আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদন খারিজ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৫ মে ২০১৭, সোমবার: মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এবং খালাস চেয়ে জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে তার আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজাই বহাল থাকল। আর রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তির ফলে এই মামলা নিয়ে কোনো পক্ষের আর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ রইল না।
সোমবার সকালে সাঈদীর ফাঁসি চেয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আপিল বিভাগ তার এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। রবিবার খালাস চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেম সাঈদীর আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়্যারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন।
বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হুসেইন হায়দার। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জামায়াত নেতা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। আপিল বিভাগ ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়।
২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর পাঁচ দিন পর ১৭ জানুয়ারি রায় থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন সাঈদী।
আবেদন করার প্রায় দেড় বছর পর গতকাল শুরু হয় রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি। প্রথম দিন আদালতে বক্তব্য দেন সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের বক্তব্যের পর আদালত শুনানি মুলতবি করে সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে বক্তব্য দেয়ার নির্দেশ দেয়। সে হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল আজ রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
যেসব কারণে ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দণ্ড
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীর ফাঁসির আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে সাঈদী মৃত্যুদণ্ড পান বিসাবালী ও ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার দায়ে।
ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন, মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘর পাকিস্তানি বাহিনীকে চিনিয়ে দেয়া এবং জোর করে ধর্মান্তকরণের ছয়টি অভিযোগ প্রমাণ হয় সাঈদীর বিরুদ্ধে। তবে দুটি অভিযোগে ফাঁসির দণ্ড দেয়ায় ট্রাইব্যুনাল আর এই ছয় অভিযোগে তার সাজা ঘোষণা করেনি।
এরপর সাঈদী যেমন খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেন, তেমনি রাষ্ট্রপক্ষও এই ছয় অপরাধে সাজা চেয়ে আপিল করে।
দণ্ড কমায় আপিল বিভাগ
২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে।
ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা এবং বিসাবালিকে হত্যার যে অভিযোয়ে ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতার ফাঁসি দিয়েছিল, আপিল বিভাগের বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সে বিষয়ে একমত হতে পারেননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ (তিন) বিচারক সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমানোর পক্ষে ছিলেন। এ ছাড়া একজন বিচারপতি মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল এবং অপরজন ওই দুটি অভিযোগ থেকে খালাসের পক্ষে ছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যার অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দিলেও এই অভিযোগের একাংশের জন্য তার ১২ বছরের সাজা দেয়া হয়। আর বিসাবালি হত্যার জন্য দেয়া হয় আমৃত্যু কারাদণ্ড।
সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছেন আরও দুটি অভিযোগে। এর মধ্যে আছে ইন্দুরকানি উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুল আলম হাওলাদারের বড় ভাই আবদুল মজিদ হাওলাদারকে নির্যাতন এবং বাড়িঘর লুট; হোগলাবুনিয়ার হিন্দুপাড়া আক্রমণ করে এক নারীকে ধর্ষণ ও লুটপাট এবং পাড়েরহাট বন্দরের গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহার বাড়ি থেকে তার তিন বোনকে অপহরণ করে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেয়া ও এক থেকে দেড়শ হিন্দুকে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*