আল্লাহর আইন না মানার কারণেই দুর্নীতি ও অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে: ইসলামী সমাজের আমীর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর, শনিবার: ইসলামী সমাজের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, মানবতার মুক্তির দিশারী এবং একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পরিপূর্ণ কল্যাণকর রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর জন্ম রবিউল আউয়াল মাসে ও ৪০বছর বয়সে তাঁকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবূয়াত ও রিসালাত দান করেন এবং ৬৩ বছর বয়সে মানব জাতির জন্য উত্তম আদর্শ রেখে রবিউল আউয়াল মাসেই তিনি দুনিয়া থেকে চির বিধায় গ্রহণ করেন। আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা ইসলামের ভিত্তিতে রাসূলের (সাঃ) নেতৃত্বেই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, শোষণ ও জুলুমসহ সকল অপতৎপরতা নির্মূল হয়ে মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের সকল অধিকার নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসরণ ও অনুকরণে আল্লাহরই আইন-বিধানের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত ও পরিচালিত না হওয়ার কারণেই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জুলুম ও শোষণসহ বিভিন্ন রকম অপতৎপরতা মানুষের জীবনকে গ্রাস করেছে। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনূুসরণ ও অনুকরণে সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার সুযোগ রেখে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই আইন-বিধানের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত ও পরিচালিত হলেই মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, ফলে মানবাধিকার নিশ্চিত হবে এবং দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস সহ সকল অপতৎপরতা নির্মূল হয়ে শোষনমুক্ত সমাজ গঠিত হবে।
ইসলামী সমাজ চট্রগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে মোঃ জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ৩০ ডিসেম্বার বিকাল ৪টায় চট্রগ্রাম মহানগর পুরাতন রেল স্টেশন বটতলীতে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সংগঠনের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, মানব রচিত ব্যাবস্থা চরম দুর্নীতি, মানব রচিত ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠিত রেখে এবং এর অধীনে জীবন যাপন করে দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ, শান্তি ও আখিরাতের জীবনে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে চির সুখের স্থান জান্নাত লাভ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ, শান্তি ও আখিরাতের জীবনে মুক্তি লাভের লক্ষ্যে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘ইসলাম’ তথা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা করাই ঈমানদারগণের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী দায়িত্ব, এ দায়িত্ব পালনের মধ্যেই নিহিত আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে গণতন্ত্রের অধীনে জোট, ভোট ও নির্বাচন এবং যে কোন উগ্রপন্থা ও সশস্ত্র লড়াই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভের পদ্ধতি নয় উল্লেখ করে ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহরই সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের প্রতিনিধিত্বকারী আমীর আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনুসরণ ও অনুকরণে মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানব রচিত ব্যাবস্থার ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত সমাজের বিপরীতে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীনে তাঁরই দাসত্ব, আনুগত্যের ভিত্তিতে দাওয়াত কবুলকারী ঈমানদার সৎকর্মশীলগণের সমাজ গঠন করবেন এবং সমাজ গঠন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ঈমানের সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ঈমাদারদেরকে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দান করবেন। আর তখনি রাসূল (সাঃ) এ অনুসরণ ও অনুকরণে ঈমানদার আমীরের নেতৃত্বে সমাজ ও রাষ্ট্রে পর্যায়ক্রমে ইসলামের আইন-বিধান কার্যকরী হবে। এটাই ঈমাদারগণের রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভের এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসূল (সাঃ) এর প্রদর্শিত একমাত্র পদ্ধতি। ইসলামী সমাজ আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসূল (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতেই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর মাধ্যমে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি এ লক্ষ্যে ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
মুহাম্মাদ রহুল আমীনের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল, মুহাম্মাদ ইয়াছিন, মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী, মুহাম্মাদ আমীর হোসাইন ও ইসমাইল দারীয়া প্রমুখ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: