আন্দোলন দমনে অবশেষে নির্বাচনী কৌশল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : প্রাণান্তকর চেষ্টা ও বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ ব্যর্থ হবারdccc পর বিরোধীদলের লাগাতার আন্দোলন দমনে অবশেষে সরকার নির্বাচনী কৌশল হাতে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা সিটি নির্বাচন এবং এরপর চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকেও প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নির্বাচনী হাওয়া শুরু হয়ে গেলে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীরাও এতে এসে যোগ দেবেন। তাতে আন্দোলনের তীব্রতা কমে আসবে এবং এক পর্যায়ে আন্দোলন মাঠে মারা যাবে। দীর্ঘ কয়েক বছরেও যেখানে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সীমানা নির্ধারণ করা যাচ্ছিলো না, সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মাত্র এক দিনেই, মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই সীমানা চূড়ান্ত সংক্রান্ত গেজেট ছাপা হয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ মুহূর্তে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের উদ্যোগকে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিএনপির তরফে একে আন্দোলন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা একে তেমন একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাদের মতে, আন্দোলন এখন যৌক্তিক পরিণতির দিকে অগ্রসর হওয়ার পর্যায়ে। সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের দিকে তাকিয়ে আছে। এই সময়ে সরকারের কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। যদিও সরকারের নীতিনির্ধারকরা তাদের এই কৌশল আন্দোলন দমনে কাজ দেবে বলে বেশ আশাবাদী। তারা মনে করছেন, এর প্রভাব পড়বে বিএনপি-জামায়াতের লাগাতার আন্দোলনের ওপর। নির্বাচন জমে উঠলে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ভাটা পড়বে। এ অবস্থা ধরে রাখার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষে ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ কৌশলের অংশ হিসেবেই সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিসিসি উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডিসিসির সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি করে গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অথচ, সীমানা বিরোধের কারণেই ইতিপূর্বে তিন দফা উদ্যোগ নিয়েও ডিসিসি নির্বাচন করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তবে সরকারেরই একটি অংশ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন বলে জানা গেছে। তারা মনে করছেন, এই কৌশল কোনো কাজে আসবে না। বরং হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে সরকারের দুর্বলতাই প্রকাশ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন বার্তা পৌঁছুবে যে, সরকার আন্দোলন দমন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাহলে কী সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে, এমন প্রশ্নও দেখা দেবে অনেকের মধ্যে। এতে বিরোধীদল আন্দোলন চাঙ্গা করার কাজে আরো উৎসাহী হবে। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

%d bloggers like this: