আরেফিন মেহনতী সমবায় সমিতির কারবালা স্মরণে মিলাদুন্নবী (সা.)

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৫ নভেম্বর: আরেফিন মেহনতী বহুমুখী সমবায় সমিতির উদ্যোগে শোহদায়ে কারবালা স্মরণে মিলাদুন্নবী (দ.) ও জিক্র মাহফিল গত ৪ নভেম্বর, বুধবার, Arafin Nagar Milad-04-11-15বিকাল ৩ টা হতে সরারাত ব্যাপি আরেফিন মেহনতী বহুমুখী সমবায় সমিতির আহবায়ক ছমিউল আলম বাদশা মিয়ার বাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছদারত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন দরবারে কামালিয়া শরীফের পীর, পীরে কামেল হযরতুলহাজ্ব মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ সিদ্দিক রেজা (ম.জি.আ.), শাহাদাৎ-এ কারবালা স্মরণে তকরীর পেশ করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস, ফকি ও মুফতি সৈয়দ অছিয়ুর রহমান আল কাদেরী। শাহাদাৎ-এ কারবালা স্মরণে তকরীর পেশ করতে গিয়ে দরবারে কামালিয়া শরীফের পীর সাহেব বলেন, কারবালার প্রান্তরে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর পরিবারের উপর সংঘটিত জুলুমকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য ইয়াজিদি অনুসারীরা বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অনেকে বেয়াদপী করতে পারে এই প্রশ্ন করে যে হযরত ইমাম হোছাইন (রঃ) নিজে তাঁবুতে বসে থেকে অন্যদের যুদ্ধে পাঠান। মূলত উনারা দ্বীনে মোহাম্মদী ও মউলায়তকে হেফাজত করার জন্য শাহাদাত বরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইয়াজিদ চেয়ে ছিল হযরত জয়নুল আবেদীন (রঃ) জুমার খুতবায় তার নাম উল্লেখ করুন। কিন্তু বালক হযরত জয়নুল আবেদীন হযরত ইমাম হোছাইনের নাম পর্যন্ত বলে খুতবা শেষ করে দেন। আহলে বায়াতের এই কুরবানী হযরত ইব্রাহিম ও ইসমাইল হতে উত্তারাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। একমাত্র আহলে বায়াতের পক্ষেই এই কুরবানী কুরবানী নেয়া ও দেয়া সম্ভব। তিনি আরো উল্লেখ করেন, সবাইকে শোহাদায়ে কারবালার সে মহান আত্মত্যাগের শিক্ষা সমাজের সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ইয়াজিদের অপচেষ্টাকে ধূলিসাৎ করে দেয়ার অনুরোধ জানান। বক্তাগণ সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, শাহাদাতে কারবালা দিবস-ই-মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস। তাঁরা উল্লেখ করেন, সমগ্র মানবতার জন্য বস্তুবাদী আঁধার বিনাশ ও স্বৈরাচারী জুলুম দাসত্ব থেকে মুক্তি সাধনায় কারবালার শাহাদাতই সর্বকালের সর্বোচ্চ শাহাদাত ও দিক নির্দেশনা। বক্তাগণ বদর, ওহোদ কারবালার চিরন্তন শিক্ষা চেতনায় ভাষা-গোত্র-রাষ্ট্র-লিঙ্গ-পেশা বর্ণ ইত্যাদি ভিত্তিক নাস্তিক্য-উদ্ভূত বস্তুবাদী জীবন চেতনার আঁধার হিংসা সাম্প্রদায়িকতা নিপীড়নের কবল থেকে মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে রেসালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক জীবন চেতনার চির সত্যের অলোকধারায় অগ্রযাত্রার মহা সংগ্রামে জাতীয় শহীদ দিবস পালনের আহবান জানান।
তাঁরা বলেন, শাহাদাতে কারবালার সংগ্রাম ছিল মুসলিম ছদ্মবেশী আইয়ামে জাহেলিয়াতের মিথ্যা-অবিচার জুলুম-শোষণের বিরুদ্ধে বদর ওহোদের সত্য সুবিচার মানবতা অধিকারের অভিন্ন সংগ্রাম। তাঁরা বলেন, বর্তমানেও ঘৃণ্য এজিদবাদের ধারায় পবিত্র আরব ভূমিতে আইয়ামে জাহেলিয়াতের গোত্রবাদী স্বৈরতান্ত্রিক নিষ্পেষণে মুসলিম জাতিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ইসলামের ছদ্মবেশে জঙ্গিবাদী বিভিন্ন স্বার্থন্বেষী মহল শাহাদাতে কারবালার শিক্ষার বিপরীতে ইসলামের নামে প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে বক্তাগণ সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন।
বক্তাগণ সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এজিদবাদীরা সত্য শান্তি ও মানবতার ইসলামকে বিলুপ্ত করে দ্বীন প্রদত্ত স্বাধীনতা, অধিকার হরণ ও জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা প্রগতি নস্যাৎ করে প্রকৃত ইসলাম ও সভ্যতা ধ্বংসের অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। সমাবেশে বক্তাগণ সকল প্রকার এজিদবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, এজিদবাদী চক্রের কারণেই সত্য ও মানবতার শত্রুগণ দুনিয়াব্যাপী হত্যা অবরোধ নিপীড়ন সন্ত্রাস চালিয়ে সর্বত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে মানব জীবন দুর্বিষহ বিপন্ন করে তুলেছে।
বক্তাগণ মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা চেতনায় অটল হয়ে বস্তুবাদী মতবাদ ও তদভিত্তিক স্বৈর রাষ্ট্র ব্যাবস্থার বিপরীতে সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে বিশ্বাস আদর্শ নির্বিশেষে সকল মানুষের স্বাধীনতা অধিকার ও কল্যাণের ধারক দ্বীনী মূল্যবোধ ভিত্তিক সার্বজনীন গণতান্ত্রিক সমাজ রাষ্ট্র বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তাঁরা বলেন, শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা চেতনা বিশ্বাস আদর্শ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য অপশক্তির কবল থেকে অস্তিত্ব রক্ষার চিরন্তন প্রেরণা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: