আবদুল মোবারকদের সচিব করা হচ্ছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চাকরি থেকে অবসরেgovern গেছেন প্রায় ১০ বছর আগে। চাকরির বয়স শেষে স্বাভাবিক নিয়মেই অবসর শুরু করেছেন। পেনশনসহ অবসরোত্তর সকল সুযোগ সুবিধা ভোগও করেছেন। কিন্তু, এখন তারা ভুতাপেক্ষভাবে অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি পেতে চান। সরকারের দুর্বলতার সুযোগে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে একতরফাভাবে এই মর্মে রায়ও এনেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন ভুতাপেক্ষভাবে তাদেরকে অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার জন্য। এদের সংখ্যা ৭ জন। বর্তমানের প্রভাবশালী নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারকও এদের মধ্যে রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি) তাদের পদোন্নতির প্রস্তাব উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জানা গেছে, এই ৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং বাকি ৬ জন যুগ্মসচিব পদে থাকাকালে চাকরির বয়স শেষে অবসরে গেছেন। মোহাম্মদ আবদুল মোবারক (২৪২৩), মো. আবদুল মালেক মিয়া (৩০৫০), খন্দকার মো. আবু আবদুল্লাহ (২৮৩২), মো. তোফাজ্জল হোসেন (১৩২০), মো. আক্কাস আলী মৃধা (২৮৪১) এবং এম অবিদুর রহমান (১২৬২) যুগ্মসচিব পদে থাকাকালে অবসরে গেছেন। হাসান মাহমুদ দেলওয়ার (১৩৪৭) অতিরিক্ত সচিব পদে থাকাকালে চাকরির বয়স শেষে স্বাভাবিক অবসর শুরু করেন। চাকরিতে থাকাকালে বা চাকরি থেকে অবসরে যাবার পরও এরা তাদের পদোন্নতি না পাওয়া প্রসঙ্গে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা অসন্তোষ তুলে ধরেননি। বরং স্বাভাবিক অবসরকাল শুরু করেন এবং অবসরকালীন সকল সুযোগ-সুবিধাও যথাসময়ে গ্রহণ করেন। কিন্তু, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সময়ে এরা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন, পদোন্নতি বঞ্চিত হিসেবে। মোহাম্মদ আবদুল মোবারক মামলা করেন ২০০৯ সালে, মামলা নম্বর ২০৫। অথচ চাকরির বয়স শেষে আবদুল মোবারকের অবসর শুরু হয় ২০০৫ সালে। অন্যরাও প্রায় সকলের অবসর শুরু হয় বিএনপি আমলেই। কিন্তু, মো. আবদুল মালেক মিয়া মামলা করেন ২০০৯ সালে, মামলা নম্বর ১৯৭। খন্দকার মো. আবু আবদুল্লাহ মামলা করেন ২০১১ সালে, মামলা নম্বর ৫১। মো. তোফাজ্জল হোসেনের মামলা নম্বর ১৯৪/২০০৯। মো. আক্কাস আলী মৃধার ৫২/২০১১, এম অবিদুর রহমানের ১৯৮/২০০৯ এবং হাসান মাহমুদ দেলোয়ারের ১৯৬/২০০৯। এরা সবাই ০১/১২/২০০১ সালে অতিরিক্ত সচিব এবং ২৯/০৩/২০০৩ সাল থেকে সচিব পদ দাবি করেছেন। ওই দু’টি পদে পদোন্নতি এবং এর সঙ্গে সার্বিক সুযোগ-সুবিধা ভুতাপেক্ষভাবে দাবি করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে এসএসবিতে প্রস্তাবও উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। সূত্র জানায়, এই ৭টি মামলা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-২ এর অধীনে দায়ের করা হয়েছিলো। কিন্তু, সরকার পক্ষ থেকে কোনো রকমের জবাব বা শুনানিতে অংশ না নেয়ায় এই কর্মকর্তারা ট্রাইব্যুনাল থেকে একতরফা রায় আনতে সক্ষম হন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলায় সরকার হেরে গেলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করার কথা। এটি এক রকমের বাধ্যতামূলক নিয়মও বটে। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সরকারের তরফ থেকে কোনো আপিল করা হয়নি। যা অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক। এসব বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আদালতে মামলা হয়েছে, মামলার রায় হয়েছে, অথচ আমরা কিছুই জানতাম না। কেন আপনারা যথাসময়ে জানতে পারেননি, এরজন্য কে দায়ী, খতিয়ে দেখেছেন কি- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসএসবিতে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বোর্ডই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। চাকরিতে থাকাকালে অথবা চাকরি থেকে অবসরে যাবার সময়ও এরা কখনো নিজেদেরকে বঞ্চিত বলে দাবি করেননি, পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে তারা এই দাবি করছেন- এই ধারা চালু হলে এখন যারা পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছেন সবাই ভবিষ্যতে কোনো এক সময় সচিব পদ দাবি করবেন, তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে? এ প্রশ্নের জবাবেও জনপ্রশাসন সচিব বলেন, আমি একা এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। এসএসবি সিদ্ধান্ত নেবে, কী করা উচিত। সূত্র : শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*