আপেল খেতে হবে বীজ সমেত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ আগস্ট ২০১৯ইং, মঙ্গলবার: একটি কথা প্রচলিত রয়েছে, ‘অ্যান অ্যাপল আ ডে, কিপ্স দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে।’ অর্থাৎ আপেলের মধ্যে এমন গুণাবলি রয়েছে, যা কি না যেকোনো রোগব্যাধি থেকে আপনাকে দূরে রাখবে। চিকিৎসকরাও তাই উপদেশ দিয়ে থাকেন, পারলে দিনে অন্তত একটি করে আপেল খাবেন। কিন্তু যদি জানতে পারেন, এক আপেলে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকে!


শুনতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি একটি গবেষণায় এরকমই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফ্রন্টিয়ারস নামে মাইক্রোবায়োলজির একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, অর্গানিক পদ্ধতিতে অর্থাৎ জৈব উপায়ে যে সমস্ত আপেলের চাষ হয়, সে সব ক্ষেত্রে আপেলের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র অনেক বেশি। আর তার মধ্যে অধিকাংশই মানবশরীরের জন্য উপকারী। ফলে আপেলের গুণগত মান এবং স্বাদ, দুই–ই উৎকৃষ্টতর হয়। এছাড়া, জৈব পদ্ধতিতে চাষ সবসময়ই পরিবেশবান্ধব।
অস্ট্রিয়ার গ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্যাবরিয়েল বার্জ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক এবং ভাইরাস আমাদের দেহের দখল নিয়ে নেয়। রান্না করা খাবার খেলে সে সব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া সব মরে যায়। যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরের জন্য ভালো, সেগুলোও মরে যায়।’
সাধারণত ২৪০ গ্রাম একটি আপেলের মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ব্যাক্টেরিয়া থাকে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই থাকে আপেলের বীজে। অর্থাৎ বীজ ফেলে আপেল খেলে মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ ব্যাকটেরিয়া যাচ্ছে আপনার শরীরে। জৈব উপায়ে চাষ করা আপেলে ব্যাক্টেরিয়ার বৈচিত্র্য অনেক বেশি থাকে। যে আপেলে রাসায়নিক সার, কীটনাশক নেই, সে আপেলে ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক এবং ভাইরাসের বৈচিত্র এবং পরিমাণ, দুই–ই বেশি। ফলে আমাদের কাছে এ ধরনের আপেলের উপকারিতাও বেশি। কিন্তু আপেল খেতে হবে বীজ সমেত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*