আলী রজার রচনা আলোচিত হচ্ছে বিশ্বসাহিত্যে: চবি উপাচার্য

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ জানুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, বৃহস্পতিবার: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মধ্যযুগের কবি আলী রজা ওরফে কানু শাহ ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতাবাদের কবি। আলী রজা ছিলেন মরমী সাধক, চট্টগ্রাম তথা বাংলায় তিনি সুফীবাদের আধ্যাত্মিক উত্তরসূরী। চট্টগ্রামে সুফীবাদ-প্রেমবাদের ধারায় সিক্ত সুফী-সংগীত ও বৈষ্ণব ভাবগীতির পথিকৃৎ রচয়িতা হলেন আলী রজা। আজ থেকে ১০২ বছর আগে ১৯১৭ সালে (বাংলা ১৩২৪) আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের স¤পাদনায় কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে আলী রজার কাব্যগ্রন্থ ‘জ্ঞানসাগর’ প্রকাশিত হয়েছে। এই ‘জ্ঞানসাগর’ এখন শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বিশ্বসাহিত্যেও আলোচিত হচ্ছে। যদি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ না জন্মাতেন, তাহলে হয়তো বাংলা সাহিত্যের অমর কবি আলী রজার খবরও আমরা পেতাম না।’
গত ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার, ‘আঠারো শতকের কবি আলী রজা ওরফে কানু শাহ’ শীর্ষক সেমিনারে ড. ইফতেখার এসব কথা বলেন। আনজুমানে মোত্তাবিয়ানে কানু বাবা (র) এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে মো. সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন লোকসংগীত গবেষক ও দৈনিক সমকালের সিনিয়র সাব এডিটর নাসির উদ্দিন হায়দার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদীর ফিচার স¤পাদক প্রদীপ দেওয়ানজী, শাহজাদা মৌলানা এমদাদুল হক সিদ্দিকী, ডেইলি স্টারের ব্যুরো প্রধান তুষার হায়াত চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পীরজাদা হাফেজ মৌলানা নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধে নাসির উদ্দিন হায়দার বলেন, আলী রজার বৈষ্ণব গীতে হিন্দু-মুসলমানি ভাব সংশ্লেষে আধ্যাত্মিকতা পরিস্ফুট। বৈষ্ণব পদে রাধা-কৃষ্ণের লীলার বর্ণনা পাওয়া যায়। এ কারণে সাহিত্যিকরা তাকে ‘মুসলমান বৈষ্ণব কবি’ বলে সাব্যস্ত করেছেন। একজন ধর্মসাধকের সংগীতে হিন্দু-মুসলিম ভাবের সংমিশ্রণ বিরল। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, কানু ফকির ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধক, সিদ্ধ পুরুষ। আধ্যাত্মিক সাধকরা ধর্মসাধনার মাধ্যমেই ধর্মেরও ঊর্ধ্বে উঠে যান, তারা প্রকৃতপক্ষে মানুষকে ‘মানুষ’ হওয়ার শিক্ষা দেন।
সেমিনারের এক পর্যায়ে পুঁথি সংগ্রাহক ও গবেষক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (মরণোত্তর), বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ গবেষক ড. আহমদ শরীফ (মরণোত্তর), ইতিহাস গবেষক জামাল উদ্দিন, লোকসাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক শামসুল আরেফীন এবং আলী রজা গবেষক এসএম আবদুল আলীম (মরণোত্তর)-কে সাহিত্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর হাত থেকে জামাল উদ্দিন ও শামসুল আরেফীন সাহিত্য সম্মাননা গ্রহণের পরে তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। জামাল উদ্দিন বলেন, আলী রজা উঁচু দরের কবি। তাঁর সকল রচনা প্রকাশিত হলে তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। শামসুল আরেফীন বলেন, আলী রজা আঠারো শতকের শক্তিমান কবি। তিনি অনেক পুঁথি রচনা করেন। যেমন, জ্ঞানসাগর, আগম, শাহনামা, যোগকালন্দর, রাগতালনামা প্রভৃতি। এছাড়া তিনি অনেক গানও রচনা করেন। তাঁর এসব পুঁথি ও গানের সাহিত্যমান অনেক উন্নত। তাঁর জ্ঞানসাগর পুঁথিটির ভাবসম্পদে বিমোহিত হয়ে পুঁথিটি এক আমেরিকান গবেষক ‘ঙপবধহ ড়ভ খড়াব’ নামে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেছেন।
শেষে কানু শাহর গান পরিবেশন করেন মরমী শিল্পী আহমেদ নুর আমিরী ও গীতা আচার্য।

Leave a Reply

%d bloggers like this: