‘আমানতের ওপর আবগারী শুল্ক বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর সমালোচনা’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ জুন ২০১৭, রবিবার: প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অভিন্ন কণ্ঠে ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারী শুল্ক বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর সমালোচনা করেছেন। তাঁরা অবিলম্বে এ দুটি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, লাখপতির ওপর নয়, কোটিপতির ওপর করের বোঝা বাড়ান।
মাত্র এ দুটি সিদ্ধান্তের কারণে সরকারের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে, জনমুখী বিশাল বাজেটকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আজ রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের মুহিবুর রহমান মানিক, সুবিদ আলী ভূঁইয়া, এ কে এম ফজলুল হক, ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, অনুপম শাজাহান জয়, কবি কাজী রোজী, মকবুল হোসেন, নুর জাহান মুক্তা, এম এ মালেক, ফিরোজা বেগম চিনু, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির শওকত আলী।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ব্যাংক আমানতের ওপর আরেপিত শুল্কহার হ্রাসের দাবি জানিয়ে বলেন, জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি ক্ষমতায় আসতে সহায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু তাদের ক্ষমতায় আনতে লতিফুর মার্কা কোনো সহায়ক সরকার আর কোনো দিন আসবে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধিনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।  
জাতীয় পার্টির শওকত চৌধুরী বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতা অনেক পিচ্ছিল জিনিস। যে কোনো সময় পিছলিয়ে যেতে পারে। বেশি আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোন অবকাশ নেই। এই বাজেটের ফলে চালসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। চালের ভরা মৌসুমেও দাম দ্বিগুণ। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিতে হবে। ব্যাংকে আবগারী শুল্ক বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ফলে ঢাকা শহরের ৯০ ভাগ মানুষ আমাদের বিপক্ষে চলে গেছে। রংপুর বিভাগকে বাজেটে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা চরম বৈষম্য। অথচ রংপুর বিভাগেই ৩০টি আসনই সরকারের সম্ভাবনাময়।
তিনি বলেন, মন্ত্রীরা আশ্বাস দিলেও টাকা দেন না। এলাকার জনগণ মনে করে মন্ত্রীরা টাকা দিচ্ছেন, আমরা মেরে খাচ্ছি। এসব তামাশা করা ঠিক নয়। সংসদ তামাশার জায়গা নয়। মন্ত্রীদের মনে রাখতে হবে তাঁরাও এমপি, আমরাও এমপি। শুধু মন্ত্রীরা নির্বাচনে পাস করলেই সরকার গঠন হবে না। জাতীয় পার্টি কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে বেঈমানী করেনি। তাই অবহেলা করবেন না।
প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনমুখী ও কল্যাণকর’ উল্লেখ করে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব,) সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জনগণকে শুধু স্বপ্ন দেখান না, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে। বাজেট বাস্তবায়ন তারই বড় প্রমাণ। শত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন করছেন।
তিনি দাউদকান্দিকে জেলা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে দুর্নীতি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ঋণ অবলোপনের চেয়ে ঋণ আদায়েই ব্যাংকারদের সচেষ্ট হতে হবে।
ব্যাংক আমানতের ওপর শুল্কহার বৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং সঞ্চয়পত্রের সুদের হার হ্রাসের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। এটা দেখে জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি পরাজয় নিশ্চিত জেনেই সহায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখছে। তাদের এই স্বপ্ন কোনদিনই বাস্তবায়িত হবে না।
সরকারি দলের নুর জাহান মুক্তাও ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারী শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, লাখপতিদের থেকে কর না নিয়ে কোটিপতিদের কাছ থেকে অধিক হারে কর আদায় করলে সরকারের রাজস্ব আদায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরো বলেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের ভিশন চুরি করে হাস্যকর ভিশন দিয়েছেন। এসব করে তাঁরা আর কখনোই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।
সরকারি দলের ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, বিএনপি এখন ডেডহর্স। অতীত অগ্নিসংযোগ ও কৃতকর্মের কারণে তারা সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন। এই ডেডহর্স নিয়ে বেশি খোঁচাখুচি করলে বরং গন্ধই বেরুবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: