ইউসুফ (আ.)-এর হাতেই আল্লাহ মিসরের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

৫৬. এভাবেই আমি ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছি। সে [ইউসুফ (আ.)] যেখানে ইচ্ছা বসবাস করতে পারত। আমি যাকে ইচ্ছা তার প্রতি দয়া করি। আমি সত্কর্মপরায়ণদের কর্মফল নষ্ট করি না।

৫৭. যারা ইমানদার ও পরহেজগার, তাদের জন্য পরকালের পুরস্কারই উত্তম। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫৬-৫৭)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মিসরের রাজা ইউসুফ (আ.)-কে দরবারে ডেকে আনেন। তিনি তাঁর সঙ্গে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। তাঁকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করেন। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, ইউসুফ (আ.)-কে মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করার ক্ষমতা রাজার ছিল না। যদিও বাহ্যত কাজটি রাজার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলা কুদরতিভাবে এর প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন। তিনি চেয়েছেন ইউসুফ (আ.)-কে ধৈর্য ও ইমানের প্রতিদান দিতে। ফলে আল্লাহ তাআলা ইউসুফ (আ.)-এর জ্ঞান, প্রতিভা ও মর্যাদা সবার কাছে প্রকাশিত করেন।

প্রকৃতপক্ষে কোনো মানুষ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে না। রাজ্য হোক বা প্রভুত্ব, তাতে একচ্ছত্র অধিকার একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দান করেন। আবার যখন ইচ্ছা তিনি তা ছিনিয়ে নেন। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলে দাও, হে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করো, আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ২৬)

আলোচ্য আয়াতে আরো বলা হয়েছে—‘সে [ইউসুফ (আ.)] যেখানে ইচ্ছা বসবাস করতে পারত। ’ অর্থাৎ গোটা মিসর ইউসুফ (আ.)-এর অধিকারভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তিনি দেশের যেকোনো স্থানে অনায়াসে আবাস গড়ে তুলতে পারতেন। কোনো স্থানে বসতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁকে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা কারো ছিল না। মোট কথা, সে দেশের ওপর ইউসুফ (আ.)-এর পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটাই আয়াতে বলা হয়েছে।

ভালো কাজের মতো মন্দ কাজের শাস্তি ও কেবল পরকালের জন্য নির্ধারিত নয়, বরং প্রতিটি পাপের জন্যই রয়েছে পার্থিব সাজা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘জলে ও স্থলে নৈরাজ্য প্রকাশ পেয়েছে, এটা হয়েছে মানুষের কৃতকর্মের কারণেই। ’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৪১)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘গুরু শাস্তির আগে আমি তাদের অবশ্যই লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা (হেদায়েতের পথে) ফিরে আসে। ’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ২১)

Leave a Reply

%d bloggers like this: