আমাদের জাতীয় পতাকায় শুধু সবুজ রঙ নয়, সাদাও রয়েছে: পাকিস্তান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ এপ্রিল ২০১৯ ইংরেজী, শুক্রবার: পাকিস্তানের আলোচিত সেই দুই কিশোরী বোন স্বেচ্ছায় মুসলমান হয়েছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া ওই ঘোষণায় হাইকোর্ট জানান, সিন্ধু প্রদেশের ওই ঘটনায় ইসলাম গ্রহণ করতে তাদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়, রাভিনা (১৩) ও রিনা (১৫) গত মাসের ২৫ তারিখে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে একটি অভিযোগ দায়ের করে। তাতে বলা হয়, পুলিশ তাদেরকে হয়রানি করছে। এ সময় তারা জানায়, তারা পুরোপুরি নিজের ইচ্ছাতেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। আদালত বলেন, তারা যথেষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক, তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং তাদের কোনো প্রকার জোর করা হয়নি। এ সময় আদালত তাদেরকে তাদের স্বামীর সাথে থাকারও অনুমতি দেয়। পাকিস্তানের দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের দুই কিশোরী বোন ২০ মার্চ পাঞ্জাব প্রদেশে পরিবারের অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করেন। এরপর তাদের পরিবার অপহরণ ও ডাকাতি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ১০ জনকে আটক করে। বিষয়টি আরো আলোচনায় আসে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দুই বোনের বাবা ও ভাই দাবি করছে, রাভিনা ও রিনাকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে গ্রহণ করানো হয়েছে। তবে অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, দুই বোন বলছেন, তারা দুজন মুসলিমকে বিয়ে করেছেন এবং তারা স্বেচ্ছায় মুসলিম হয়েছেন। এ অবস্থায় ইসলামাবাদের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আতহার মাইনুল্লাহ বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। এ কমিটির শুনানির পর আদালত এই দুই বোনকে নিজ জিম্মায় নিতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় প্রতিবেশী হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। দেশটি এ ব্যাপারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের উদ্বেগের বিষয়টি জানায়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও এ ব্যাপারে টুইটারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের এক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করায় পাকিস্তান প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের নেতারা। তারা বলেন, পাকিস্তান দারুণ একটি কাজ করেছে। অথচ আমাদের দেশে কেউ মুসলিমদের বিরুদ্ধে কথা বললে প্রতিবাদও হয় না।
পিটিআই নেতা ও পঞ্জাব প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ফয়জুল হাসান চৌহান একদিন আগে পাক ভারত উত্তেজনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, তিনি সাম্প্রতিক ভারত পাকিস্তান উত্তেজনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে ‘গোমূত্র পানকারী’ বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে পাকিস্তানে। এরপর কেন্দ্রিয় সরকার ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে।
ফয়জুলকে এ ভাবে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের দুই নেতা, পিডিপি-র মেহবুবা মুফতি এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লাহ। মেহবুবা টুইট করেন, ‘খুবই আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন ওই পাকিস্তানি মন্ত্রী। তাই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে তো কেউ যত সাম্প্রদায়িক কথা বলবে, যত মুসলিম-বিদ্বেষ দেখাবে, ততই সে প্রশংসা পাবে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ টুইটারে লিখেছেন, ‘হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য করার জন্য পাকিস্তানি মন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হল। কিন্তু ভারতে এক রাজ্যপাল কাশ্মিরিদের বয়কটের ডাক দিলে তাকে কেউ ভর্ৎসনাও করে না। আমরা সব সময়ে নিজেদের পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করি। কিন্তু এই বিষয়টিও ভাবা দরকার।’
দলের নেতার এই মন্তব্য নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরাসরি মুখ না খুললেও, তার বিশেষ সহযোগী নইমুল হক বলেছেন, ‘সরকার এই ধরনের নির্বুদ্ধিতা সহ্য করবে না।’ পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও টুইট করেছিলেন তিনি। টুইটারে হকের সঙ্গে গলা মেলান পাক মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারি এবং অর্থমন্ত্রী আসাদ উমরও। উমর বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পতাকায় শুধু সবুজ রঙ নয়, সাদাও রয়েছে। এই সাদা রংটা সংখ্যালঘুদের কথা মাথায় রেখে। হিন্দুদের ছাড়া আমরা অসম্পূর্ণ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*