারকেই বিবেচনা করা হয় বলে তিনি জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ৭০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ হাঁপানি রোগে ভুগছে এবং বেশিরভাগ রোগীর এই রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে এর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হাঁপানি রোগী যাতে না বাড়ে তাই এ ব্যাপারে তিনি ব্যাপাক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডা. শামীম বলেন, সরকার ও বিএসএমএমইউ হাঁপানি রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, জনগণকে হাঁপানি রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে এ বছরও অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও মে মাসের প্রথম মঙ্গলবার বিশ্ব হাঁপানি দিবস পালিত হয়। -বাসস

Leave a Reply

%d bloggers like this: