আপটার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারী ২০১৭, শুক্রবার: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এশিয়া-প্যাসিফিক প্রিফারেন্সসিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (আপটা) ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বলেছেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিজ-নিজ দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ানো হলে আপটাভুক্ত দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক বাড়বে।
‘আপটার’ চতুর্থ রাইন্ড নেগোসিয়েশনের আওতায় শুল্ক সুবিধা প্রাপ্ত পণ্যের সংখ্যা চার হাজার ৬৪৮ থেকে ১০ হাজার ৬৭৭টিতে উন্নীত হবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এতে আপটাভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্য সহযোগিতা যেমন বাড়বে তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও সহায়ক হবে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানি আয় বহুগুণ বাড়বে।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘আপটার চতুর্থ মিনিস্টেরিয়াল কাউন্সিল’ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানা যায়।
এতে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ এ সভায় বলেন, আপটার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে পণ্য বাণিজ্যে শুল্ক সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি সেবাখাত, বিনিয়োগ এবং ট্রেড ফেসিলিটেশন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন। ২০০৯ সালে এটি স্বাক্ষরিত হয়। মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘রুপকল্প-২০২১’ অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা ও যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের জিডিপি অর্জনের হার ৭ দশমিক ১১ শতাংসে উন্নীত হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন শক্ত ভিতের ওপর রয়েছে।

আপটার চতুর্থ রাইন্ড নেগোসিয়েমনের আওতায় বাংলাদেশ ৫৯৮টি পণ্যে ১০ থেকে ৭০% এবং এলডিসিভুক্ত দেশের জন্য আরও চারটি পণ্যে ২০ থেকে ৫০%, চীন ২,১৯১ টি পণ্যে ৫ থেকে ১০০% এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য আরও ১৮১টি পণ্যে ০ থেকে ১২.৫%, ভারত তিন হাজার ৩৩৪টি পণ্যে ৫ থেকে ১০০% এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ১৪ থেকে ১০০%, দক্ষিণ কোরিয়া দুই হাজার ৭৯৬টি পণ্যে ১০ থেকে ৫০% এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ৯৬১টি পণ্যে ২০ থেকে ১০০%, শ্রীলংকা ৫৮৫টি পণ্যে ৫ থেকে ৬২.৫% এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ৭৫টি পণ্যে ১০ থেকে ৫০%, লাওস ৯৯৯টি পণ্যে ২০ থেকে ৩৭.৫%, এবং মঙ্গোলিয়া ৩৩৩টি পণ্যে ১০ থেকে ৩০% শুল্ক ছাড় দিবে। (আপটা সদস্য হিসেবে মঙ্গোলিয়ার অন্তর্ভুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে)। এর ফলে বাংলাদেশ সর্বাধিক বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করার সুযোগ পাবে।
বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, ১৯৭৫ সালে এশিয়া প্যানপ্যাসিফিক অঞ্চলের সর্বপ্রথম প্রাধিকারযোগ্য বা প্রিফেনশিয়াল বাণিজ্য চুক্তি (ব্যাংকক এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যাংকক এগ্রিমেন্ট পুনঃগঠন করে আপটা স্বাক্ষরিত হয়। আপটা মিনিস্টেরিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে শুল্ক সুবিধাসহ চতুর্থ রাউন্ড নেগোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। চতুর্থ মিনিস্টেরিয়াল কাউন্সিল সভায় বিগত প্রায় সাত বছর নেগোসিয়েমনের পর সমঝোতা স্বাক্ষর হয়। সভার সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আপটার সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অভিনন্দন জানান।
সভায় শ্রীলংকার বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী রিশাদ বাথিউডেন, লাওসের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খিম্মানি ফলসিনা দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থপ্রতিমন্ত্রী সেং মোক চোই , চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে থাইল্যান্ডে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নিং ফুকুই ,ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে থাইল্যান্ডে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভাগওয়ান্ট সিংবিশনই এবং মঙ্গোলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে থাইল্যান্ডে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টুগসবিলগুন তুমুর্কহুলেজ নিজ-নিজ দেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। এই কাউন্সিলে আপটার টেরিফ কনসেশন, নন-টেরিফ মেজার্স ও রুলস অফ অরিজিন সংক্রান্ত ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: